যেখানে নাম নয়, সুরেই চেনা যায় মানুষকে মেঘালয়ের রহস্যময় হুইসেল ভিলেজ কংথং
প্রকাশের সময় :
০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
১১৮
পড়া হয়েছে
যেখানে নাম নয়, সুরেই চেনা যায় মানুষকে মেঘালয়ের রহস্যময় হুইসেল ভিলেজ কংথং
লামিসা তাসনিম জুহা, বিশেষ প্রতিনিধি অপরূপ প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে আছে অদ্ভুত এক রোমাঞ্চকর গ্রাম,যেখানে মানুষের প্রথাগত নামের ঊর্ধ্বে প্রাধান্য পাচ্ছে সুরের ধ্বনি। যখন বিশ্বজুড়ে নাম দিয়ে মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হয়, তখন 'কংথং' গ্রামের বাসিন্দারা একে অপরকে ডাকেন শিসের ধ্বনিতে। ভারতের মেঘালয়ের সৌন্দর্যের মাঝে লুকিয়ে আছে অবিশ্বাস্য একটি গ্রাম 'কংথং', যা 'হুইসেল ভিলেজ' বা 'শিস দেওয়ার গ্রাম' নামে পরিচিত।এটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি হিলস জেলায় অবস্থিত। শিলং থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। ২০২১ সালে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (UNWTO) এই গ্রামটিকে 'সেরা পর্যটন গ্রাম' ক্যাটাগরিতে মনোনীত করেছিল। গ্রামটি এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখান থেকে গভীর খাদ ও সবুজ উপত্যকা দেখা যায়। এমন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে; এখানে যাতে কেউ উচ্চস্বরে চিৎকার না করে তাই 'সুর'' বা 'শিস' দেওয়ার প্রথা তৈরি হয়েছে। তাদের এই প্রথার নাম হলো 'জিংরওয়াই ইওবেই' এর মানে হলো "প্রথম পূর্বপুরুষ নারীর গান"। খাসি সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, তাই মা-ই সন্তানের এই 'সুরের নাম' এর স্রষ্টা, যা মাতৃত্বের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ।এটি কোনো শব্দ নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ছন্দ । এরা দুই প্রকারের সুর ব্যবহার করে থাকে।প্রথমটি হলো 'ছোট সুর' যা বাড়িতে বা কাছাকাছি ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং দ্বিতীয়টি হলো 'বড় সুর' এটি ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গভীর জঙ্গল বা এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে সংকেত পাঠাতে এটি ব্যবহৃত হয়। এই অনন্য প্রথার পিছনে রহস্য উদ্ঘাটন করতে গেলে স্থানীয়দের থেকে জানা যায় যে, পাহাড়ে নাম ধরে ডাকলে শব্দ অস্পষ্ট শোনা যায় কিন্তু শিসের তীক্ষ্ণ সুর বাতাসের বাধা কাটিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পরিষ্কার শোনা যায় । আবার স্থানীয়দের বিশ্বাস, জঙ্গলে ভূত বা অশুভ আত্মা থাকে। জঙ্গলের ভূতরা মানুষের নাম শুনলে ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু শিস দিলে তারা মনে করে ওটা কোনো পাখির ডাক। তাই ভূতকে ফাঁকি দিতেই তারা সুর দিয়ে একে অপরকে ডাকে। আবার শিকারের সহজলভ্যতার জন্যও শিসের ব্যবহার করা হয়,যাতে বন্যপ্রাণীরা সজাগ না হয়। কংথং গ্রামের বাসিন্দারা শিশুকাল থেকেই অনুকরণ করে এই সুরগুলো শেখে। তবে যখন গ্রামের কেউ মারা যান, তার সাথে তার সেই অনন্য সুরটিও চিরতরে হারিয়ে যায়। ওই সুরটি আর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। এটি প্রতিটি স্থানীয় মানুষের নিজস্ব অস্তিত্বের প্রতীক। মিষ্টি সুরে মেতে থাকা এই গ্রামকে অনেক সময় "পাখিদের কলোনি" মনে হয়, কারণ সারাদিন বাতাসে কেবল শিসের শব্দ ভাসে। বর্তমান এই উন্নত বিশ্বে এসেও, তারা বছরের পর বছর নিজেদের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখে জীবন যাপন করছে, এটাই হয়তো এই গ্রামকে বিশ্বের সবকিছু থেকে আলাদা ভাবে প্রকাশ করতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
লামিসা তাসনিম জুহা, বিশেষ প্রতিনিধি
অপরূপ প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে আছে অদ্ভুত এক রোমাঞ্চকর গ্রাম,যেখানে মানুষের প্রথাগত নামের ঊর্ধ্বে প্রাধান্য পাচ্ছে সুরের ধ্বনি। যখন বিশ্বজুড়ে নাম দিয়ে মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হয়, তখন ‘কংথং’ গ্রামের বাসিন্দারা একে অপরকে ডাকেন শিসের ধ্বনিতে।
ভারতের মেঘালয়ের সৌন্দর্যের মাঝে লুকিয়ে আছে অবিশ্বাস্য একটি গ্রাম ‘কংথং’, যা ‘হুইসেল ভিলেজ’ বা ‘শিস দেওয়ার গ্রাম’ নামে পরিচিত।এটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি হিলস জেলায় অবস্থিত। শিলং থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। ২০২১ সালে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (UNWTO) এই গ্রামটিকে ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’ ক্যাটাগরিতে মনোনীত করেছিল।
গ্রামটি এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখান থেকে গভীর খাদ ও সবুজ উপত্যকা দেখা যায়। এমন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে; এখানে যাতে কেউ উচ্চস্বরে চিৎকার না করে তাই ‘সুর” বা ‘শিস’ দেওয়ার প্রথা তৈরি হয়েছে। তাদের এই প্রথার নাম হলো ‘জিংরওয়াই ইওবেই’ এর মানে হলো “প্রথম পূর্বপুরুষ নারীর গান”। খাসি সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, তাই মা-ই সন্তানের এই ‘সুরের নাম’ এর স্রষ্টা, যা মাতৃত্বের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ।এটি কোনো শব্দ নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ছন্দ । এরা দুই প্রকারের সুর ব্যবহার করে থাকে।প্রথমটি হলো ‘ছোট সুর’ যা বাড়িতে বা কাছাকাছি ডাকার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘বড় সুর’ এটি ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গভীর জঙ্গল বা এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে সংকেত পাঠাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
এই অনন্য প্রথার পিছনে রহস্য উদ্ঘাটন করতে গেলে স্থানীয়দের থেকে জানা যায় যে, পাহাড়ে নাম ধরে ডাকলে শব্দ অস্পষ্ট শোনা যায় কিন্তু শিসের তীক্ষ্ণ সুর বাতাসের বাধা কাটিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পরিষ্কার শোনা যায় । আবার স্থানীয়দের বিশ্বাস, জঙ্গলে ভূত বা অশুভ আত্মা থাকে। জঙ্গলের ভূতরা মানুষের নাম শুনলে ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু শিস দিলে তারা মনে করে ওটা কোনো পাখির ডাক। তাই ভূতকে ফাঁকি দিতেই তারা সুর দিয়ে একে অপরকে ডাকে। আবার শিকারের সহজলভ্যতার জন্যও শিসের ব্যবহার করা হয়,যাতে বন্যপ্রাণীরা সজাগ না হয়।
কংথং গ্রামের বাসিন্দারা শিশুকাল থেকেই অনুকরণ করে এই সুরগুলো শেখে। তবে যখন গ্রামের কেউ মারা যান, তার সাথে তার সেই অনন্য সুরটিও চিরতরে হারিয়ে যায়। ওই সুরটি আর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। এটি প্রতিটি স্থানীয় মানুষের নিজস্ব অস্তিত্বের প্রতীক।
মিষ্টি সুরে মেতে থাকা এই গ্রামকে অনেক সময় “পাখিদের কলোনি” মনে হয়, কারণ সারাদিন বাতাসে কেবল শিসের শব্দ ভাসে। বর্তমান এই উন্নত বিশ্বে এসেও, তারা বছরের পর বছর নিজেদের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখে জীবন যাপন করছে, এটাই হয়তো এই গ্রামকে বিশ্বের সবকিছু থেকে আলাদা ভাবে প্রকাশ করতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।