, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

তিন দশকের শিক্ষকতা শেষে অবসরে সামসুল হক স্যার

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৩ পড়া হয়েছে

 

আমলা অফিস ॥


 

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের শিক্ষকতার কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণ করলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কুশাবাড়ীয়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহাম্মদ সামসুল হক। গত ৩০ অক্টোবর তিনি ৩৪ বছর ১০ মাসের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

 

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখে তখন প্রিয় শিক্ষককে হারানোর বেদনা, আর মুখে ছিল ভালোবাসার শব্দ।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মশিউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ আনজুমান আরা বেগম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, খালেদা আক্তার, পলাশ আহমেদ, শারমিন আক্তার, আমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সানাউল্লাহ, পুরাতন আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

 

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মশিউর রহমান বলেন, “মহাম্মদ সামসুল হক ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ ও নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশে এসেছে দৃশ্যমান উন্নতি। শুধু পাঠদানে নয়, শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে তিনি ছিলেন এক আদর্শ দৃষ্টান্ত।

 

 

 

প্রাথমিক শিক্ষায় তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করব।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ আনজুমান আরা বেগম বলেন, “স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, আমাদের জন্য তিনি ছিলেন এক পথ প্রদর্শক। তার ধৈর্য, সহমর্মিতা ও পেশার প্রতি ভালোবাসা আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না।

 

অন্যান্য শিক্ষক ও এলাকার ব্যক্তিবর্গ বলেন, “তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও দায়িত্বশীল মানুষ। সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে আজীবন কাজ করেছেন। এলাকার বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত, যা তার শিক্ষাদানের সফলতারই প্রতিফলন।

 

শিক্ষার্থীরা বলেন, “স্যার আমাদের শুধু বইয়ের পাঠ নয়, জীবনের পাঠও শিখিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষ হতে হয়। আমরা তাকে কখনও ভুলব না।”
আয়োজনে বিদায়ী শিক্ষক মহাম্মদ সামসুল হক বলেন, “এই বিদ্যালয় আমার পরিবার। জীবনের সিংহভাগ সময় আমি কাটিয়েছি এই বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিদায় আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি গভীর আবেগেরও। আমি চাই, আমার শিক্ষার্থীরা সৎ, নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক, এটিই আমার জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

 

১৯৯০ সালের ১৩ ডিসেম্বর কুশাবাড়ীয়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন মহাম্মদ সামসুল হক। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি মমতায় তিনি সকলের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিশুদের নৈতিক বিকাশে তিনি নিয়মিত লেখালেখিও করেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।

 

 

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান এ অঞ্চলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সমাজে তিনি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ, যার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে।

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

তিন দশকের শিক্ষকতা শেষে অবসরে সামসুল হক স্যার

প্রকাশের সময় : ১০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

 

আমলা অফিস ॥


 

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের শিক্ষকতার কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণ করলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কুশাবাড়ীয়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহাম্মদ সামসুল হক। গত ৩০ অক্টোবর তিনি ৩৪ বছর ১০ মাসের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

 

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখে তখন প্রিয় শিক্ষককে হারানোর বেদনা, আর মুখে ছিল ভালোবাসার শব্দ।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মশিউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ আনজুমান আরা বেগম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, খালেদা আক্তার, পলাশ আহমেদ, শারমিন আক্তার, আমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সানাউল্লাহ, পুরাতন আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

 

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মশিউর রহমান বলেন, “মহাম্মদ সামসুল হক ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ ও নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশে এসেছে দৃশ্যমান উন্নতি। শুধু পাঠদানে নয়, শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে তিনি ছিলেন এক আদর্শ দৃষ্টান্ত।

 

 

 

প্রাথমিক শিক্ষায় তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করব।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ আনজুমান আরা বেগম বলেন, “স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, আমাদের জন্য তিনি ছিলেন এক পথ প্রদর্শক। তার ধৈর্য, সহমর্মিতা ও পেশার প্রতি ভালোবাসা আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না।

 

অন্যান্য শিক্ষক ও এলাকার ব্যক্তিবর্গ বলেন, “তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও দায়িত্বশীল মানুষ। সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে আজীবন কাজ করেছেন। এলাকার বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত, যা তার শিক্ষাদানের সফলতারই প্রতিফলন।

 

শিক্ষার্থীরা বলেন, “স্যার আমাদের শুধু বইয়ের পাঠ নয়, জীবনের পাঠও শিখিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষ হতে হয়। আমরা তাকে কখনও ভুলব না।”
আয়োজনে বিদায়ী শিক্ষক মহাম্মদ সামসুল হক বলেন, “এই বিদ্যালয় আমার পরিবার। জীবনের সিংহভাগ সময় আমি কাটিয়েছি এই বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিদায় আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি গভীর আবেগেরও। আমি চাই, আমার শিক্ষার্থীরা সৎ, নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক, এটিই আমার জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

 

১৯৯০ সালের ১৩ ডিসেম্বর কুশাবাড়ীয়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন মহাম্মদ সামসুল হক। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি মমতায় তিনি সকলের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিশুদের নৈতিক বিকাশে তিনি নিয়মিত লেখালেখিও করেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।

 

 

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান এ অঞ্চলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সমাজে তিনি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ, যার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে।