, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আওয়ামী ফ্যাস্টিস্ট মোখলেছুর রহমানের নানা দূর্নীতি

  • প্রকাশের সময় : ০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬২ পড়া হয়েছে

 

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:


 

২০২৪-২০২৫ অর্থ বছর মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমূখী, চিনাবাদাম, পেয়াঁজ, মুসর ও খেসারি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার সরবরাহ সহায়তা প্রদানের জন্য কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরেণের জন্য জেলা কৃষি পূণর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি ২ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিঃ এবং উপজেলাঃ কৃষি পূর্ণবাসন কমিটি ১১ নভেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উল্লেখিত ফসলের আবাদের উপযোগিতা ও বিভিন্ন বছরের উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইউনিয়ন ওয়ারী স্বারক নং- ১২.১৮.৯৩১৯.০৪১.৩৮.০১৩.২৪/৪৫১ চিঠিতে দেখা যায়, অলোয়া ইউনিয়নে বরাদ্দ আছে ১০৭০ জন, নিকরাইল ৭২৫ জন, গোবিন্দাসী ৭৭০ জন, গাবসারা ৮৫৫ জন, অর্জুনা ৯৯৫ জন, ফলদা ১৪১০ জন, পৌরসভা ৮৪৫ জন। সর্বমোট ৬৬৭০ বিভাজন প্রদান করা হয়েছে। সরেজমিনে জানা যায়, নিকরাইল ইউনিয়ন ৭২৫ জন্য বরাদ্ধ থাকলেও সেখানে দু’শ পঞ্চাশ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গম ৫০ জন বরাদ্দের স্থানের ১০ জন কে দিয়েছেন, ভূট্টা ৩০ জনের মধ্যে ১০ জনকে, সরিষা ৬শ জনের মধ্যে দু’শ পঞ্চাশ জনকে, চিনাবাদাম ২০ জনের মধ্যে ১০ জনকে, মসুর ১০ জনের মধ্যে ৫ জনকে, খেসারী ১০ জনের মধ্যে ৫ জনকে। ৪’শ পঁচাত্তর জন প্রান্তিক কৃষক এই ইউনিয়নে সার ও বীজ পায়নি। অলোয়া ইউনিয়নে ১০৭০ জনের বরাদ্দ খাকলেও সেখানে ৪৫০ জনকে বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

অবশিষ্ট ৬২০ জন প্রান্তিক কৃষক সার বীজ পায়নি। গোবিন্দাসী ইউনিয়নে ৭৭০ জনের বরাদ্দ থাকলেও সেখানে ৩’শ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৭০ জন প্রান্তিক কৃষক সার ও বীজ পায়নি। অর্জনা ইউনিয়নে ৯৯৫ জনের বরাদ্দের মধ্যে ৪০০ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৯৫ জন প্রান্তিক কৃষক সার, বীজ পাইনি। গাবসারা ইউনিয়ন ৮৫৫ জন বরাদ্দ সেখানে ৪৫০ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষট ৪০৫ জন প্রান্তিক কৃষক সার, বীজ পায়নি। ফলদা ইউনিয়নে ১৪১০ জন বরাদ্দের মধ্যে ৫০০ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯১০ জন প্রান্তিক কৃষক সার বীজ পায়নি। উপজেলা কৃষি অফিসার উপসহকারী সানজিত হাসানের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের শাসন আমলে সাবেক এমপি ছোট মনিরকে বরাদ্দের ৬০%, মোঃ তাহেরুল ইসলাম তোতাকে ২০% অবশিষ্ট ২০% ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের প্রান্তিক কৃষকদের বিতরণ করতে দিতেন। বরাদ্দের কৃষি ৬০% ও ২০% মালামাল উপজেলা কৃষি উপসহকারী সানিজদি হাসানের মাধ্যমে ডিলারদের কাছে বিক্রি করে টাকা আওয়ামী উক্ত নেতাকে দিতেন। জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি, অফিসে মোট ১৯ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বর্তমানে কর্মরত আছেন। এর মধে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন ৫ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্প্রেয়ার মেকানিক ১ জন গার্ড ১ জন। তারা হলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ শাকিল, মোঃ সানজিত হাসান, মোঃ আলামিন মিয়া, মাসুদুল হক।

 

 

 

 

স্প্রেয়ার মেকানিক খন্দকার কামরুল হাসান ও গার্ড মিজানুর রহমান। নাম প্রকাশে অইচ্ছুক দুই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমানের অর্পিত দায়িত্ব মোতাবেক স্প্রেয়ার মেকানিক খন্দকার কামরুল হাসান প্রণোদনার ও প্রদর্শনীর সকল মালামাল ভূঞাপুর থেকে ক্রয় না করে সে নি¤œমানের কম দামের বীজ মধুপুর থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসে। তার টেবিলের নিচে বিভিন্ন ভাউচারের তৈরী করা বই রয়েছে। কৃষকের মাঠ দিবস, প্রদর্শণীর সার ও বীজের টাকা, কৃষক প্রশিক্ষণের টাকা সামান্য খরচ করে স্প্রেয়ার মেকানিক খন্দকার কামরুল হাসান অবিশিষ্ট টাকা উপজেলা কৃষি অফিসারকে দেন। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের কৃষি প্রণোদনা বিনামূল্যে বীজ ও সার এসেছিল সেই চিঠি ইস্যু করেন উপজেলা কৃষি অফিসার ১১ নভেম্বর ২০২৪ মূলত সকল ইউনিয়নের বিতরণের পর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের হাতে চিঠি দেন। উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, টাঙ্গাইল থেকে কোন বরাদ্দে চিঠি আসলে আগেই আমাদের জানানো হয় না। প্রান্তিক কৃষকদের বিতরণ করার পর আমাদের জানানো হয়। কৃষকদের প্রদর্শনীর সার যদি আসে ইউরিয়া ৩০ কেজি প্রান্তিক কৃষককে দেওয়া হয় ৫ কেজি। ডিএপি ৩০ কেজির স্থলে ৫ কেজি, এমওপি ২০ কেজি স্থলে ৫ কেজি, কীটনাশক প্রান্তিক কৃষক প্রতি যদি আসে ৫০০ টাকা সেখানে দেওয়া হয় একশত টাকা। কৃষকের মাাঠ দিবসের টাকা যদি আসে ২০ হাজার টাকা সেখানে উপসহকারীদর দেওয়া হয় ৪ হাজার টাকা। প্রতি কৃষকদের বীজের জন্য যদি আসে ২ হাজার টাকা সেখানে নি¤œ দামের বীজ ক্রয় করে দেয়া হয় ৩’শ থেকে ৪’শ টাকার। বর্তমান উপজেলা কৃষি অফিসার কতগুলো কৃষি বরাদ্দ আসলো তা চিঠি দেয়া না। সে মৌখিক বলে দেয়। প্রতি ইউনিয়নে যদি আসে ৬’শ সে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দেন ১৫০টি অবশিষ্ট গুলো সে অফিসের পিয়নদের কে দিয়ে অগ্রাধিকার ও ভূয়া মাষ্টার রোল তৈরী করে জমা দেন।

 

অবশিষ্ট বরাদ্দগুলো মোঃ কামরুল হাসান, স্প্রেয়ার মেকানিক মিজানুর রহমান গার্ডসহ ৫ জন উপসহকারী মিলে বিভিন্ন সারের ডিলারের কাছে বিক্রি করে দেন। ১১/১১/২০২৪ ইং তারিখে যে কৃষি প্রণোদনা বরাদ্দ আসছে তা থেকে প্রতি ইউনিয়নের দেয়া হয়েছে গম ফসল আসছে ৬০টি চেয়ারম্যানেদের দেওয়া হয়েছে ২০টি, ভূট্টা ৪০টি সেখানে দেওয়া হয়েছে ১০টি, সরিষা ৭৫০টি সেখানে দেয়া হয়েছে ২৫০টি, চিনাবাদাম ৬০টি দেওয়া হয়েছে ১৫-২০টি। মসুর ৩৫টি দেওয়া হয়েছে ৫টি, খেসারি ৩৫টি দেয়া হয়েছে ৫টি। প্রতিটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানদেরকে তদন্ত করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। অবশিষ্ট কৃষি মালামাল গুলো উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশে স্প্রেয়ার মেকানিক ভূয়া অগ্রাধিকার তালিকা ও মাষ্টার রোল তৈরি করে অফিস শেষে ডিলারদের কাছে বিক্রি করে দেয়। নাম প্রকাশের অইচ্ছুক আরেক উপসহকারী কর্মকর্তা জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসার ভূয়া তৈরী মাষ্টার রোল ও অগ্রাধিকার তালিকায় উপসহকারীদের স্বাক্ষর জোর করে নিয়ে থাকেন।

 

 

 

 

সততা ও নিষ্ঠাবান উপসহাকারীরা তারা কোন কিছু বললে তাদেরকে বদলীর হুমকি দেয়া হয়। জড়িতরা বিকালে অফিস শেষে উপজেলা প্রশিক্ষণ হল রুম ব্যবহৃত গোডাউন থেকে গার্ড মিজানুর রহমানের সহযোগিতা ভ্যান গাড়ী যোগে এই মালামাল বের করে ডিলারের কাছে বিক্রি করে। স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করলে তাদেরকে বলেন, এইগুলো স্থানীয় নেতাদের মালামাল। উপজেলা কৃষি অফিসার স্প্রেয়ার মেকানিক কামরুল হাসান কে অফিসের হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করান অথচ অফিসের হিসাব রক্ষক হচ্ছেন আঃ রাজ্জাক সে পদে থাকার পরেও তাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি অর্পিত দায়িত্বে রয়েছেন উপসহকারী আলামিন মিঞা তিনি তার পরিচিত কৃষক ও দালালদের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের কে দেয়ার নাম করে দালালদের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকেন।

 

সচেতন মহল মনে করেন, সরকার যেখানে ৫০% ভর্তুকী মাধ্যমে ধান কাটার মেশিন, সধান মারাই মেশিন, ধানরোপন ও ভূট্টা মারাই মেশিন, জমি চাষ করার মেশিন বিতরণ করতে দিয়েছেন সেখানে সংশ্লিষ্টরা দালালের মাধ্যমে উত্তোলন করে কোম্পানির কাছ থেকে এবং দালালদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ও বিভাগীয় মামলা হওয়া উচিত। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন, এই সব অভিযোগগুলো ঠিক না। কে বা কারা অভিযোগ করছে আমি তা জানি না। বরাদ্দ যা আছে তাই বিতরণ করা হয়েছে। ভূয়া মাষ্টার রোল তৈরী করে স্বাক্ষরের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ফোনে বলা যাবে না।

 

আপনাকে অফিসে চা পানের দাওয়াত রইল। অলোয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম হাসান মুঠো ফোনে জানান, আমি ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের কৃষি প্রণোদনা বিনামূল্যে সার বীজ সরিষা ৪৫০ জনের পেয়েছি। নিকরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলাম দিলিপ বলেন, আমি ১ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমি আমার দায়িত্বকালে ফোন মালামাল পায়নি। অর্জনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলসাদ মুঠো ফোনে জানান ১১/১১/২০২৪ তারিখে যে বীজ, সার দিয়েছেন তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। সচিবকে জিজ্ঞেস করো পরে জানাবো। গোবিন্দাসী চেয়ারম্যান মুঠো ফোনে জানান, আমি দায়িত্বগ্রহণ করেছি ১৯/১১/২০২৪ ইং তারিখে। সঠিক তথ্য জানি না।

 

ফলদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বপন মুঠো ফোনে জানান, তখন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পলাতক ছিলেন। আমি তৎকালীন দায়িত্বে ছিলাম না। যতটুকু জানি, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিসারের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাদর সাথে সম্বনয় করে কিছু বিতরণ করেছেন।

 

গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাপলা মুঠো ফোনে জানান ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের কৃষি প্রনোদনা বীজ, সারের কথা কত জন পেয়েছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার সঠিক জানা নেই, আমি সচিবের কাছে জেনে আপনাকে জানাবো। তারপর একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। অনুসন্ধান প্রতিবেদন-২ এ আরো বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

আওয়ামী ফ্যাস্টিস্ট মোখলেছুর রহমানের নানা দূর্নীতি

প্রকাশের সময় : ০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

 

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:


 

২০২৪-২০২৫ অর্থ বছর মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমূখী, চিনাবাদাম, পেয়াঁজ, মুসর ও খেসারি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার সরবরাহ সহায়তা প্রদানের জন্য কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরেণের জন্য জেলা কৃষি পূণর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি ২ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিঃ এবং উপজেলাঃ কৃষি পূর্ণবাসন কমিটি ১১ নভেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উল্লেখিত ফসলের আবাদের উপযোগিতা ও বিভিন্ন বছরের উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইউনিয়ন ওয়ারী স্বারক নং- ১২.১৮.৯৩১৯.০৪১.৩৮.০১৩.২৪/৪৫১ চিঠিতে দেখা যায়, অলোয়া ইউনিয়নে বরাদ্দ আছে ১০৭০ জন, নিকরাইল ৭২৫ জন, গোবিন্দাসী ৭৭০ জন, গাবসারা ৮৫৫ জন, অর্জুনা ৯৯৫ জন, ফলদা ১৪১০ জন, পৌরসভা ৮৪৫ জন। সর্বমোট ৬৬৭০ বিভাজন প্রদান করা হয়েছে। সরেজমিনে জানা যায়, নিকরাইল ইউনিয়ন ৭২৫ জন্য বরাদ্ধ থাকলেও সেখানে দু’শ পঞ্চাশ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গম ৫০ জন বরাদ্দের স্থানের ১০ জন কে দিয়েছেন, ভূট্টা ৩০ জনের মধ্যে ১০ জনকে, সরিষা ৬শ জনের মধ্যে দু’শ পঞ্চাশ জনকে, চিনাবাদাম ২০ জনের মধ্যে ১০ জনকে, মসুর ১০ জনের মধ্যে ৫ জনকে, খেসারী ১০ জনের মধ্যে ৫ জনকে। ৪’শ পঁচাত্তর জন প্রান্তিক কৃষক এই ইউনিয়নে সার ও বীজ পায়নি। অলোয়া ইউনিয়নে ১০৭০ জনের বরাদ্দ খাকলেও সেখানে ৪৫০ জনকে বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

অবশিষ্ট ৬২০ জন প্রান্তিক কৃষক সার বীজ পায়নি। গোবিন্দাসী ইউনিয়নে ৭৭০ জনের বরাদ্দ থাকলেও সেখানে ৩’শ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৭০ জন প্রান্তিক কৃষক সার ও বীজ পায়নি। অর্জনা ইউনিয়নে ৯৯৫ জনের বরাদ্দের মধ্যে ৪০০ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৯৫ জন প্রান্তিক কৃষক সার, বীজ পাইনি। গাবসারা ইউনিয়ন ৮৫৫ জন বরাদ্দ সেখানে ৪৫০ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষট ৪০৫ জন প্রান্তিক কৃষক সার, বীজ পায়নি। ফলদা ইউনিয়নে ১৪১০ জন বরাদ্দের মধ্যে ৫০০ জনকে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯১০ জন প্রান্তিক কৃষক সার বীজ পায়নি। উপজেলা কৃষি অফিসার উপসহকারী সানজিত হাসানের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের শাসন আমলে সাবেক এমপি ছোট মনিরকে বরাদ্দের ৬০%, মোঃ তাহেরুল ইসলাম তোতাকে ২০% অবশিষ্ট ২০% ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের প্রান্তিক কৃষকদের বিতরণ করতে দিতেন। বরাদ্দের কৃষি ৬০% ও ২০% মালামাল উপজেলা কৃষি উপসহকারী সানিজদি হাসানের মাধ্যমে ডিলারদের কাছে বিক্রি করে টাকা আওয়ামী উক্ত নেতাকে দিতেন। জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি, অফিসে মোট ১৯ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বর্তমানে কর্মরত আছেন। এর মধে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন ৫ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্প্রেয়ার মেকানিক ১ জন গার্ড ১ জন। তারা হলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মদ শাকিল, মোঃ সানজিত হাসান, মোঃ আলামিন মিয়া, মাসুদুল হক।

 

 

 

 

স্প্রেয়ার মেকানিক খন্দকার কামরুল হাসান ও গার্ড মিজানুর রহমান। নাম প্রকাশে অইচ্ছুক দুই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমানের অর্পিত দায়িত্ব মোতাবেক স্প্রেয়ার মেকানিক খন্দকার কামরুল হাসান প্রণোদনার ও প্রদর্শনীর সকল মালামাল ভূঞাপুর থেকে ক্রয় না করে সে নি¤œমানের কম দামের বীজ মধুপুর থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসে। তার টেবিলের নিচে বিভিন্ন ভাউচারের তৈরী করা বই রয়েছে। কৃষকের মাঠ দিবস, প্রদর্শণীর সার ও বীজের টাকা, কৃষক প্রশিক্ষণের টাকা সামান্য খরচ করে স্প্রেয়ার মেকানিক খন্দকার কামরুল হাসান অবিশিষ্ট টাকা উপজেলা কৃষি অফিসারকে দেন। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের কৃষি প্রণোদনা বিনামূল্যে বীজ ও সার এসেছিল সেই চিঠি ইস্যু করেন উপজেলা কৃষি অফিসার ১১ নভেম্বর ২০২৪ মূলত সকল ইউনিয়নের বিতরণের পর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের হাতে চিঠি দেন। উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, টাঙ্গাইল থেকে কোন বরাদ্দে চিঠি আসলে আগেই আমাদের জানানো হয় না। প্রান্তিক কৃষকদের বিতরণ করার পর আমাদের জানানো হয়। কৃষকদের প্রদর্শনীর সার যদি আসে ইউরিয়া ৩০ কেজি প্রান্তিক কৃষককে দেওয়া হয় ৫ কেজি। ডিএপি ৩০ কেজির স্থলে ৫ কেজি, এমওপি ২০ কেজি স্থলে ৫ কেজি, কীটনাশক প্রান্তিক কৃষক প্রতি যদি আসে ৫০০ টাকা সেখানে দেওয়া হয় একশত টাকা। কৃষকের মাাঠ দিবসের টাকা যদি আসে ২০ হাজার টাকা সেখানে উপসহকারীদর দেওয়া হয় ৪ হাজার টাকা। প্রতি কৃষকদের বীজের জন্য যদি আসে ২ হাজার টাকা সেখানে নি¤œ দামের বীজ ক্রয় করে দেয়া হয় ৩’শ থেকে ৪’শ টাকার। বর্তমান উপজেলা কৃষি অফিসার কতগুলো কৃষি বরাদ্দ আসলো তা চিঠি দেয়া না। সে মৌখিক বলে দেয়। প্রতি ইউনিয়নে যদি আসে ৬’শ সে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দেন ১৫০টি অবশিষ্ট গুলো সে অফিসের পিয়নদের কে দিয়ে অগ্রাধিকার ও ভূয়া মাষ্টার রোল তৈরী করে জমা দেন।

 

অবশিষ্ট বরাদ্দগুলো মোঃ কামরুল হাসান, স্প্রেয়ার মেকানিক মিজানুর রহমান গার্ডসহ ৫ জন উপসহকারী মিলে বিভিন্ন সারের ডিলারের কাছে বিক্রি করে দেন। ১১/১১/২০২৪ ইং তারিখে যে কৃষি প্রণোদনা বরাদ্দ আসছে তা থেকে প্রতি ইউনিয়নের দেয়া হয়েছে গম ফসল আসছে ৬০টি চেয়ারম্যানেদের দেওয়া হয়েছে ২০টি, ভূট্টা ৪০টি সেখানে দেওয়া হয়েছে ১০টি, সরিষা ৭৫০টি সেখানে দেয়া হয়েছে ২৫০টি, চিনাবাদাম ৬০টি দেওয়া হয়েছে ১৫-২০টি। মসুর ৩৫টি দেওয়া হয়েছে ৫টি, খেসারি ৩৫টি দেয়া হয়েছে ৫টি। প্রতিটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানদেরকে তদন্ত করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। অবশিষ্ট কৃষি মালামাল গুলো উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশে স্প্রেয়ার মেকানিক ভূয়া অগ্রাধিকার তালিকা ও মাষ্টার রোল তৈরি করে অফিস শেষে ডিলারদের কাছে বিক্রি করে দেয়। নাম প্রকাশের অইচ্ছুক আরেক উপসহকারী কর্মকর্তা জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসার ভূয়া তৈরী মাষ্টার রোল ও অগ্রাধিকার তালিকায় উপসহকারীদের স্বাক্ষর জোর করে নিয়ে থাকেন।

 

 

 

 

সততা ও নিষ্ঠাবান উপসহাকারীরা তারা কোন কিছু বললে তাদেরকে বদলীর হুমকি দেয়া হয়। জড়িতরা বিকালে অফিস শেষে উপজেলা প্রশিক্ষণ হল রুম ব্যবহৃত গোডাউন থেকে গার্ড মিজানুর রহমানের সহযোগিতা ভ্যান গাড়ী যোগে এই মালামাল বের করে ডিলারের কাছে বিক্রি করে। স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করলে তাদেরকে বলেন, এইগুলো স্থানীয় নেতাদের মালামাল। উপজেলা কৃষি অফিসার স্প্রেয়ার মেকানিক কামরুল হাসান কে অফিসের হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করান অথচ অফিসের হিসাব রক্ষক হচ্ছেন আঃ রাজ্জাক সে পদে থাকার পরেও তাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি অর্পিত দায়িত্বে রয়েছেন উপসহকারী আলামিন মিঞা তিনি তার পরিচিত কৃষক ও দালালদের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের কে দেয়ার নাম করে দালালদের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকেন।

 

সচেতন মহল মনে করেন, সরকার যেখানে ৫০% ভর্তুকী মাধ্যমে ধান কাটার মেশিন, সধান মারাই মেশিন, ধানরোপন ও ভূট্টা মারাই মেশিন, জমি চাষ করার মেশিন বিতরণ করতে দিয়েছেন সেখানে সংশ্লিষ্টরা দালালের মাধ্যমে উত্তোলন করে কোম্পানির কাছ থেকে এবং দালালদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ও বিভাগীয় মামলা হওয়া উচিত। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন, এই সব অভিযোগগুলো ঠিক না। কে বা কারা অভিযোগ করছে আমি তা জানি না। বরাদ্দ যা আছে তাই বিতরণ করা হয়েছে। ভূয়া মাষ্টার রোল তৈরী করে স্বাক্ষরের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ফোনে বলা যাবে না।

 

আপনাকে অফিসে চা পানের দাওয়াত রইল। অলোয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম হাসান মুঠো ফোনে জানান, আমি ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের কৃষি প্রণোদনা বিনামূল্যে সার বীজ সরিষা ৪৫০ জনের পেয়েছি। নিকরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলাম দিলিপ বলেন, আমি ১ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমি আমার দায়িত্বকালে ফোন মালামাল পায়নি। অর্জনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলসাদ মুঠো ফোনে জানান ১১/১১/২০২৪ তারিখে যে বীজ, সার দিয়েছেন তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। সচিবকে জিজ্ঞেস করো পরে জানাবো। গোবিন্দাসী চেয়ারম্যান মুঠো ফোনে জানান, আমি দায়িত্বগ্রহণ করেছি ১৯/১১/২০২৪ ইং তারিখে। সঠিক তথ্য জানি না।

 

ফলদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বপন মুঠো ফোনে জানান, তখন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পলাতক ছিলেন। আমি তৎকালীন দায়িত্বে ছিলাম না। যতটুকু জানি, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিসারের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাদর সাথে সম্বনয় করে কিছু বিতরণ করেছেন।

 

গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাপলা মুঠো ফোনে জানান ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের কৃষি প্রনোদনা বীজ, সারের কথা কত জন পেয়েছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার সঠিক জানা নেই, আমি সচিবের কাছে জেনে আপনাকে জানাবো। তারপর একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। অনুসন্ধান প্রতিবেদন-২ এ আরো বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।