, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘বসন্তে’ বিএনপির বাজিমাত

  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭২ পড়া হয়েছে

 

কক্সবাজার :

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভূমিধস বিজয় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে জাতীয় ফলাফলের ভেতরে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের ফল বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। উপকূলীয় এই জেলায় বিএনপির একচেটিয়া সাফল্যের পেছনে যেমন ছিল সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, তেমনি ছিল সুসংগঠিত প্রচারণা, উন্নয়নকেন্দ্রিক অঙ্গীকার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ-এর ধারাবাহিক জনসভা ও সরাসরি জনসংযোগ।

 

স্থানীয় রাজনীতিতে এবারের নির্বাচনে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কৌশলী বার্তা, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ভোটের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। উখিয়া-টেকনাফ থেকে মহেশখালী-কুতুবদিয়া, সদর-রামু হয়ে চকরিয়া-পেকুয়া প্রতিটি আসনেই নির্বাচনের আগে বড় পরিসরের পথসভা ও জনসমাবেশ করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। এসব সমাবেশে তার বক্তব্য ছিল আবেগ, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার বাস্তবসম্মত সমন্বয়।

 

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি এবং উন্নয়ন-রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার সব মিলিয়ে তিনি ভোটারদের সামনে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আখ্যান তুলে ধরেন। উখিয়ার কোটবাজারের জনসভায় শাহজাহান চৌধুরীকে নিজের ‘বড় ভাই’ আখ্যা দিয়ে তিনি উন্নয়নকে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করেন। এতে প্রচারণা কেবল দলীয় সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আস্থা ও সম্পর্কের রাজনৈতিক ভাষায় তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মহেশখালীর জনসভায় দেওয়া কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তিনি ঘোষণা দেন, দল সরকার গঠন করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দর, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। উপকূলীয় অর্থনীতিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে তিনি মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব সামনে আনেন।

 

এছাড়া মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, লবণ ও চিংড়ি চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বেড়িবাঁধ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের অঙ্গীকারও ছিল প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয়। এসব ইস্যু সরাসরি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ফলে প্রচারণা ছিল বাস্তবভিত্তিক এবং এলাকা-নির্ভর।
একই সঙ্গে আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করতেও তিনি সচেষ্ট ছিলেন। জনসভাগুলোতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উত্তরাধিকার এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন তিনি। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান এবং স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের জবাব দেন রাজনৈতিক ভাষায়। এতে কক্সবাজারের বহুমাত্রিক সামাজিক কাঠামোর মধ্যে একটি মধ্যপন্থী ও জাতীয়তাবাদী অবস্থান সামনে আসে, যা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

 

 

সালাহউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত বন্দিত্ব এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। দীর্ঘ সংগ্রামের বর্ণনা এবং গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি ভোটকে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেন। “১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে জনশক্তিতে রূপান্তর” করার যে অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেন, তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতীকী ভাষ্য হিসেবে তরুণ ভোটারদের মাঝেও সাড়া ফেলে। জেন-জি প্রজন্মের রাজনৈতিক আগ্রহকে সংগঠিত সমর্থনে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে তার প্রচারণায়।

 

কক্সবাজারের চারটি আসনে বিএনপির বিজয়ের পেছনে আরও কিছু বিষয় কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। প্রার্থী নির্বাচনে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক ঐক্য, উন্নয়ন ইস্যুকে সামনে রেখে সমন্বিত বার্তা প্রদান এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে কৌশলে কাজে লাগানো সব মিলিয়ে একটি সুসংগঠিত নির্বাচন পরিচালনার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
উপকূলীয় উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা ভোটারদের কাছে প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে এই বিপুল সাফল্যের সঙ্গে প্রত্যাশার মাত্রাও বেড়েছে বহুগুণ। সেতু নির্মাণ, বন্দর সম্প্রসারণ, কৃষি ও মৎস্যখাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, ভূমি ও পুনর্বাসন সমস্যা সমাধান এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে জনসমর্থনের স্থায়িত্ব।

 

কক্সবাজারের চারটি আসনে বিএনপির বিজয় তাই কেবল নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়; এটি উন্নয়ন-রাজনীতির একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্রও বটে। ভোটের মাঠে যে আস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে প্রতিশ্রুত উন্নয়ন দ্রুত দৃশ্যমান করতে হবে। উপকূলীয় এই জেলাকে যদি সত্যিই সমুদ্র অর্থনীতি, পর্যটন এবং শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে এবারের বিজয় দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভিত্তিতে রূপ নেবে। আর সে যাত্রাপথে কক্সবাজারে ‘সালাহউদ্দিন ফ্যাক্টর’ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে এখন আর কোনো দ্বিধা নেই।

 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে শাহজাহান চৌধুরী পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘বসন্তে’ বিএনপির বাজিমাত

প্রকাশের সময় : ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

কক্সবাজার :

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভূমিধস বিজয় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে জাতীয় ফলাফলের ভেতরে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের ফল বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। উপকূলীয় এই জেলায় বিএনপির একচেটিয়া সাফল্যের পেছনে যেমন ছিল সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, তেমনি ছিল সুসংগঠিত প্রচারণা, উন্নয়নকেন্দ্রিক অঙ্গীকার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ-এর ধারাবাহিক জনসভা ও সরাসরি জনসংযোগ।

 

স্থানীয় রাজনীতিতে এবারের নির্বাচনে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কৌশলী বার্তা, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ভোটের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। উখিয়া-টেকনাফ থেকে মহেশখালী-কুতুবদিয়া, সদর-রামু হয়ে চকরিয়া-পেকুয়া প্রতিটি আসনেই নির্বাচনের আগে বড় পরিসরের পথসভা ও জনসমাবেশ করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। এসব সমাবেশে তার বক্তব্য ছিল আবেগ, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার বাস্তবসম্মত সমন্বয়।

 

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি এবং উন্নয়ন-রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার সব মিলিয়ে তিনি ভোটারদের সামনে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আখ্যান তুলে ধরেন। উখিয়ার কোটবাজারের জনসভায় শাহজাহান চৌধুরীকে নিজের ‘বড় ভাই’ আখ্যা দিয়ে তিনি উন্নয়নকে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করেন। এতে প্রচারণা কেবল দলীয় সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আস্থা ও সম্পর্কের রাজনৈতিক ভাষায় তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মহেশখালীর জনসভায় দেওয়া কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তিনি ঘোষণা দেন, দল সরকার গঠন করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দর, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। উপকূলীয় অর্থনীতিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে তিনি মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব সামনে আনেন।

 

এছাড়া মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, লবণ ও চিংড়ি চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বেড়িবাঁধ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের অঙ্গীকারও ছিল প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয়। এসব ইস্যু সরাসরি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ফলে প্রচারণা ছিল বাস্তবভিত্তিক এবং এলাকা-নির্ভর।
একই সঙ্গে আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করতেও তিনি সচেষ্ট ছিলেন। জনসভাগুলোতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উত্তরাধিকার এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন তিনি। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান এবং স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের জবাব দেন রাজনৈতিক ভাষায়। এতে কক্সবাজারের বহুমাত্রিক সামাজিক কাঠামোর মধ্যে একটি মধ্যপন্থী ও জাতীয়তাবাদী অবস্থান সামনে আসে, যা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

 

 

সালাহউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত বন্দিত্ব এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। দীর্ঘ সংগ্রামের বর্ণনা এবং গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি ভোটকে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেন। “১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে জনশক্তিতে রূপান্তর” করার যে অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেন, তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতীকী ভাষ্য হিসেবে তরুণ ভোটারদের মাঝেও সাড়া ফেলে। জেন-জি প্রজন্মের রাজনৈতিক আগ্রহকে সংগঠিত সমর্থনে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে তার প্রচারণায়।

 

কক্সবাজারের চারটি আসনে বিএনপির বিজয়ের পেছনে আরও কিছু বিষয় কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। প্রার্থী নির্বাচনে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক ঐক্য, উন্নয়ন ইস্যুকে সামনে রেখে সমন্বিত বার্তা প্রদান এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে কৌশলে কাজে লাগানো সব মিলিয়ে একটি সুসংগঠিত নির্বাচন পরিচালনার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
উপকূলীয় উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা ভোটারদের কাছে প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে এই বিপুল সাফল্যের সঙ্গে প্রত্যাশার মাত্রাও বেড়েছে বহুগুণ। সেতু নির্মাণ, বন্দর সম্প্রসারণ, কৃষি ও মৎস্যখাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, ভূমি ও পুনর্বাসন সমস্যা সমাধান এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে জনসমর্থনের স্থায়িত্ব।

 

কক্সবাজারের চারটি আসনে বিএনপির বিজয় তাই কেবল নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়; এটি উন্নয়ন-রাজনীতির একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্রও বটে। ভোটের মাঠে যে আস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে প্রতিশ্রুত উন্নয়ন দ্রুত দৃশ্যমান করতে হবে। উপকূলীয় এই জেলাকে যদি সত্যিই সমুদ্র অর্থনীতি, পর্যটন এবং শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে এবারের বিজয় দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভিত্তিতে রূপ নেবে। আর সে যাত্রাপথে কক্সবাজারে ‘সালাহউদ্দিন ফ্যাক্টর’ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে এখন আর কোনো দ্বিধা নেই।

 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে শাহজাহান চৌধুরী পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।