, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

লালমনিরহাটে উপ-তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, চাকরি স্থায়ী করাতে নেন ৪ লাখ টাকা।

  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪০ পড়া হয়েছে

 

আনিছুল ইসলাম রাজিব লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি


 

লালমনিরহাটের আল-নাহিয়ান সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে এক অস্থায়ী অফিস সহায়কের চাকরি স্থায়ী করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

 

 

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরি স্থায়ীকরণের টাকা নেওয়ার পাশাপাশি আব্দুল হাকিম প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং এক নারীকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

 

তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আব্দুল হাকিম ২০২০ সালের মে মাসে নিয়ম ভঙ্গ করে সরাসরি ঢাকা মিরপুর সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক পদে নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

 

সেসময় প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি, বাণিজ্যিকভাবে কক্ষ ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, এমনকি এক ছাত্রীর মাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও আসে। যদিও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগসাজশের কারণে কোনো তদন্ত হয়নি।

 

২০২২ সালে তাকে হঠাৎ বদলি করে লালমনিরহাটে আনা হয়, যেখানে এসে তিনি কর্মচারীদের ওপর নিজের ইচ্ছামতো নিয়ম চাপিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরোধিতা করলে কর্মচারীরা হয়রানির শিকার হতেন।

 

ভুক্তভোগী জমিলা বেগম জানান, চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাসে আব্দুল হাকিম তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেন। পরে চাকরি স্থায়ী না করে তাকে বরখাস্ত করে অন্যজনকে নিয়োগ দেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আব্দুল হাকিম হঠাৎ তার দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান বলে অভিযোগ আছে।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এক নারীর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আপত্তিকর বক্তব্য শোনা যায়। এই বিষয়ে পূর্বেও ভুক্তভোগী নারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি।

 

এ বিষয়ে আব্দুল হাকিম জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। একটি মহল তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।

 

জেলা প্রশাসক ও আল-নাহিয়ান শিশু পরিবারের সভাপতি এইচএম রকিব হায়দার বলেন, চাকরি স্থায়ীকরণের নামে ঘুষ নেওয়ার লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

লালমনিরহাটে উপ-তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, চাকরি স্থায়ী করাতে নেন ৪ লাখ টাকা।

প্রকাশের সময় : ০৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

 

আনিছুল ইসলাম রাজিব লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি


 

লালমনিরহাটের আল-নাহিয়ান সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে এক অস্থায়ী অফিস সহায়কের চাকরি স্থায়ী করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

 

 

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরি স্থায়ীকরণের টাকা নেওয়ার পাশাপাশি আব্দুল হাকিম প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং এক নারীকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

 

তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আব্দুল হাকিম ২০২০ সালের মে মাসে নিয়ম ভঙ্গ করে সরাসরি ঢাকা মিরপুর সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক পদে নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

 

সেসময় প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি, বাণিজ্যিকভাবে কক্ষ ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, এমনকি এক ছাত্রীর মাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও আসে। যদিও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগসাজশের কারণে কোনো তদন্ত হয়নি।

 

২০২২ সালে তাকে হঠাৎ বদলি করে লালমনিরহাটে আনা হয়, যেখানে এসে তিনি কর্মচারীদের ওপর নিজের ইচ্ছামতো নিয়ম চাপিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরোধিতা করলে কর্মচারীরা হয়রানির শিকার হতেন।

 

ভুক্তভোগী জমিলা বেগম জানান, চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাসে আব্দুল হাকিম তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেন। পরে চাকরি স্থায়ী না করে তাকে বরখাস্ত করে অন্যজনকে নিয়োগ দেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আব্দুল হাকিম হঠাৎ তার দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান বলে অভিযোগ আছে।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এক নারীর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আপত্তিকর বক্তব্য শোনা যায়। এই বিষয়ে পূর্বেও ভুক্তভোগী নারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি।

 

এ বিষয়ে আব্দুল হাকিম জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। একটি মহল তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।

 

জেলা প্রশাসক ও আল-নাহিয়ান শিশু পরিবারের সভাপতি এইচএম রকিব হায়দার বলেন, চাকরি স্থায়ীকরণের নামে ঘুষ নেওয়ার লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।