দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা ঠিক রাখতে ২০২৭ সালের জন্য ১৪ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সৌদি আরামকো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক)-এর কাছ থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) এই তেল কেনা হবে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আমদানিকৃত এই তেলের অর্থায়ন করবে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বাণিজ্য অর্থায়ন সংস্থা (আইটিএফসি)। এ আমদানির অর্থায়নের উৎস হিসেবে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বাণিজ্য অর্থায়ন সংস্থার (আইটিএফসি) ঋণের কথা বলা হয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ক্রুড অয়েল আমদানির প্রস্তাব করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্টের জন্য ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল’ ও ‘মারবান ক্রুড অয়েল’ প্রক্রিয়াজাত করা সবচেয়ে সাশ্রয়ী। অন্য কোনো দেশ থেকে এই মান নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় দীর্ঘদিনের চুক্তির অংশ হিসেবেই সরাসরি আমদানির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। একই বৈঠকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য বিপিসির পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দরপত্র প্রক্রিয়ার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিকে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিরও অনুমোদন দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে এই সার আমদানি করবে। এ জন্য ব্যয় হবে ৪২৭ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা কৃষি ভর্তুকি খাত থেকে পরিশোধ করা হবে।