“নামহীন বীরত্বের দল: বন্যার জলে জীবন বাঁচানো সেই FFRT-এর গল্প”
প্রকাশের সময় :
০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
১৯২
পড়া হয়েছে
“নামহীন বীরত্বের দল: বন্যার জলে জীবন বাঁচানো সেই FFRT-এর গল্প”
মাজহারুল ইসলাম অন্তর, ফেনী প্রতিনিধি: গত বছরের আগস্টে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞা এবং ফেনী সদর—এই পাঁচটি উপজেলার মানুষ ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল। তখন শহরের আলো নিভে গিয়েছিল, বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন ছিল দিনের পর দিন। চারদিক থেকে ভেসে আসছিলো শুধু পানির গর্জন আর অসহায় মানুষের আর্তনাদ। ঠিক তখনই বিভিন্ন সংগঠনের বিভিন্ন ধাঁচের একদল তরুণ মিলে গড়ে তোলে Feni Flood Response Team (FFRT)—মানবতার পতাকা উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিল বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে। FFRT কোনো এনজিও নয়, কোনো রাজনৈতিক ছায়ায় জন্ম নেয়নি। তাদের ছিল না বাহারি ব্যানার, ছিল না মিডিয়া লাইভ কিংবা পোস্টার। ছিল কেবল মানুষের জন্য ভালবাসা আর নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার সাহস। নিজের ঘর ভাসিয়ে, অন্যের ঘরে আলো ২৩ আগষ্ট আসতে আসতে প্রায় অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবকরা জেলাজুড়ে রেসকিউতে ব্যস্ত , নিজের ঘরের খোজ খবর নেই, নেই কারো সাথে যোগাযোগ। সবাই মিলে দিন রাত এক করছিল ফেনীর মিজান রোডস্থ শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে। এর মধ্যেই তাদের নিজেদের ঘর বাড়ি বাসাও পানির নিচে চলে যায়। একজন স্বেচ্ছাসেবক রহমতুল্লাহ বিন আহসান যার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আটকে ছিল ফুলগাজীর একটা গ্রামে যেখানে বন্যার ভয়াবহতা ছিল স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ । পরিবারের সাথে নেই কোনো যোগাযোগ, এরপরও আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে লেগে থাকে মানুষের কল্যাণে । তারা কেও থেমে থাকে নি। কোমরে দড়ি বেঁধে, বন্যার ঢেউ ঠেলে, প্রতিটি গ্রামে গিয়ে পরিচালনা করেছে রেসকিউ অভিযান। পৌঁছে দিয়েছে খাবার, ওষুধ, দুধ, স্যালাইন, রান্না করা খাবার। ছোট নৌকা ,স্পীডবোট নিয়ে তারা ফুলগাজীর প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে শিশুর কান্না থামিয়েছে, বয়স্ক মানুষের মুখে তুলে দিয়েছে খাবার। সেসব মুহূর্তে তারা জানত না—ক্যামেরা নেই, সংবাদমাধ্যম নেই, শুধু তারা আর মানবিকতা। এরপর প্রায় একমাস চলে তাদের ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম। ফেনী জেলার প্রতিটি কর্নারে তারা পৌঁছে ছিল সেটা হোক স্পিডবোটে হোক বড় পাওয়ার ট্রলারে অথবা পানি শেষ হওয়ার পর সিএনজি তে। লাখো মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়েছে প্রায় এক মাস। আজ এই মাধ্যম অথবা কাল ওই মাধ্যম দৌড়েছে সর্বদিকে। কোনোদিন ভাগ হয়ে ৩ টা দলেও কাজ করেছে কোনোদিন একটা দলে। তাদের লক্ষ্যে ছিল সেবা পৌঁছানো এবং সেটা প্রায় পরবর্তী তিন মাস ধরে চলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রায় ২০ দিনের মধ্যে চলেছিল শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টার এবং হাজারী রোডস্থ ডিএম কমিউনিটি সেন্টারে। এত ত্যাগ এত অর্জন কিন্তু এই ২৪ শের সাইলেন্ট হিরোরা থেকে গেল সবার অগোচরে। *সহযোগিতা এসেছিল নিরবে* FFRT-এর সাহসিক অভিযানে ছায়ার মতো পাশে ছিল কিছু স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠন। যেমন: প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন আমরাই আগামী গিভ বাংলাদেশ ইকো রেভুলেশন ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাব ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইকরাম উদ্দিন আবির বলেন: “এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে FFRT-এর তরুণদের সাহসিকতা, কর্মদক্ষতা এবং নিষ্ঠা দেখে আমরা আবেগাপ্লুত হই। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা যেভাবে দ্রুত রেসপন্স করেছে, তা এককথায় অসাধারণ। ২০২৪ সালের বন্যায় আমাদের যেই নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ২০২৫ সালের বন্যায় আমরা খুব দ্রুত মানুষদের রেস্কিউ করে খাবার পৌছে দিতে পেরেছি। FFRT-এর মুখ্য সংগঠক এস জেড অপু বলেন: “আমরা প্রচার নয়, প্রার্থনা চাইতাম। মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই আশায় কাজ করতাম। কেউ জানুক না জানুক, কাজ থেমে থাকেনি।” আমরাই আগামী-এর সদস্য নবিন ফাহাদ জানান: “আমরাই আগামীর শুরু থেকে এখন অবধি কখনো ভাইরাল/নিউজ কাভারেজ এর উদ্দেশ্যে কাজ করেনি।আমরা চেস্টা করেছি যখন যেখানে মানুষের প্রয়োজন সেখানে পৌছে যাওয়ার” একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক মাজহার অন্তু জানান, "আমার মনে হয় না ফেনীর ২৪ শের বন্যায় এই টিমের চাইতে বেশি কারো বিচরণ ছিল, এ টু জেড পুরো বন্যায় আমি সম্পূর্ণ একটিভ ছিলাম। আমার বলতে দ্বিধা নাই যে, ২৪ শের বন্যায় যদি কোনো টিম সর্বাধিক বাহ্ বাহ্ পাওয়ার প্রাপ্য সেটা FFRT এর। কি স্পিড, কি উদ্যোম সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা, আমরা যারা চাক্ষুষ সাক্ষী তারাই বলতে পারবো।" একটি স্থানীয় কণ্ঠ—আবেগ ছুঁয়ে যাওয়া কিছু মুহূর্ত ফুলগাজীর এক প্রবীণ বলেন, “দুইদিন কিচ্ছু খাইনি। মেয়েরা কাঁদছিল। তখন একদল ছেলে আইল, কোনো কথা না কইয়া খাবার দিল। শুধু বলল, ‘ভয় পাইয়েন না, আমরা আছি।’ আমার চোখে পানি আইসা গেছিল।” ২০২৫: রেসকিউ না, পুনর্বাসন ও প্রস্তুতির বছর চলতি বছরের বন্যা তুলনামূলক কম হলেও FFRT থেমে থাকেনি। তারা এবার কাজ করেছে পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে। ছিটকে পড়া মানুষদের মাঝে খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেয় তারা। বিশেষ করে রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য ও নারীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণে তারা নেটওয়ার্ক তৈরি করে। *২০২৫ সালের সহায়তা চিত্র (সারাংশ):* ✅ উদ্ধারকৃত পরিবার: ১০৩০+ ✅ ত্রাণ বিতরণ এলাকা: ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সদর ✅ শুকনা খাবার বিতরণ: ৫৫০ পরিবার (তালবাড়িয়া, ধর্মপুর, গোসাইপুর, উত্তর সতর) ✅ রান্না করা খাবার: সাতকুচিয়া গ্রামে ২৫০ জন ✅ ভারী খাদ্য সহায়তা: ২৩০ পরিবার (ইজ্জতপুর, নিচিন্তা, উত্তর-দক্ষিণ সতর) *FFRT-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা* * বন্যা পূর্বাভাস ও প্রস্তুতি প্রজেক্ট: স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে বন্যা আশঙ্কা থাকলে আগেভাগে লজিস্টিক ও রেসপন্স প্ল্যান তৈরি। টেকসই বাধ বিনির্মাণে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলা এবং অনুরোধ করা * সুইমিং ও সেফটি ট্রেনিং ক্যাম্প: শিশু-কিশোরদের জন্য ফ্রি প্রশিক্ষণ যাতে তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজের ও অন্যের জীবন রক্ষা করতে পারে। * স্বেচ্ছাসেবী ডাটাবেইস ও রেসপন্স মডিউল: ফেনী জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩ জন করে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন। * মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা শিবির: বন্যা-পরবর্তী মানসিক ট্রমা মোকাবিলায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলর নিয়ে ভ্রাম্যমাণ শিবির। * মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইন চালু: দুর্যোগে দ্রুত হেল্প সিস্টেম ও লোকেশন-ভিত্তিক সাপোর্ট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষ কথায়—একটি নামহীন বীরত্ব FFRT এর এই নিরব বীরত্ব ফেনীর মানুষের মনে আজীবনের জন্য জায়গা করে নিয়েছে। একদিন তারা হয়তো ইতিহাসে জায়গা পাবে না, কিন্তু দুর্যোগের রাতে কারা পাশে ছিল—তা জানে শুধু বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো। “জীবনের অনেক গল্প থাকে, কিন্তু কিছু গল্প জীবন বাঁচায়। FFRT তেমনই একটি গল্প।”
মাজহারুল ইসলাম অন্তর, ফেনী প্রতিনিধি:
গত বছরের আগস্টে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞা এবং ফেনী সদর—এই পাঁচটি উপজেলার মানুষ ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল। তখন শহরের আলো নিভে গিয়েছিল, বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন ছিল দিনের পর দিন। চারদিক থেকে ভেসে আসছিলো শুধু পানির গর্জন আর অসহায় মানুষের আর্তনাদ। ঠিক তখনই বিভিন্ন সংগঠনের বিভিন্ন ধাঁচের একদল তরুণ মিলে গড়ে তোলে Feni Flood Response Team (FFRT)—মানবতার পতাকা উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিল বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে।
FFRT কোনো এনজিও নয়, কোনো রাজনৈতিক ছায়ায় জন্ম নেয়নি। তাদের ছিল না বাহারি ব্যানার, ছিল না মিডিয়া লাইভ কিংবা পোস্টার। ছিল কেবল মানুষের জন্য ভালবাসা আর নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার সাহস।
নিজের ঘর ভাসিয়ে, অন্যের ঘরে আলো
২৩ আগষ্ট আসতে আসতে প্রায় অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবকরা জেলাজুড়ে রেসকিউতে ব্যস্ত , নিজের ঘরের খোজ খবর নেই, নেই কারো সাথে যোগাযোগ। সবাই মিলে দিন রাত এক করছিল ফেনীর মিজান রোডস্থ শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে। এর মধ্যেই তাদের নিজেদের ঘর বাড়ি বাসাও পানির নিচে চলে যায়। একজন স্বেচ্ছাসেবক রহমতুল্লাহ বিন আহসান যার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আটকে ছিল ফুলগাজীর একটা গ্রামে যেখানে বন্যার ভয়াবহতা ছিল স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ । পরিবারের সাথে নেই কোনো যোগাযোগ, এরপরও আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে লেগে থাকে মানুষের কল্যাণে ।
তারা কেও থেমে থাকে নি। কোমরে দড়ি বেঁধে, বন্যার ঢেউ ঠেলে, প্রতিটি গ্রামে গিয়ে পরিচালনা করেছে রেসকিউ অভিযান। পৌঁছে দিয়েছে খাবার, ওষুধ, দুধ, স্যালাইন, রান্না করা খাবার।
ছোট নৌকা ,স্পীডবোট নিয়ে তারা ফুলগাজীর প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে শিশুর কান্না থামিয়েছে, বয়স্ক মানুষের মুখে তুলে দিয়েছে খাবার। সেসব মুহূর্তে তারা জানত না—ক্যামেরা নেই, সংবাদমাধ্যম নেই, শুধু তারা আর মানবিকতা।
এরপর প্রায় একমাস চলে তাদের ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম। ফেনী জেলার প্রতিটি কর্নারে তারা পৌঁছে ছিল সেটা হোক স্পিডবোটে হোক বড় পাওয়ার ট্রলারে অথবা পানি শেষ হওয়ার পর সিএনজি তে। লাখো মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়েছে প্রায় এক মাস। আজ এই মাধ্যম অথবা কাল ওই মাধ্যম দৌড়েছে সর্বদিকে। কোনোদিন ভাগ হয়ে ৩ টা দলেও কাজ করেছে কোনোদিন একটা দলে। তাদের লক্ষ্যে ছিল সেবা পৌঁছানো এবং সেটা প্রায় পরবর্তী তিন মাস ধরে চলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রায় ২০ দিনের মধ্যে চলেছিল শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টার এবং হাজারী রোডস্থ ডিএম কমিউনিটি সেন্টারে। এত ত্যাগ এত অর্জন কিন্তু এই ২৪ শের সাইলেন্ট হিরোরা থেকে গেল সবার অগোচরে।
*সহযোগিতা এসেছিল নিরবে*
FFRT-এর সাহসিক অভিযানে ছায়ার মতো পাশে ছিল কিছু স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠন। যেমন:
প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন
আমরাই আগামী
গিভ বাংলাদেশ
ইকো রেভুলেশন
ফেনী সেন্ট্রাল লিও ক্লাব
ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ
প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইকরাম উদ্দিন আবির বলেন:
“এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে FFRT-এর তরুণদের সাহসিকতা, কর্মদক্ষতা এবং নিষ্ঠা দেখে আমরা আবেগাপ্লুত হই। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা যেভাবে দ্রুত রেসপন্স করেছে, তা এককথায় অসাধারণ। ২০২৪ সালের বন্যায় আমাদের যেই নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ২০২৫ সালের বন্যায় আমরা খুব দ্রুত মানুষদের রেস্কিউ করে খাবার পৌছে দিতে পেরেছি।
FFRT-এর মুখ্য সংগঠক এস জেড অপু বলেন:
“আমরা প্রচার নয়, প্রার্থনা চাইতাম। মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই আশায় কাজ করতাম। কেউ জানুক না জানুক, কাজ থেমে থাকেনি।”
আমরাই আগামী-এর সদস্য নবিন ফাহাদ জানান:
“আমরাই আগামীর শুরু থেকে এখন অবধি কখনো ভাইরাল/নিউজ কাভারেজ এর উদ্দেশ্যে কাজ করেনি।আমরা চেস্টা করেছি যখন যেখানে মানুষের প্রয়োজন সেখানে পৌছে যাওয়ার”
একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক মাজহার অন্তু জানান, “আমার মনে হয় না ফেনীর ২৪ শের বন্যায় এই টিমের চাইতে বেশি কারো বিচরণ ছিল, এ টু জেড পুরো বন্যায় আমি সম্পূর্ণ একটিভ ছিলাম। আমার বলতে দ্বিধা নাই যে, ২৪ শের বন্যায় যদি কোনো টিম সর্বাধিক বাহ্ বাহ্ পাওয়ার প্রাপ্য সেটা FFRT এর। কি স্পিড, কি উদ্যোম সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা, আমরা যারা চাক্ষুষ সাক্ষী তারাই বলতে পারবো।”
একটি স্থানীয় কণ্ঠ—আবেগ ছুঁয়ে যাওয়া কিছু মুহূর্ত
ফুলগাজীর এক প্রবীণ বলেন,
“দুইদিন কিচ্ছু খাইনি। মেয়েরা কাঁদছিল। তখন একদল ছেলে আইল, কোনো কথা না কইয়া খাবার দিল। শুধু বলল, ‘ভয় পাইয়েন না, আমরা আছি।’ আমার চোখে পানি আইসা গেছিল।”
২০২৫: রেসকিউ না, পুনর্বাসন ও প্রস্তুতির বছর
চলতি বছরের বন্যা তুলনামূলক কম হলেও FFRT থেমে থাকেনি। তারা এবার কাজ করেছে পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে। ছিটকে পড়া মানুষদের মাঝে খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেয় তারা। বিশেষ করে রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য ও নারীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণে তারা নেটওয়ার্ক তৈরি করে।
*২০২৫ সালের সহায়তা চিত্র (সারাংশ):*
✅ উদ্ধারকৃত পরিবার: ১০৩০+
✅ ত্রাণ বিতরণ এলাকা: ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সদর
✅ শুকনা খাবার বিতরণ: ৫৫০ পরিবার (তালবাড়িয়া, ধর্মপুর, গোসাইপুর, উত্তর সতর)
✅ রান্না করা খাবার: সাতকুচিয়া গ্রামে ২৫০ জন
✅ ভারী খাদ্য সহায়তা: ২৩০ পরিবার (ইজ্জতপুর, নিচিন্তা, উত্তর-দক্ষিণ সতর)
*FFRT-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা*
* বন্যা পূর্বাভাস ও প্রস্তুতি প্রজেক্ট:
স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে বন্যা আশঙ্কা থাকলে আগেভাগে লজিস্টিক ও রেসপন্স প্ল্যান তৈরি। টেকসই বাধ বিনির্মাণে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলা এবং অনুরোধ করা
* সুইমিং ও সেফটি ট্রেনিং ক্যাম্প:
শিশু-কিশোরদের জন্য ফ্রি প্রশিক্ষণ যাতে তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজের ও অন্যের জীবন রক্ষা করতে পারে।
* স্বেচ্ছাসেবী ডাটাবেইস ও রেসপন্স মডিউল:
ফেনী জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩ জন করে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন।
* মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইন চালু:
দুর্যোগে দ্রুত হেল্প সিস্টেম ও লোকেশন-ভিত্তিক সাপোর্ট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শেষ কথায়—একটি নামহীন বীরত্ব
FFRT এর এই নিরব বীরত্ব ফেনীর মানুষের মনে আজীবনের জন্য জায়গা করে নিয়েছে। একদিন তারা হয়তো ইতিহাসে জায়গা পাবে না, কিন্তু দুর্যোগের রাতে কারা পাশে ছিল—তা জানে শুধু বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো।
“জীবনের অনেক গল্প থাকে, কিন্তু কিছু গল্প জীবন বাঁচায়। FFRT তেমনই একটি গল্প।”