প্রকাশের সময় :
০৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
২৯
পড়া হয়েছে
জিআই পণ্যে ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনির স্বীকৃতি
মোঃ হাবিব, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনির । মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ওয়েবসাইট চেক করে কৃষি অফিসার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই এই চিনি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে শুধুমাত্র আখের রস থেকে তৈরি হয়, যা এটিকে একটি বিশেষ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাদ্যপণ্যে পরিণত করেছে। ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান পাওয়া যায় এই চিনিতে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাল চিনি মাড়াই মৌসুম শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসে, চলে চৈত্র মাস পর্যন্ত। মৌসুমে ওই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এটি আখের রস থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার কারণে এর রং লাল হয় এবং এতে গুড়ের উপাদান থাকে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পাহাড়ি লাল মাটি-অধ্যুষিত কালাদহ, এনায়েতপুর, রাঙামাটিয়া, নাওগাঁও, বাকতা ও রাধাকানাই ইউনিয়নে একসময় প্রচুর পরিমাণ আখ আবাদ হতো। আখমাড়াই মেশিনে আখের রস বের করে জ্বালঘরে জ্বাল করার পর মাটিতে গর্ত করে তৈরি চুলায় কড়াই বসিয়ে রস জ্বাল দেওয়া হয়। রস পূর্ণ জ্বাল হওয়ার পর কড়াইসহ চুলা থেকে নামিয়ে কাঠের কাঠি দিয়ে বিরামহীন ঘুটতে থাকে, যতক্ষণ না শুকনো ধুলার মতো আকার ধারন করে। আখের গুণগত মান খারাপ হলে ধুলার মতো না হয়ে গুটি গুটি আকার ধারণ করে। ধুলার মতো বা গুটির মতো যা-ই হোক, স্থানীয় ভাষায় এটাই লাল চিনি। চিনি তৈরি করার জন্য যে অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ করা হয়, তাকে বলা হয় জ্বালঘর। দেখতে ধূসর খয়েরি হলেও সাদা চিনির বিপরীতেই হয়তো লাল চিনি নামকরণ। উপজেলা কৃষি অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, গত ১১ জুলাই ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনিকে জিআই পণ্যের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই ধারাবহিকতায় লাল চিনি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা বিশাল গর্বের। এই চিনির সুখ্যাতি দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়বে। এজন্য কৃষকদের মধ্যে আখের নতুন জাত সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাত উন্নত হলে চিনির উৎপাদন আরও বেড়ে যাবে। আখচাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন। চলতি মৌসুমে ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে বলেও জানান তিনি। ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনি । এই স্বীকৃতি পাওয়ায় ফুলবাড়িয়া উপজেলা এবং ময়মনসিংহ জেলার সুনাম অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত এ অঞ্চলের মানুষ।
মোঃ হাবিব, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী লাল চিনি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনির । মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ওয়েবসাইট চেক করে কৃষি অফিসার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই এই চিনি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে শুধুমাত্র আখের রস থেকে তৈরি হয়, যা এটিকে একটি বিশেষ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাদ্যপণ্যে পরিণত করেছে।
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান পাওয়া যায় এই চিনিতে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাল চিনি মাড়াই মৌসুম শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসে, চলে চৈত্র মাস পর্যন্ত। মৌসুমে ওই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এটি আখের রস থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়।
উৎপাদন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার কারণে এর রং লাল হয় এবং এতে গুড়ের উপাদান থাকে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পাহাড়ি লাল মাটি-অধ্যুষিত কালাদহ, এনায়েতপুর, রাঙামাটিয়া, নাওগাঁও, বাকতা ও রাধাকানাই ইউনিয়নে একসময় প্রচুর পরিমাণ আখ আবাদ হতো। আখমাড়াই মেশিনে আখের রস বের করে জ্বালঘরে জ্বাল করার পর মাটিতে গর্ত করে তৈরি চুলায় কড়াই বসিয়ে রস জ্বাল দেওয়া হয়। রস পূর্ণ জ্বাল হওয়ার পর কড়াইসহ চুলা থেকে নামিয়ে কাঠের কাঠি দিয়ে বিরামহীন ঘুটতে থাকে, যতক্ষণ না শুকনো ধুলার মতো আকার ধারন করে। আখের গুণগত মান খারাপ হলে ধুলার মতো না হয়ে গুটি গুটি আকার ধারণ করে। ধুলার মতো বা গুটির মতো যা-ই হোক, স্থানীয় ভাষায় এটাই লাল চিনি। চিনি তৈরি করার জন্য যে অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ করা হয়, তাকে বলা হয় জ্বালঘর। দেখতে ধূসর খয়েরি হলেও সাদা চিনির বিপরীতেই হয়তো লাল চিনি নামকরণ।
উপজেলা কৃষি অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, গত ১১ জুলাই ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনিকে জিআই পণ্যের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই ধারাবহিকতায় লাল চিনি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা বিশাল গর্বের। এই চিনির সুখ্যাতি দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়বে। এজন্য কৃষকদের মধ্যে আখের নতুন জাত সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাত উন্নত হলে চিনির উৎপাদন আরও বেড়ে যাবে। আখচাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন। চলতি মৌসুমে ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ফুলবাড়ীয়ার লাল চিনি । এই স্বীকৃতি পাওয়ায় ফুলবাড়িয়া উপজেলা এবং ময়মনসিংহ জেলার সুনাম অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত এ অঞ্চলের মানুষ।