, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

সাগরকন্যা কুয়াকাটা: এক মায়াবী সৌন্দর্যের গল্প

  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৪ পড়া হয়েছে

 

লামিসা তাসনিম জুহা, বিশেষ প্রতিনিধি

 

 

জীবনের পিছনে ছুটতে ছুটতে যখন মানুষ ক্লান্তির ভারে নুয়ে যায়, তখনই সে একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। এই ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ বেঁচে নেয় ভ্রমণকে। ভ্রমণের তালিকায় অন্যতম একটি স্থান হলে “কুয়াকাটা” যাকে সাগরকন্যাও বলা হয়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অবস্থিত পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলাতে। এটি মূলত বিখ্যাত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসাথে দেখার জন্য, যা বাংলাদেশের অন্য কোথাও দেখা যায় না।

 

কুয়াকাটার ইতিহাস, যা ইতিহাসের পাতায় বেশ পুরনো। কুয়াকাটা নামটি মূলত “কূপ” শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়। ১৮ শতকে (১৭৮৪ ) “বার্মার রাজা বোদাওপায়ার’ আরাকান রাজ্য দখলের পর সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে রাখাইনরা এখানে বসতি স্থাপন করে । পরবর্তীতে জলের অভাব বা সমুদ্রের নোনা জল এড়িয়ে সুপেয় জলের ব্যবস্থা করতে তারা বিভিন্ন কুপ খনন করে এবং এই সূত্রাতেই “কুয়াকাটা” নামটি উদ্ভব হয়।

 

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার এবং ও প্রস্থ ৩ কিলোমিটার। এই সমুদ্র সৈকতের গভীরতা বেশি না হওয়ায় সাঁতার কাটার জন্য এটি নিরাপদ। এই সমুদ্র সৈকতের পানি মূলত লবণাক্ত, কারণ একটি বঙ্গোপসাগরে উপকূলে অবস্থিত। কুয়াকাটার সমুদ্রের পানি সব সময় স্বচ্ছ থাকে না। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীর পলির কারণে পানি ঘোলা হয়ে যায় কিন্তু শীতকালে তুলনামূলক স্বচ্ছল পানি দেখা যায়। এছাড়া এই সৈকতে প্রতিদিন জোয়ার ভাটা হতে থাকে যার ফলে পানি ওঠানামা করে, যা সমুদ্রে একটি স্বাভাবিক দৃশ্য।

 

কুয়াকাটা যেহেতু বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত, তাই এখানে দেখা যায় নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী। গবেষণায় জানা গেছে, পটুয়াখালী উপকূলের বিভিন্ন মাছ ধরার কেন্দ্রে ১৩০টিরও বেশি প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রয়েছে ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা, কোরাল মাছ, বোম্বাই ডাক সহ আরও অনেক প্রজাতি। এছাড়া মাঝে মাঝে সমুদ্রের কূলে মৃত ডলফিন ভেসে আসে। শুধু ডলফিন নয়, ২০১৮ সালে কুয়াকাটা সৈকতে ৪৫ ফুট লম্বা একটি মৃত তিমি এবং ২০২২ সালে ৩০ ফুটের আরেকটি তিমির দেহ পাওয়া যায়।মাছের পাশাপাশি কুয়াকাটার সৈকত ও উপকূলীয় অঞ্চলে লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি, স্কুইড, অক্টোপাস, জেলিফিশ এবং স্টিংরে দেখা যায়।এই সবকিছু মিলিয়ে কুয়াকাটা উপকূলের জীববৈচিত্র্য পর্যটক ও গবেষকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

 

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাদে রয়েছে আরও বেশি কিছু জায়গা যা ঘুরে দেখার জন্য উত্তম। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু জায়গা হলো:

ফাতরার বন:
কুয়াকাটা থেকে ৮ কিলোমিটার দুরুতে এই বন অবস্থিত। সুন্দরবনেরই একটি অংশ হলো ফাতরার বন, যার আয়তন প্রায় ১৭ বর্গ কিলোমিটার। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, খাল , লেক বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।

লাল কাঁকড়ার দ্বীপ:
কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই লাল কাঁকড়ার দ্বীপ যেখানে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাল কাঁকড়া। যদিও বর্তমানে পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় ও পরিবেশ দূষণের কারণে লাল কাঁকড়ার সংখ্যা হ্রাসের দিকে।

রাখাইন মার্কেট বা মহিলা মার্কেট:
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই মার্কেট। এই মার্কেটে রাখাইন মহিলারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প আর বিভিন্ন ধরনের আচার বিক্রি করেন।

গঙ্গামতির লেক বা কাউয়ার চর:
কুয়াকাটা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি একটি প্রাকৃতিক লেক, যা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আর মাছের জন্য পরিচিত।

রাখাইন পল্লী:
কুয়াকাটার পাশেই অবস্থিত রাখাইন পল্লী।এখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপন ও সংস্কৃতি তুলে ধরে।তাঁতে বোনা সুন্দর পোশাক, হস্তশিল্প আর বিভিন্ন ধরনের আচার এই পল্লীর প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া, রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বাড়িঘরও আকর্ষণীয়।

 

কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য সঠিক সময় হলো শীতকাল।অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবহাওয়া খুব সুন্দর থাকে, তাই এই সময়টা ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। কুয়াকাটায় থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল বা রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় হোটেলের মধ্যে হোটেল গ্রেভার ইন, হোটেল স্কাই প্যালেস, ওশান ভিউ হোটেল, এবং হোটেল নীলাঞ্জনা অন্যতম। এছাড়া খাওয়ার জন্য রয়েছে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট যেখানে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। তার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের মধ্যে ফিস বার বি কিউ রেস্টুরেন্ট, হোটেল স্কাই প্যালেসের রুফটপ রেস্টুরেন্ট, ওশান ভিউ হোটেলের রেস্টুরেন্ট, এবং হোটেল গ্রেভার ইনের রেস্টুরেন্ট অন্যতম।

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

সাগরকন্যা কুয়াকাটা: এক মায়াবী সৌন্দর্যের গল্প

প্রকাশের সময় : ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

 

লামিসা তাসনিম জুহা, বিশেষ প্রতিনিধি

 

 

জীবনের পিছনে ছুটতে ছুটতে যখন মানুষ ক্লান্তির ভারে নুয়ে যায়, তখনই সে একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। এই ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ বেঁচে নেয় ভ্রমণকে। ভ্রমণের তালিকায় অন্যতম একটি স্থান হলে “কুয়াকাটা” যাকে সাগরকন্যাও বলা হয়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অবস্থিত পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলাতে। এটি মূলত বিখ্যাত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসাথে দেখার জন্য, যা বাংলাদেশের অন্য কোথাও দেখা যায় না।

 

কুয়াকাটার ইতিহাস, যা ইতিহাসের পাতায় বেশ পুরনো। কুয়াকাটা নামটি মূলত “কূপ” শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়। ১৮ শতকে (১৭৮৪ ) “বার্মার রাজা বোদাওপায়ার’ আরাকান রাজ্য দখলের পর সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে রাখাইনরা এখানে বসতি স্থাপন করে । পরবর্তীতে জলের অভাব বা সমুদ্রের নোনা জল এড়িয়ে সুপেয় জলের ব্যবস্থা করতে তারা বিভিন্ন কুপ খনন করে এবং এই সূত্রাতেই “কুয়াকাটা” নামটি উদ্ভব হয়।

 

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার এবং ও প্রস্থ ৩ কিলোমিটার। এই সমুদ্র সৈকতের গভীরতা বেশি না হওয়ায় সাঁতার কাটার জন্য এটি নিরাপদ। এই সমুদ্র সৈকতের পানি মূলত লবণাক্ত, কারণ একটি বঙ্গোপসাগরে উপকূলে অবস্থিত। কুয়াকাটার সমুদ্রের পানি সব সময় স্বচ্ছ থাকে না। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীর পলির কারণে পানি ঘোলা হয়ে যায় কিন্তু শীতকালে তুলনামূলক স্বচ্ছল পানি দেখা যায়। এছাড়া এই সৈকতে প্রতিদিন জোয়ার ভাটা হতে থাকে যার ফলে পানি ওঠানামা করে, যা সমুদ্রে একটি স্বাভাবিক দৃশ্য।

 

কুয়াকাটা যেহেতু বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত, তাই এখানে দেখা যায় নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী। গবেষণায় জানা গেছে, পটুয়াখালী উপকূলের বিভিন্ন মাছ ধরার কেন্দ্রে ১৩০টিরও বেশি প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রয়েছে ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা, কোরাল মাছ, বোম্বাই ডাক সহ আরও অনেক প্রজাতি। এছাড়া মাঝে মাঝে সমুদ্রের কূলে মৃত ডলফিন ভেসে আসে। শুধু ডলফিন নয়, ২০১৮ সালে কুয়াকাটা সৈকতে ৪৫ ফুট লম্বা একটি মৃত তিমি এবং ২০২২ সালে ৩০ ফুটের আরেকটি তিমির দেহ পাওয়া যায়।মাছের পাশাপাশি কুয়াকাটার সৈকত ও উপকূলীয় অঞ্চলে লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি, স্কুইড, অক্টোপাস, জেলিফিশ এবং স্টিংরে দেখা যায়।এই সবকিছু মিলিয়ে কুয়াকাটা উপকূলের জীববৈচিত্র্য পর্যটক ও গবেষকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

 

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাদে রয়েছে আরও বেশি কিছু জায়গা যা ঘুরে দেখার জন্য উত্তম। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু জায়গা হলো:

ফাতরার বন:
কুয়াকাটা থেকে ৮ কিলোমিটার দুরুতে এই বন অবস্থিত। সুন্দরবনেরই একটি অংশ হলো ফাতরার বন, যার আয়তন প্রায় ১৭ বর্গ কিলোমিটার। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, খাল , লেক বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।

লাল কাঁকড়ার দ্বীপ:
কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই লাল কাঁকড়ার দ্বীপ যেখানে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাল কাঁকড়া। যদিও বর্তমানে পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় ও পরিবেশ দূষণের কারণে লাল কাঁকড়ার সংখ্যা হ্রাসের দিকে।

রাখাইন মার্কেট বা মহিলা মার্কেট:
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই মার্কেট। এই মার্কেটে রাখাইন মহিলারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প আর বিভিন্ন ধরনের আচার বিক্রি করেন।

গঙ্গামতির লেক বা কাউয়ার চর:
কুয়াকাটা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি একটি প্রাকৃতিক লেক, যা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আর মাছের জন্য পরিচিত।

রাখাইন পল্লী:
কুয়াকাটার পাশেই অবস্থিত রাখাইন পল্লী।এখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপন ও সংস্কৃতি তুলে ধরে।তাঁতে বোনা সুন্দর পোশাক, হস্তশিল্প আর বিভিন্ন ধরনের আচার এই পল্লীর প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া, রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বাড়িঘরও আকর্ষণীয়।

 

কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য সঠিক সময় হলো শীতকাল।অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবহাওয়া খুব সুন্দর থাকে, তাই এই সময়টা ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। কুয়াকাটায় থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল বা রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় হোটেলের মধ্যে হোটেল গ্রেভার ইন, হোটেল স্কাই প্যালেস, ওশান ভিউ হোটেল, এবং হোটেল নীলাঞ্জনা অন্যতম। এছাড়া খাওয়ার জন্য রয়েছে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট যেখানে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। তার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের মধ্যে ফিস বার বি কিউ রেস্টুরেন্ট, হোটেল স্কাই প্যালেসের রুফটপ রেস্টুরেন্ট, ওশান ভিউ হোটেলের রেস্টুরেন্ট, এবং হোটেল গ্রেভার ইনের রেস্টুরেন্ট অন্যতম।