মার্কেটিং অফিসারদের টার্গেট, পরিশ্রম, অবহেলা আর মাস শেষে হতাশা বেড়েই চলছে
প্রকাশের সময় :
১০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
৬৭
পড়া হয়েছে
মার্কেটিং অফিসারদের টার্গেট, পরিশ্রম, অবহেলা আর মাস শেষে হতাশা বেড়েই চলছে
মোঃমতিউর রহমান,বিশেষ প্রতিনিধি মার্কেটিং পেশা শুনতে যতটা গ্ল্যামারাস, বাস্তবে ঠিক ততটাই কঠিন আর জটিল। সকাল থেকে রাত—প্রচারণা, মিটিং, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট, রিপোর্ট, টার্গেট, আবার সেই টার্গেট পূরণের পেছনে ছুটে চলা—এই নিয়েই একজন মার্কেটিং অফিসারের দৈনন্দিন জীবন। অথচ মাস শেষে যা পান, তা শুধু হতাশাই বাড়ায়। একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জুনিয়র মার্কেটিং অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, "ভোর ৭টায় বের হই, অনেক সময় বাড়ি ফিরতে রাত ১০টা বেজে যায়। সারা দিন হেঁটে হেঁটে ক্লায়েন্ট দেখা, রিপোর্ট তৈরি, বসের কাছে রিপোর্টিং… সব করেও মাস শেষে যা বেতন পাই, তাতে বাড়ি চালানোই মুশকিল।" পরিশ্রমের কোনো মূল্য নেই? মার্কেটিং বিভাগের লোকদের মূল কাজ প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করা। অথচ তারা নিজেরাই থেকে যান সবচেয়ে কম মূল্যায়িত স্তরে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তাদের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, নেই ওভারটাইম ভাতা, নেই স্বাস্থ্যসুরক্ষা বা মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থা। বসের অতিরিক্ত চাপ ও "টার্গেট প্যাড়া" টার্গেট না পূরণ হলেই বসের রূঢ় ব্যবহার, খোঁটা, হুমকি—সবই যেন নিয়মিত রুটিন। অনেক অফিসারই বলেন, বসের সামনে দাঁড়ানো মানেই 'কেন পারলে না?' প্রশ্নে অপমানিত হওয়া। একজন অভিজ্ঞ মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ প্রতিদিনের খবর কে জানান যে, "বস শুধু রেজাল্ট চায়, কিভাবে সেটা সম্ভব, সেটার খবর রাখে না। অনেকে এক্সট্রা কাজ করে, পকেট খরচ করে ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করে, অথচ অফিস বুঝে না।" আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপ বেতন কাঠামো অধিকাংশ সময়েই বাজারের চেয়ে পিছিয়ে থাকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে পার্টটাইম কাজ বা ফ্রিল্যান্সিং করে সংসার চালান। এই অনিশ্চয়তা থেকে মানসিক অবসাদ, আত্মবিশ্বাসে ভাটা, এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনও শুরু হয়। চাই ন্যায্য মূল্যায়ন ও নীতিমালার সংস্কার বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কর্পোরেট সেক্টরে বিশেষ করে মার্কেটিং পেশাজীবীদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন নীতিমালা, ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং টার্গেটের নামে শোষণ বন্ধে নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এখন সময় এসেছে—এই “চুপচাপ সহ্য করে যাও” সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মার্কেটিং অফিসারদের পরিশ্রমের ন্যায্য স্বীকৃতি দেওয়ার। কারণ, একটি প্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ড তারা, আর অবহেলিত মেরুদণ্ড কখনও স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।
মোঃমতিউর রহমান,বিশেষ প্রতিনিধি
মার্কেটিং পেশা শুনতে যতটা গ্ল্যামারাস, বাস্তবে ঠিক ততটাই কঠিন আর জটিল। সকাল থেকে রাত—প্রচারণা, মিটিং, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট, রিপোর্ট, টার্গেট, আবার সেই টার্গেট পূরণের পেছনে ছুটে চলা—এই নিয়েই একজন মার্কেটিং অফিসারের দৈনন্দিন জীবন। অথচ মাস শেষে যা পান, তা শুধু হতাশাই বাড়ায়।
একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জুনিয়র মার্কেটিং অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন,
“ভোর ৭টায় বের হই, অনেক সময় বাড়ি ফিরতে রাত ১০টা বেজে যায়। সারা দিন হেঁটে হেঁটে ক্লায়েন্ট দেখা, রিপোর্ট তৈরি, বসের কাছে রিপোর্টিং… সব করেও মাস শেষে যা বেতন পাই, তাতে বাড়ি চালানোই মুশকিল।”
পরিশ্রমের কোনো মূল্য নেই?
মার্কেটিং বিভাগের লোকদের মূল কাজ প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করা। অথচ তারা নিজেরাই থেকে যান সবচেয়ে কম মূল্যায়িত স্তরে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তাদের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, নেই ওভারটাইম ভাতা, নেই স্বাস্থ্যসুরক্ষা বা মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থা।
বসের অতিরিক্ত চাপ ও “টার্গেট প্যাড়া”
টার্গেট না পূরণ হলেই বসের রূঢ় ব্যবহার, খোঁটা, হুমকি—সবই যেন নিয়মিত রুটিন। অনেক অফিসারই বলেন, বসের সামনে দাঁড়ানো মানেই ‘কেন পারলে না?’ প্রশ্নে অপমানিত হওয়া।
একজন অভিজ্ঞ মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ প্রতিদিনের খবর কে জানান যে,
“বস শুধু রেজাল্ট চায়, কিভাবে সেটা সম্ভব, সেটার খবর রাখে না। অনেকে এক্সট্রা কাজ করে, পকেট খরচ করে ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করে, অথচ অফিস বুঝে না।”
আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপ
বেতন কাঠামো অধিকাংশ সময়েই বাজারের চেয়ে পিছিয়ে থাকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে পার্টটাইম কাজ বা ফ্রিল্যান্সিং করে সংসার চালান। এই অনিশ্চয়তা থেকে মানসিক অবসাদ, আত্মবিশ্বাসে ভাটা, এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনও শুরু হয়।
চাই ন্যায্য মূল্যায়ন ও নীতিমালার সংস্কার
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কর্পোরেট সেক্টরে বিশেষ করে মার্কেটিং পেশাজীবীদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন নীতিমালা, ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং টার্গেটের নামে শোষণ বন্ধে নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
এখন সময় এসেছে—এই “চুপচাপ সহ্য করে যাও” সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মার্কেটিং অফিসারদের পরিশ্রমের ন্যায্য স্বীকৃতি দেওয়ার। কারণ, একটি প্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ড তারা, আর অবহেলিত মেরুদণ্ড কখনও স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।