, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দাদার বাড়ি এসে নিখোঁজ, ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে মঈন খান-পার্থসহ পাঁচজন মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নৌকা ভ্রমণ জানারুল ইসলাম সভাপতি, কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক ১০ বছর পর আমলা সদরপুর মাইক্রো স্ট্যান্ডে নতুন কমিটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, জব্দ সাড়ে ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেট কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপন মিরপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী টেকসই উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-দৌলতপুর সড়কের আল্লারদর্গা অংশে ড্রেনসহ রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন স্মৃতি হারানোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানসিক ক্ষত: ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেশিয়া অবশেষে প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা

মোবাইল আসক্তি: নিঃশব্দে ধ্বংসের পথে তরুণ সমাজ,

  • প্রকাশের সময় : ১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • ৯১ পড়া হয়েছে

 

মতিউর রহমান,কিশোরগঞ্জ:


 

আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু এই প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কীভাবে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে মানসিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

 

গবেষণাটিতে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৬৫% তরুণ প্রতিদিন গড়ে ৭-১০ ঘণ্টা সময় মোবাইলে ব্যয় করছেন, যার বেশিরভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং এবং ভিডিও কনটেন্টে।

🎯 বাস্তব ঘটনা:

ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী রাকিব হাসান (ছদ্মনাম) ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তরুণ একাউন্ট অফিসার। করোনার সময় থেকে ঘরে বসে কাজের সুবিধায় মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েন। দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ইউটিউব ও ফেসবুকে কাটাতে শুরু করেন। আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে না পারায় তার চাকরি চলে যায়।

 

পরবর্তীতে একাধিক বিষণ্নতা, ঘুমের ব্যাঘাত, ও পিঠে ব্যথার মতো সমস্যায় ভুগতে থাকেন। অবশেষে, মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জানা যায়—তিনি “স্মার্টফোন অ্যাডিকশন ডিজঅর্ডার”-এ আক্রান্ত।

📉 মোবাইল আসক্তির কিছু ভয়াবহ প্রভাব:

🧠 মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস

🛌 ঘুমের সমস্যা ও অনিদ্রা

🤯 বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মেজাজ খারাপ

🧍 গোটা শরীরে ব্যথা ও চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণতা

👨‍👩‍👧‍👦 পারিবারিক ও সামাজিক দূরত্ব

📢 বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

 

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবা রহমান বলেন, “মোবাইলকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া না গেলেও সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করা, দিনের নির্দিষ্ট সময় ‘স্ক্রিন-ফ্রি’ রাখা, বই পড়া ও পরিবারকে সময় দেওয়া—এগুলো মোবাইল আসক্তি কমাতে সাহায্য করে।”

মোবাইল প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবন সহজ করেছে, তেমনি অসচেতন ব্যবহারে এটি পরিণত হচ্ছে এক নীরব ঘাতকে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া জরুরি—নয়তো ক্ষতি অনিবার্য।

জনপ্রিয়

দাদার বাড়ি এসে নিখোঁজ, ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ

মোবাইল আসক্তি: নিঃশব্দে ধ্বংসের পথে তরুণ সমাজ,

প্রকাশের সময় : ১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

মতিউর রহমান,কিশোরগঞ্জ:


 

আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু এই প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কীভাবে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে মানসিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

 

গবেষণাটিতে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৬৫% তরুণ প্রতিদিন গড়ে ৭-১০ ঘণ্টা সময় মোবাইলে ব্যয় করছেন, যার বেশিরভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং এবং ভিডিও কনটেন্টে।

🎯 বাস্তব ঘটনা:

ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী রাকিব হাসান (ছদ্মনাম) ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তরুণ একাউন্ট অফিসার। করোনার সময় থেকে ঘরে বসে কাজের সুবিধায় মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েন। দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ইউটিউব ও ফেসবুকে কাটাতে শুরু করেন। আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে না পারায় তার চাকরি চলে যায়।

 

পরবর্তীতে একাধিক বিষণ্নতা, ঘুমের ব্যাঘাত, ও পিঠে ব্যথার মতো সমস্যায় ভুগতে থাকেন। অবশেষে, মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জানা যায়—তিনি “স্মার্টফোন অ্যাডিকশন ডিজঅর্ডার”-এ আক্রান্ত।

📉 মোবাইল আসক্তির কিছু ভয়াবহ প্রভাব:

🧠 মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস

🛌 ঘুমের সমস্যা ও অনিদ্রা

🤯 বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মেজাজ খারাপ

🧍 গোটা শরীরে ব্যথা ও চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণতা

👨‍👩‍👧‍👦 পারিবারিক ও সামাজিক দূরত্ব

📢 বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

 

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবা রহমান বলেন, “মোবাইলকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া না গেলেও সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করা, দিনের নির্দিষ্ট সময় ‘স্ক্রিন-ফ্রি’ রাখা, বই পড়া ও পরিবারকে সময় দেওয়া—এগুলো মোবাইল আসক্তি কমাতে সাহায্য করে।”

মোবাইল প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবন সহজ করেছে, তেমনি অসচেতন ব্যবহারে এটি পরিণত হচ্ছে এক নীরব ঘাতকে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া জরুরি—নয়তো ক্ষতি অনিবার্য।