, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

উত্তর ধর্মপুর এবং তালবাড়িয়ার মানুষের চরম দুর্ভোগ, এক বছরেও সংস্কার হয়নি বন্যা কবলিত ভাঙা রাস্তা

  • প্রকাশের সময় : ১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৯ পড়া হয়েছে

 

মাজহারুল ইসলাম অন্তর , ফেনী প্রতিনিধি


 

ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের গজারিয়া চড়া সংলগ্ন দক্ষিণ তালবাড়িয়া ও উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মধ্যকার সংযোগ সড়কটি ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের চাপে রাস্তার একাংশ সম্পূর্ণ নদীস্রোতে চলে যায়।

 

 

 

 

দীর্ঘ এক বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটির সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে দুই গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুমে ও রাতে এই পথ দিয়ে চলাচল এক কথায় জীবনঝুঁকির শামিল। শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর এবং রোগীদের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত এখন একপ্রকার আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও কেউ বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেননি। রাস্তার ভাঙা অংশে ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও তার পাশে কোন রকম সতর্কতা চিহ্ন, বাঁশ বা ব্যারিকেড পর্যন্ত নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আবুল হাসেম বলেন, “প্রায় সময়ই ছোটরা পড়ে যায়, বাইক আর সাইকেল গিয়ে ফাঁদের মতো জায়গায় আটকে যায়। আমরা অনেকবার বলেছি কিন্তু কেউ এসে দেখেও না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত না হওয়ায় রাস্তাটির বাকি অংশও এখন হুমকির মুখে। নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং তা প্রতিদিনই বিস্তৃত হচ্ছে। খালের পাশ ঘেঁষে হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে কাদামাটি তৈরি হচ্ছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উক্ত ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মোঃ হানিফ সওদাগর বলেন, “বন্যার পর আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। তারা সার্ভে করে গেছে কাজের ব্যবস্থা করবে বলেছে। তবে প্রকল্প অনুমোদন এখনো হয়নি। আশা করছি, নতুন অর্থবছরের শুরুতে কাজ শুরু হবে।”

 

 

 

 

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিষয়ে তীব্র অসন্তুষ্ট। তারা বলছেন, প্রতিবছর নতুন অর্থবছরের আশ্বাসে বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। রাস্তা ভেঙে পড়ে যাওয়ার পরও একটি অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থাটা পর্যন্ত কেউ করেনি। এমনকি মিডিয়াতেও বিষয়টি তেমনভাবে উঠে আসেনি।

 

স্থানীয় একজন স্বেচ্ছাসেবক হোসেন মোহাম্মদ সাদ্দাম জানান, “২৪ এর বন্যার ফলে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধিতে পানি তাঁর সঠিক গতিপথ নির্ণয় করতে না পেরে,বাজারের পাশে বেশ কিছু অংশে সড়কের ভাঙন দেখা দেয়।এবং তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং ধীরে ধীরে যানবাহন যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।আমরা বিভিন্ন ছাত্র-প্রতিনিধি,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসন কেও বিভিন্ন মাধ্যমে অবগতি করার পর ও এর সুষ্ঠু কোনো সমাধান হয়নি।”

 

এ অবস্থায় এলাকার মানুষ দ্রুত রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং পাশে প্রয়োজনে সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দুই গ্রামের হাজারো মানুষ আর দুর্ভোগে না পড়ে এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আগেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়।

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

উত্তর ধর্মপুর এবং তালবাড়িয়ার মানুষের চরম দুর্ভোগ, এক বছরেও সংস্কার হয়নি বন্যা কবলিত ভাঙা রাস্তা

প্রকাশের সময় : ১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

 

মাজহারুল ইসলাম অন্তর , ফেনী প্রতিনিধি


 

ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের গজারিয়া চড়া সংলগ্ন দক্ষিণ তালবাড়িয়া ও উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মধ্যকার সংযোগ সড়কটি ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের চাপে রাস্তার একাংশ সম্পূর্ণ নদীস্রোতে চলে যায়।

 

 

 

 

দীর্ঘ এক বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটির সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে দুই গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুমে ও রাতে এই পথ দিয়ে চলাচল এক কথায় জীবনঝুঁকির শামিল। শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর এবং রোগীদের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত এখন একপ্রকার আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও কেউ বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেননি। রাস্তার ভাঙা অংশে ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও তার পাশে কোন রকম সতর্কতা চিহ্ন, বাঁশ বা ব্যারিকেড পর্যন্ত নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আবুল হাসেম বলেন, “প্রায় সময়ই ছোটরা পড়ে যায়, বাইক আর সাইকেল গিয়ে ফাঁদের মতো জায়গায় আটকে যায়। আমরা অনেকবার বলেছি কিন্তু কেউ এসে দেখেও না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত না হওয়ায় রাস্তাটির বাকি অংশও এখন হুমকির মুখে। নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং তা প্রতিদিনই বিস্তৃত হচ্ছে। খালের পাশ ঘেঁষে হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে কাদামাটি তৈরি হচ্ছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উক্ত ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মোঃ হানিফ সওদাগর বলেন, “বন্যার পর আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। তারা সার্ভে করে গেছে কাজের ব্যবস্থা করবে বলেছে। তবে প্রকল্প অনুমোদন এখনো হয়নি। আশা করছি, নতুন অর্থবছরের শুরুতে কাজ শুরু হবে।”

 

 

 

 

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিষয়ে তীব্র অসন্তুষ্ট। তারা বলছেন, প্রতিবছর নতুন অর্থবছরের আশ্বাসে বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। রাস্তা ভেঙে পড়ে যাওয়ার পরও একটি অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থাটা পর্যন্ত কেউ করেনি। এমনকি মিডিয়াতেও বিষয়টি তেমনভাবে উঠে আসেনি।

 

স্থানীয় একজন স্বেচ্ছাসেবক হোসেন মোহাম্মদ সাদ্দাম জানান, “২৪ এর বন্যার ফলে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধিতে পানি তাঁর সঠিক গতিপথ নির্ণয় করতে না পেরে,বাজারের পাশে বেশ কিছু অংশে সড়কের ভাঙন দেখা দেয়।এবং তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং ধীরে ধীরে যানবাহন যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।আমরা বিভিন্ন ছাত্র-প্রতিনিধি,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসন কেও বিভিন্ন মাধ্যমে অবগতি করার পর ও এর সুষ্ঠু কোনো সমাধান হয়নি।”

 

এ অবস্থায় এলাকার মানুষ দ্রুত রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং পাশে প্রয়োজনে সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দুই গ্রামের হাজারো মানুষ আর দুর্ভোগে না পড়ে এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আগেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়।