, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে সেলাই প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উদ্বোধন করলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী দাদার বাড়ি এসে নিখোঁজ, ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে মঈন খান-পার্থসহ পাঁচজন মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নৌকা ভ্রমণ জানারুল ইসলাম সভাপতি, কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক ১০ বছর পর আমলা সদরপুর মাইক্রো স্ট্যান্ডে নতুন কমিটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, জব্দ সাড়ে ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেট কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপন মিরপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী টেকসই উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-দৌলতপুর সড়কের আল্লারদর্গা অংশে ড্রেনসহ রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন স্মৃতি হারানোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানসিক ক্ষত: ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেশিয়া

ঢাকার কোলাহলে একফালি নিরবতা: ফুলার রোড।

  • প্রকাশের সময় : ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৪ পড়া হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত


 

প্রতিবেদন : সানজিদা আক্তার সিজা


 

ঢাকার বুকেও কিছু রাস্তা আছে, যেগুলো হাঁটার জন্য আদর্শ। শুধু হাঁটার জন্য। ফুলার রোড ঠিক তেমনই। হইচইয়ের শহরে একটা নিঃশব্দ গলি, যেখানে হাঁটলে মনে হয়—সময় একটু ধীর হয়ে গেছে।

 

 

 

 

সায়েন্স ল্যাবের দিক থেকে আসলে নিউমার্কেটের কোলাহল পেরিয়ে হঠাৎ নিঃশব্দ এক গলিতে প্রবেশ করা যায়।। রাস্তার এক পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি গুলো—ইংরেজি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান। আরেক পাশে কালচে-ধূসর, শীতল দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিল—ঢাকা শহরে যেটুকু “ব্রিটিশ ঐতিহ্যের নিঃশ্বাস” এখনও রয়ে গেছে, তার মৃদু ছোঁয়া যেন এ পথেই সবচেয়ে বেশি।

 

 

 

 

 

ফুলার রোডে হাঁটলে প্রথমেই যে বিষয়টা চোখে পড়ে, তা হলো ছায়া। বিশাল গাছগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, যেন দিনের আলোও নিঃশব্দ হয়ে আসে এখানে। দেয়ালের পাশ ঘেঁষে কেউ কেউ বসে থাকেন একা একা, কেউ বই পড়েন, কেউ খালি তাকিয়ে থাকেন।

 

 

 

 

এখানে দোকান নেই। নেই খাবারের কোলাহল। বরং ছাত্রদের ছোট ছোট দল, মাঝে মাঝে কিছু বিদেশি, যারা হয়তো ব্রিটিশ কাউন্সিলে এসেছে—আর সেই পথেই হয়তো একটু হেঁটে নিচ্ছে একটুখানি ঢাকা। মাটি এখানে শুষ্ক নয়, আর পায়ে পড়ে এমন ধুলো নেই, যা হাঁটাকে ব্যস্ত করে তোলে। বরং হাঁটা মানেই ভাবনা, এক ধরনের নিরবতা, যেটা সচেতনভাবে কেউ কেউ খুঁজে বেড়ায় এই শহরে।

ফুলার রোড কোনো পর্যটনকেন্দ্র না, না কোনো বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু যারা হাঁটে, তারা জানে—এই রাস্তাটাও একধরনের ইতিহাস। দেয়ালের গায়ে লেগে থাকা পোস্টারগুলো, ঘাসের ওপর বসে থাকা একাকী কেউ, কিংবা দূরে ঝুপ করে পড়ে যাওয়া বিকেলবেলা—সবকিছু মিলে এক ধরনের নিজস্ব সৌন্দর্য।

 

ফুলার রোডে দাঁড়ালে বোঝা যায়, ঢাকা আসলে এখনো পুরোপুরি যান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি। এখনো কিছু রাস্তা আছে, যেখানে হেঁটে গেলে মন একটু ঠাণ্ডা হয়।

 

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ার মিরপুরে সেলাই প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উদ্বোধন করলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী

ঢাকার কোলাহলে একফালি নিরবতা: ফুলার রোড।

প্রকাশের সময় : ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

ছবি : সংগৃহীত


 

প্রতিবেদন : সানজিদা আক্তার সিজা


 

ঢাকার বুকেও কিছু রাস্তা আছে, যেগুলো হাঁটার জন্য আদর্শ। শুধু হাঁটার জন্য। ফুলার রোড ঠিক তেমনই। হইচইয়ের শহরে একটা নিঃশব্দ গলি, যেখানে হাঁটলে মনে হয়—সময় একটু ধীর হয়ে গেছে।

 

 

 

 

সায়েন্স ল্যাবের দিক থেকে আসলে নিউমার্কেটের কোলাহল পেরিয়ে হঠাৎ নিঃশব্দ এক গলিতে প্রবেশ করা যায়।। রাস্তার এক পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি গুলো—ইংরেজি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান। আরেক পাশে কালচে-ধূসর, শীতল দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিল—ঢাকা শহরে যেটুকু “ব্রিটিশ ঐতিহ্যের নিঃশ্বাস” এখনও রয়ে গেছে, তার মৃদু ছোঁয়া যেন এ পথেই সবচেয়ে বেশি।

 

 

 

 

 

ফুলার রোডে হাঁটলে প্রথমেই যে বিষয়টা চোখে পড়ে, তা হলো ছায়া। বিশাল গাছগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, যেন দিনের আলোও নিঃশব্দ হয়ে আসে এখানে। দেয়ালের পাশ ঘেঁষে কেউ কেউ বসে থাকেন একা একা, কেউ বই পড়েন, কেউ খালি তাকিয়ে থাকেন।

 

 

 

 

এখানে দোকান নেই। নেই খাবারের কোলাহল। বরং ছাত্রদের ছোট ছোট দল, মাঝে মাঝে কিছু বিদেশি, যারা হয়তো ব্রিটিশ কাউন্সিলে এসেছে—আর সেই পথেই হয়তো একটু হেঁটে নিচ্ছে একটুখানি ঢাকা। মাটি এখানে শুষ্ক নয়, আর পায়ে পড়ে এমন ধুলো নেই, যা হাঁটাকে ব্যস্ত করে তোলে। বরং হাঁটা মানেই ভাবনা, এক ধরনের নিরবতা, যেটা সচেতনভাবে কেউ কেউ খুঁজে বেড়ায় এই শহরে।

ফুলার রোড কোনো পর্যটনকেন্দ্র না, না কোনো বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু যারা হাঁটে, তারা জানে—এই রাস্তাটাও একধরনের ইতিহাস। দেয়ালের গায়ে লেগে থাকা পোস্টারগুলো, ঘাসের ওপর বসে থাকা একাকী কেউ, কিংবা দূরে ঝুপ করে পড়ে যাওয়া বিকেলবেলা—সবকিছু মিলে এক ধরনের নিজস্ব সৌন্দর্য।

 

ফুলার রোডে দাঁড়ালে বোঝা যায়, ঢাকা আসলে এখনো পুরোপুরি যান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি। এখনো কিছু রাস্তা আছে, যেখানে হেঁটে গেলে মন একটু ঠাণ্ডা হয়।