, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী প্রথম স্ত্রী সহ গ্রেফতার-৩ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের তিন দপ্তরে চুরির চেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এক গরু ব্যবসায়ীর গরু ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  কুষ্টিয়ার মিরপুরে আন্তজার্তিক নারী দিবস পালিত পানছড়িতে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ আমলা-সদরপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত।  কুষ্টিয়ার মিরপুরে জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

মেঘনার আতঙ্ক আর উৎকন্ঠার এক সংগ্রামী জীবন রামদাসপুর বাসীর ।

  • প্রকাশের সময় : ০২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ৫২ পড়া হয়েছে

 

ভোলা প্রতিনিধি


 

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের তিন শত বছরের পুরনো জনপদ দ্বীপ জেলা,ভোলা। আর এ দ্বীপের মধ্যে আরো একটি দ্বীপ সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪শত বছরের প্রাচীণ জনপদ রামদাসপুর।

 

 

 

 

জেলার মূল ভূ -খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রাচীন জনপদের নামই রামদাসপুর।
এ জনপদে জন্ম নেওয়া আলোকিত সন্তানরা দেশের বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ পদে কমরর্ত থাকলেও তারা এক অন্য পুরীর বাসীন্দা।

জেলার মধ্যে শিক্ষায় এগিয়ে ছিলেন রামদাসপুরের সন্তানরা৷ রাক্ষুসে মেঘনার ভাঙ্গণের কবলে প্রাচীন ে জনপদ আজ বীলিনের পথে। দির্ঘ ৩৫ বছরে এ জনপদের মানচিত্র কুড়ে খেয়েছে মেঘনা।
সংকুচিত করেছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের রামদাসপুরকে। , তবুও মেঘনার সাথে সংগ্রাম করে তার তীরে তীরেই সংগ্রামী জীবন কাটান এ জনপদের বাসীন্দারা।
একসময় জনপদটি ছিলো চিংড়ি মাছ উৎপাদন সহ শস্য ভান্ডারের এক লীলাভূমি। দির্ঘ ৩৫ বছরে সরকারি পদক্ষেপের আস্বাসে আস্বাসে বিলীনের দ্বারপ্রান্তে পৌছুলেও বাস্তবায়নের অবহেলায় রক্ষা করা যায়নি রামদাসপুর কে।
তবে আশার আলো ফুটেনি আর বিচ্ছিন্ন এই রামদাসপুর বাসীর।

পুরানো এ জনপদকে মেঘনার গ্রাস থেকে রক্ষায় কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় নি কোন সরকার।
এখানকার ভিটে মাটি হাড়ানো সূর্য সন্তানরা তাদের স্মৃতিকে আগলে রাখতে বছরের বড় বড় উৎসবের ছুটিতে ভীড় জমান এ জন্মভূমিতে।
আয়েজন করে বর্ণাড্য এক মিলন মেলার। আয়োজন হাসি গানে আর বাহারী খানা পিনায় খুঁজে পান পুরনো প্রতিবেশীকে, আনন্দ ভাগাভাগি শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে খুঁজে ফিরেন প্রাণের গাঁয়ের শৈশব স্মৃতি।
গেলো বছর পৌষে মিলন মেলা থেকে ঘোষিত মানব বন্ধনে রামদাসপুরকে রক্ষার দাবী তুললেও তার কার্যত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্র কৌশলী জিয়াউর রহমান আরিফ বলছেন এ বছর রামদাসপুরকে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তাব করেছি, অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ আসলেই কাজ শুরু হবে। দ্রুতার সাথে রামদাসপুরকে মেঘনার কড়াল ঘ্রাস থেকে রক্ষার আস্বাস প্রদান করেন এই কর্মকর্তা।

 

আজ ৩ রা আগষ্ট প্রাচীন জনপদের এই রামদাসপুর গিয়ে জানাগেছে এখনো প্রায় ৪ হাজারের ও বেশি বাসীন্দা রয়েছে এখানে। এখানকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে দুটু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ ভিত্তিক মক্তব খানা থাকলেও নেই কোন চিকিৎসা ব্যাবস্থা।

 

গ্রীষ্মের শেষের দিকটা আসলেই আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় দিন কাটে এখান বাসীন্দাদের। মেঘনায় জোয়ার আসলেই প্লাবিত হয় এলাকাটি,। প্লাবনের সাথে সংগ্রাম করে বসবাস করতে বাঁশ কিংবা সুপারি গাছের খুঁটিতে মাচাং তৈরি করে তার উপরে নির্মান করা হয় এখান মানুষের মাথা গুঁজার ঝুপড়ি ঘর।

 

 

 

 

সম্প্রতি অতি জোয়ারে পুরো রামদাসের রাস্তাঘাট ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। এখানকার মানুষের দূর্ভোগ এখন চরমে উঠেছে,তবে এখন আর এখানে মধ্যবিত্তরা কেউ বসবাস করেন না, এখানে নিন্মবিত্তরাই রয়েছেন।
নিন্মবিত্তের এই পল্লীর অনেকের বাড়ী ঘরের ছালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে সম্প্রতি হানা দেয়া জলোচ্ছ্বাসে, তাই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
রূপাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, আমার চোখের সামনেই বিলীন হয়েছে ে জনপদের কয়েক মাইল আবাসস্থল। বিলীন হয়েছে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
আমার স্কুলটি এ এলাকার ভোটের কেন্দ্র, স্কুলটির ৩০ গজ দুরেই মেঘনার তীর, দ্রুতই রক্ষা করার পদক্ষেপ না নিলে বিলীন হবে স্কুলটি, আর তখন শিক্ষার আলো বঞ্চিত হবে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা মিরাজ জানান আমাদের এখান থেকে ভয়াল মেঘনা পাড়ি দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় প্রায় ৪০ জন ছাত্রী, তারা নদীর তীরে গিয়ে পোমাক পরিবর্তন করে ইউনিফর্ম পরে খেয়া পার হয়।যদিও সকল রাস্তা জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত একটি রাস্তা দ্রুতই মেরামত জরুরী।

 

এ জনপদেরই কৃতি সন্তান জেলা কৃষকদল সাধারণ সম্পাদক ও ওবায়েদুল হক বাবুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসনাত তসলিম বলেন নদীভাঙ্গণরোধে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি নিয়ে কয়েকবার পরিদর্শন করিয়েছি তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে আমরা বিধ্বস্ত হওয়া রাস্তাগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

 

জামালগঞ্জে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ

মেঘনার আতঙ্ক আর উৎকন্ঠার এক সংগ্রামী জীবন রামদাসপুর বাসীর ।

প্রকাশের সময় : ০২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

 

ভোলা প্রতিনিধি


 

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের তিন শত বছরের পুরনো জনপদ দ্বীপ জেলা,ভোলা। আর এ দ্বীপের মধ্যে আরো একটি দ্বীপ সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪শত বছরের প্রাচীণ জনপদ রামদাসপুর।

 

 

 

 

জেলার মূল ভূ -খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রাচীন জনপদের নামই রামদাসপুর।
এ জনপদে জন্ম নেওয়া আলোকিত সন্তানরা দেশের বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ পদে কমরর্ত থাকলেও তারা এক অন্য পুরীর বাসীন্দা।

জেলার মধ্যে শিক্ষায় এগিয়ে ছিলেন রামদাসপুরের সন্তানরা৷ রাক্ষুসে মেঘনার ভাঙ্গণের কবলে প্রাচীন ে জনপদ আজ বীলিনের পথে। দির্ঘ ৩৫ বছরে এ জনপদের মানচিত্র কুড়ে খেয়েছে মেঘনা।
সংকুচিত করেছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের রামদাসপুরকে। , তবুও মেঘনার সাথে সংগ্রাম করে তার তীরে তীরেই সংগ্রামী জীবন কাটান এ জনপদের বাসীন্দারা।
একসময় জনপদটি ছিলো চিংড়ি মাছ উৎপাদন সহ শস্য ভান্ডারের এক লীলাভূমি। দির্ঘ ৩৫ বছরে সরকারি পদক্ষেপের আস্বাসে আস্বাসে বিলীনের দ্বারপ্রান্তে পৌছুলেও বাস্তবায়নের অবহেলায় রক্ষা করা যায়নি রামদাসপুর কে।
তবে আশার আলো ফুটেনি আর বিচ্ছিন্ন এই রামদাসপুর বাসীর।

পুরানো এ জনপদকে মেঘনার গ্রাস থেকে রক্ষায় কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় নি কোন সরকার।
এখানকার ভিটে মাটি হাড়ানো সূর্য সন্তানরা তাদের স্মৃতিকে আগলে রাখতে বছরের বড় বড় উৎসবের ছুটিতে ভীড় জমান এ জন্মভূমিতে।
আয়েজন করে বর্ণাড্য এক মিলন মেলার। আয়োজন হাসি গানে আর বাহারী খানা পিনায় খুঁজে পান পুরনো প্রতিবেশীকে, আনন্দ ভাগাভাগি শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে খুঁজে ফিরেন প্রাণের গাঁয়ের শৈশব স্মৃতি।
গেলো বছর পৌষে মিলন মেলা থেকে ঘোষিত মানব বন্ধনে রামদাসপুরকে রক্ষার দাবী তুললেও তার কার্যত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্র কৌশলী জিয়াউর রহমান আরিফ বলছেন এ বছর রামদাসপুরকে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তাব করেছি, অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ আসলেই কাজ শুরু হবে। দ্রুতার সাথে রামদাসপুরকে মেঘনার কড়াল ঘ্রাস থেকে রক্ষার আস্বাস প্রদান করেন এই কর্মকর্তা।

 

আজ ৩ রা আগষ্ট প্রাচীন জনপদের এই রামদাসপুর গিয়ে জানাগেছে এখনো প্রায় ৪ হাজারের ও বেশি বাসীন্দা রয়েছে এখানে। এখানকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে দুটু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ ভিত্তিক মক্তব খানা থাকলেও নেই কোন চিকিৎসা ব্যাবস্থা।

 

গ্রীষ্মের শেষের দিকটা আসলেই আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় দিন কাটে এখান বাসীন্দাদের। মেঘনায় জোয়ার আসলেই প্লাবিত হয় এলাকাটি,। প্লাবনের সাথে সংগ্রাম করে বসবাস করতে বাঁশ কিংবা সুপারি গাছের খুঁটিতে মাচাং তৈরি করে তার উপরে নির্মান করা হয় এখান মানুষের মাথা গুঁজার ঝুপড়ি ঘর।

 

 

 

 

সম্প্রতি অতি জোয়ারে পুরো রামদাসের রাস্তাঘাট ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। এখানকার মানুষের দূর্ভোগ এখন চরমে উঠেছে,তবে এখন আর এখানে মধ্যবিত্তরা কেউ বসবাস করেন না, এখানে নিন্মবিত্তরাই রয়েছেন।
নিন্মবিত্তের এই পল্লীর অনেকের বাড়ী ঘরের ছালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে সম্প্রতি হানা দেয়া জলোচ্ছ্বাসে, তাই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
রূপাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, আমার চোখের সামনেই বিলীন হয়েছে ে জনপদের কয়েক মাইল আবাসস্থল। বিলীন হয়েছে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
আমার স্কুলটি এ এলাকার ভোটের কেন্দ্র, স্কুলটির ৩০ গজ দুরেই মেঘনার তীর, দ্রুতই রক্ষা করার পদক্ষেপ না নিলে বিলীন হবে স্কুলটি, আর তখন শিক্ষার আলো বঞ্চিত হবে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতা মিরাজ জানান আমাদের এখান থেকে ভয়াল মেঘনা পাড়ি দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় প্রায় ৪০ জন ছাত্রী, তারা নদীর তীরে গিয়ে পোমাক পরিবর্তন করে ইউনিফর্ম পরে খেয়া পার হয়।যদিও সকল রাস্তা জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত একটি রাস্তা দ্রুতই মেরামত জরুরী।

 

এ জনপদেরই কৃতি সন্তান জেলা কৃষকদল সাধারণ সম্পাদক ও ওবায়েদুল হক বাবুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসনাত তসলিম বলেন নদীভাঙ্গণরোধে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি নিয়ে কয়েকবার পরিদর্শন করিয়েছি তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে আমরা বিধ্বস্ত হওয়া রাস্তাগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।