রিপোর্ট : মতিউর রহমান


 

বর্তমান সময়ে ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ সমাজের এক মারাত্মক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক ডিভোর্সের খবর আসছে, যা শুধু দুটি মানুষের সম্পর্কের বিচ্ছেদ নয়, বরং একটি পরিবার, এমনকি পুরো সমাজের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও বিশ্বাসের অভাব ডিভোর্সের অন্যতম বড় কারণ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, স্বার্থপরতা, পারিবারিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ এবং একক জীবনের প্রতি তরুণ-তরুণীদের আকর্ষণ এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

 

 

 

 

পরিণতি:
ডিভোর্সের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে সন্তানদের উপর। একটি সুস্থ মানসিক গঠনের জন্য যেখানে প্রয়োজন ভালোবাসা ও নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ, সেখানে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ শিশুদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। স্কুলে পারফরম্যান্স হ্রাস, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সম্পর্কভীতি দেখা দেয়।

এছাড়া, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই মানসিক বিষণ্ণতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক অসুবিধার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও করণীয়:

ডিভোর্স একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও এর সামাজিক প্রভাব অনস্বীকার্য। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই পরিবার, বন্ধু, এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

প্রথমত, বিয়ের পূর্বে যথাযথ মানসিক প্রস্তুতি ও পারিবারিক পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক সমস্যা সমাধানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু ও সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

 

 

চতুর্থত, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা।

ডিভোর্স শুধু একটি সম্পর্কের ইতি নয়; এটি একটি সমাজের সুস্থতা ও স্থিতিশীলতার হুমকির নাম। এখনই সময়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার — যাতে সম্পর্ক গুলো আরও দৃঢ় হয়, ভালোবাসা ও সহানুভূতির বন্ধন অটুট থাকে।