ছবি সংগৃহীত
সানজিদা আক্তার সিজা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা দোয়েল চত্বর অনেকের চোখে হয়তো শুধু একটি মোড়।
কিন্তু যাঁরা হাঁটেন, দাঁড়ান, কিংবা বসে থাকেন এই চত্বরে—তাঁদের কাছে এটা এক জীবন্ত জীবনচিত্র।

চত্বরের মাঝে রাজসিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা দোয়েল পাখির ভাস্কর্যটা যেন পথিকদের জানিয়ে দেয়—তুমি এখন ঢুকলে এক অন্যরকম জগতে।
আর এই ভাস্কর্য ঘিরে, ফুটপাত জুড়ে যে জগৎ গড়ে উঠেছে, তা যেন ঢাকার কংক্রিট শহরে এক টুকরো দেশজ সৌন্দর্য।

দোয়েল চত্বরের দু’ধারে সারি সারি দোকান।
এখানে পাওয়া যায় মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, থালা, গ্লাস, পিরিচ, এমনকি ছোট ছোট সাদা-কাদামাটির বাটি—সবই হাতে গড়া, গ্রামবাংলার গন্ধ মাখানো।
পাশেই একেকটা দোকানে ঝুলছে মাটির বা কাঠের টব ভর্তি নানা জাতের গাছ—মানিপ্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট, ক্যাকটাস, তুলসী কিংবা পুঁইয়ের লতা। যেন শহরের ধুলাবালির মাঝে এক টুকরো সবুজ বাসা।
ছাত্রছাত্রীদের কেউ কেউ প্রতিদিনই একটু দাঁড়িয়ে দেখে যায়—নেবে কি একটা গাছ, হোস্টেলে জানালার ধারে রাখবে?

আরেক পাশে চোখ গেলে দেখা যাবে হস্তশিল্পে তৈরি নেকলেস, কানের দুল, হাতের চুড়ি, কাঠের চাবির রিং, ঝিনুকের টিকলি কিংবা পুঁতির মালা।
সবই হাতে বানানো, সবটাই স্বকীয়।
যেন প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে কোনো এক শিল্পীর দীর্ঘ সময় আর মনযোগ লেগে আছে।
কেউ কিনছে, কেউ শুধু দেখে যাচ্ছে, কেউ দরদাম করে আবার হেসে চলে যাচ্ছে—এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই মিলিয়ে গড়ে উঠেছে দোয়েল চত্বরের প্রাণ।
এখানে পলিথিনের ব্যাগে গাছ যায় এক হাতে, অন্য হাতে নিলো একটা মাটির প্লেট আর একটা কাঠের মালা।
এসব ছোট ছোট কেনাকাটার ভেতরেই জমে আছে বড়ো বড়ো শহুরে ক্লান্তি মুছে ফেলার আনন্দ।
দোয়েল চত্বর আসলে একটা জায়গা না—এটা একটা ছায়া, একটা গন্ধ, একটা স্পর্শ।
মাটির হাঁড়ির ছোঁয়ায়, সবুজ গাছের পাতায়, আর এক টুকরো কাঠের দুলে—ঢাকার ক্লান্ত দুপুরে একটু প্রাণ ফিরে আসে।