, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

“যুদ্ধের ময়দানে আজ সবার হাতে টমেটো!”

  • প্রকাশের সময় : ১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬৮ পড়া হয়েছে

 

লামিসা তাসনিম জুহা, বিশেষ প্রতিনিধি:

 

স্পেনের একটি বিখ্যাত অদ্ভুত ও রসালো উৎসবের নাম হলো ‘লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) বা “টমেটোর যুদ্ধ”। “লা টোমাটিনা (La Tomatina) উৎসবের নামকরণ হয়েছে এর মূল উপাদান ‘টমেটো’ (Tomato) থেকে। স্প্যানিশ ভাষায় ‘টমেটো’কে বলা হয় ‘Tomate’। এখানে ‘La’ একটি নির্দিষ্ট আর্টিকেল, যার অর্থ ‘The’। আর ‘Tomatina’ শব্দটি ‘Tomate’ থেকে রূপান্তরিত, যা এই উৎসবের স্বতন্ত্রতা ও উৎসবমুখর চরিত্রকে নির্দেশ করে।
প্রতি বছর আগস্ট মাসের শেষ বুধবারে, স্পেনের ছোট্ট শহর “বুনোল”, যেন এক লাল সাগরের রূপ ধারণ করে। যেখানে টমেটোর রসে ভিজে যায় রাস্তাঘাট। লাল রসে মাখামাখি এই শরীর যেন স্পেনের মানুষের মনে এক আনন্দের ঢেউ তোলে।

 

 

 

 

লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) উৎসবটি শুরু হয়েছিলো ১৯৪৫ সালে বুনোল শহরের প্রধান স্কয়ার “প্লাজা দেল পুয়েবলো”তে একটি স্থানীয় প্যারেড এর মাধ্যমে। সেই প্যারেডে একটি জায়ান্ট পোপেট বা বড় পুতুলের মাথা পড়ে যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে এক তরুণ রেগে গিয়ে পাশের সবজির দোকান থেকে টমেটো নিয়ে ছুঁড়ে মারে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য দর্শকেরাও টমেটো তুলে ছোড়াছুড়ি শুরু করে। যদিও এটি প্রথমে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও, পরবর্তী বছরগুলোতে স্থানীয়রা এটিকে উৎসব হিসেবে পালন করে।
স্পেনের স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর শাসনামলে ১৯৫০ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এই বাধার প্রতিবাদে একদল অংশগ্রহণকারীরা “টমেটোর কবর” নামক এক শোকযাত্রা করে, যা সফল হয়; এবং ১৯৫৭ সালে উৎসব পুনরায় বৈধতা পায় ।
এই উৎসবটি খ্যাতি অর্জন করে ১৯৮২ সালে একটি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এবং ২০০২ সালে স্পেনীয় পর্যটন মন্ত্রক এটিকে “আন্তর্জাতিক পর্যটন-আকর্ষক উৎসব” হিসেবে ঘোষণা করে।

 

 

 

 

‘লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) উৎসবটি বুনোল শহরে, যা ভ্যালেন্সিয়া থেকে প্রায় ৪০ কি.মি দূরে অবস্থিত, এবং তার কেন্দ্রীয় স্থানেই উদযাপিত হয়। এই শহরে মাত্র ৯,০০০ জন বাসিন্দা থাকে, কিন্তু উৎসবে ভিড় বেড়ে যায় অনেকগুণ। পূর্বে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হতো ৪০-৫০ হাজার কিন্তু ২০১৩ সালে টিকেট-ভিত্তিক অংশগ্রহণ চালু করে ২০,০০০ জনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে ।

এই উৎসবে ১৫০ টন টমেটো ব্যবহার করা হয় ( উৎসবের জন্য বিশেষভাবে চাষ করা হয়) যা সরবরাহ করতে ৭টি ট্রাক ব্যবহার করা হয়। টমেটো গুলো সাধারনত খাওয়ার অনুপযোগী, অতিরিক্ত টক ও নরম হয়ে থাকে তাই এই উৎসবে ব্যবহার করা হয়।

“টমেটোর যুদ্ধ” উৎসবে অংশগ্রহণ করতে লোকেরা সাদা পোশাক পরিধান করে সকাল ৯টার দিকে “প্লাজা দেল পুয়েবলোতে “এসে জড়ো হতে শুরু করে । উৎসবটির সূচনা হয় সকাল ১০টায় একটি মজার খেলা ‘পালো জাবন’এর মাধ্যমে, যেখানে সাবান লাগানো খুঁটির মাথা থেকে হ্যাম নামানোর চেষ্টা করে উৎসবপ্রেমীরা। হ্যাম নামানোর পরেই শুরু হয় মূল আকর্ষণ “টমেটোর যুদ্ধ” বা “La Tomatina” । এটি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ধরে এই টমেটোর যুদ্ধ চলে।৪–১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এক বিশেষ সংস্করণ ‘কিডস টোমাটিনা’ আয়োজন করা হয়, যেখানে তারা নিরাপদভাবে অংশ নিতে পারে।কম সময়, কম টমেটো থাকলেও সমান মজা হয়। সবশেষে, ক্যানন বা সাইরেনের শব্দে যুদ্ধ থেমে যায়।

 

 

 

 

এই উৎসবে বেশ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে তার মধ্যে; টমেটো ছোড়ার আগে চটকে নিতে হবে কারণ আস্ত টমেটো ছুড়লে মানুষ আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অন্যের পোশাক ছিঁড়লে জরিমানা প্রদান করতে হবে, কঠিন কোনো বস্তু সাথে নেয়া যাবে না ( কাঁচের বতল, তীক্ষ্ণ কোনো বস্তু ইত্যাদি)।

 

‘লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) উৎসব শেষে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দিয়ে পুরো শহর ধুয়ে ফেলা হয়। টমেটোর অ্যাসিডিক গুণ রাস্তা আরও পরিষ্কার করে তোলে বলেই দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়রা স্বেচ্ছা পরিষ্কার অভিযানে সহযোগিতা করে।

 

‘লা টোমাটিনা’ শুধুই একটি উৎসব নয় এটি ভালোবাসা,সংস্কৃতি এবং আনন্দের এক রঙিন প্রতিচ্ছবি। এই সময়ে স্পেন যেন হয়ে ওঠে সারা বিশ্বের এক আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের আনন্দের পাশাপাশি এ শহরের মধ্যযুগীয় দুর্গ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও আগতদের নজর কাড়ে এবং হোটেল বুকিং, দোকানপাট, খাবার ও গাইড সার্ভিসে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সৃষ্টি হয়।

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

“যুদ্ধের ময়দানে আজ সবার হাতে টমেটো!”

প্রকাশের সময় : ১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

 

লামিসা তাসনিম জুহা, বিশেষ প্রতিনিধি:

 

স্পেনের একটি বিখ্যাত অদ্ভুত ও রসালো উৎসবের নাম হলো ‘লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) বা “টমেটোর যুদ্ধ”। “লা টোমাটিনা (La Tomatina) উৎসবের নামকরণ হয়েছে এর মূল উপাদান ‘টমেটো’ (Tomato) থেকে। স্প্যানিশ ভাষায় ‘টমেটো’কে বলা হয় ‘Tomate’। এখানে ‘La’ একটি নির্দিষ্ট আর্টিকেল, যার অর্থ ‘The’। আর ‘Tomatina’ শব্দটি ‘Tomate’ থেকে রূপান্তরিত, যা এই উৎসবের স্বতন্ত্রতা ও উৎসবমুখর চরিত্রকে নির্দেশ করে।
প্রতি বছর আগস্ট মাসের শেষ বুধবারে, স্পেনের ছোট্ট শহর “বুনোল”, যেন এক লাল সাগরের রূপ ধারণ করে। যেখানে টমেটোর রসে ভিজে যায় রাস্তাঘাট। লাল রসে মাখামাখি এই শরীর যেন স্পেনের মানুষের মনে এক আনন্দের ঢেউ তোলে।

 

 

 

 

লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) উৎসবটি শুরু হয়েছিলো ১৯৪৫ সালে বুনোল শহরের প্রধান স্কয়ার “প্লাজা দেল পুয়েবলো”তে একটি স্থানীয় প্যারেড এর মাধ্যমে। সেই প্যারেডে একটি জায়ান্ট পোপেট বা বড় পুতুলের মাথা পড়ে যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে এক তরুণ রেগে গিয়ে পাশের সবজির দোকান থেকে টমেটো নিয়ে ছুঁড়ে মারে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য দর্শকেরাও টমেটো তুলে ছোড়াছুড়ি শুরু করে। যদিও এটি প্রথমে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও, পরবর্তী বছরগুলোতে স্থানীয়রা এটিকে উৎসব হিসেবে পালন করে।
স্পেনের স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর শাসনামলে ১৯৫০ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এই বাধার প্রতিবাদে একদল অংশগ্রহণকারীরা “টমেটোর কবর” নামক এক শোকযাত্রা করে, যা সফল হয়; এবং ১৯৫৭ সালে উৎসব পুনরায় বৈধতা পায় ।
এই উৎসবটি খ্যাতি অর্জন করে ১৯৮২ সালে একটি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এবং ২০০২ সালে স্পেনীয় পর্যটন মন্ত্রক এটিকে “আন্তর্জাতিক পর্যটন-আকর্ষক উৎসব” হিসেবে ঘোষণা করে।

 

 

 

 

‘লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) উৎসবটি বুনোল শহরে, যা ভ্যালেন্সিয়া থেকে প্রায় ৪০ কি.মি দূরে অবস্থিত, এবং তার কেন্দ্রীয় স্থানেই উদযাপিত হয়। এই শহরে মাত্র ৯,০০০ জন বাসিন্দা থাকে, কিন্তু উৎসবে ভিড় বেড়ে যায় অনেকগুণ। পূর্বে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হতো ৪০-৫০ হাজার কিন্তু ২০১৩ সালে টিকেট-ভিত্তিক অংশগ্রহণ চালু করে ২০,০০০ জনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে ।

এই উৎসবে ১৫০ টন টমেটো ব্যবহার করা হয় ( উৎসবের জন্য বিশেষভাবে চাষ করা হয়) যা সরবরাহ করতে ৭টি ট্রাক ব্যবহার করা হয়। টমেটো গুলো সাধারনত খাওয়ার অনুপযোগী, অতিরিক্ত টক ও নরম হয়ে থাকে তাই এই উৎসবে ব্যবহার করা হয়।

“টমেটোর যুদ্ধ” উৎসবে অংশগ্রহণ করতে লোকেরা সাদা পোশাক পরিধান করে সকাল ৯টার দিকে “প্লাজা দেল পুয়েবলোতে “এসে জড়ো হতে শুরু করে । উৎসবটির সূচনা হয় সকাল ১০টায় একটি মজার খেলা ‘পালো জাবন’এর মাধ্যমে, যেখানে সাবান লাগানো খুঁটির মাথা থেকে হ্যাম নামানোর চেষ্টা করে উৎসবপ্রেমীরা। হ্যাম নামানোর পরেই শুরু হয় মূল আকর্ষণ “টমেটোর যুদ্ধ” বা “La Tomatina” । এটি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ধরে এই টমেটোর যুদ্ধ চলে।৪–১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এক বিশেষ সংস্করণ ‘কিডস টোমাটিনা’ আয়োজন করা হয়, যেখানে তারা নিরাপদভাবে অংশ নিতে পারে।কম সময়, কম টমেটো থাকলেও সমান মজা হয়। সবশেষে, ক্যানন বা সাইরেনের শব্দে যুদ্ধ থেমে যায়।

 

 

 

 

এই উৎসবে বেশ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে তার মধ্যে; টমেটো ছোড়ার আগে চটকে নিতে হবে কারণ আস্ত টমেটো ছুড়লে মানুষ আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অন্যের পোশাক ছিঁড়লে জরিমানা প্রদান করতে হবে, কঠিন কোনো বস্তু সাথে নেয়া যাবে না ( কাঁচের বতল, তীক্ষ্ণ কোনো বস্তু ইত্যাদি)।

 

‘লা টোমাটিনা’ (La Tomatina) উৎসব শেষে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দিয়ে পুরো শহর ধুয়ে ফেলা হয়। টমেটোর অ্যাসিডিক গুণ রাস্তা আরও পরিষ্কার করে তোলে বলেই দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়রা স্বেচ্ছা পরিষ্কার অভিযানে সহযোগিতা করে।

 

‘লা টোমাটিনা’ শুধুই একটি উৎসব নয় এটি ভালোবাসা,সংস্কৃতি এবং আনন্দের এক রঙিন প্রতিচ্ছবি। এই সময়ে স্পেন যেন হয়ে ওঠে সারা বিশ্বের এক আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের আনন্দের পাশাপাশি এ শহরের মধ্যযুগীয় দুর্গ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও আগতদের নজর কাড়ে এবং হোটেল বুকিং, দোকানপাট, খাবার ও গাইড সার্ভিসে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সৃষ্টি হয়।