, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দোয়া মাহফিল কুষ্টিয়ার মিরপুর অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের নির্দেশে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিরপুরে ছাত্র সমাবেশ, দোয়া ও ধানের শীষের পক্ষে ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রত্যয় সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আনিসুল হকের সমর্থনে তাহিরপুরের বাদাঘাট বাজারে মোটর শোভাযাত্রা ও জনসমাবেশ কুষ্টিয়ার মিরপুরে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে গণমিছিল ও সমাবেশ মিরপুরে উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনের মতবিনিময় কুষ্টিয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়কে শুয়ে অবরোধ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বাড়ি ভাং-চু-র ও আবাদি জমি দ-খ-ল সহ উ-চ্ছে-দে-র অ-ভি-যো-গ কুষ্টিয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মিরপুরে বি-ক্ষো-ভ মিছিল

“মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: অধিকার নয়, কেবল বঞ্চনার গল্প!”

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৪ পড়া হয়েছে
12

 

বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ;স্টাফ রিপোর্টার

মাগুরা জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ‘মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল’ আজ প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিনিয়ত রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি, ন্যূনতম চিকিৎসাসেবার অভাব, নষ্ট লিফট, অনিয়মিত বিদ্যুৎ—সব মিলিয়ে হাসপাতালটি যেন রুগ্ণ এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

 

 

একাধিকবার গণমাধ্যমে এসব সমস্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল নেই। অথচ রোগীদের অভিযোগ—যেসব ডাক্তার আছেন, তারাও দায়িত্বশীল নন। রোগীরা সেবা না পেয়ে হয়রান হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

 

আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) সকার ৯.৩০ ঘটিকায় একজন রোগীর স্বজন প্রতিদিনের খবর কে বলেন, “আমার মাকে চার তলা থেকে নিচে নামাতে হয়েছে সিঁড়ি বেয়ে, কারণ লিফট নষ্ট। বিদ্যুৎ চলে গেলে আইসিইউর রোগীদের কী হয়, সেটা কেউ দেখে না।”

 

অপরদিকে, হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা সরকারি ওষুধ রোগীরা হাতে পাচ্ছেন না। বেশিরভাগ ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—সরবরাহকৃত ওষুধ কোথায় যাচ্ছে?

 

চিকিৎসক সংকট, যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতা এবং অব্যবস্থাপনায় এই হাসপাতাল যেন আর চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং দুর্ভোগের আরেক নাম। উচ্চপদস্থদের চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে দেশের বাইরেও, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কী আছে?

 

মাগুরার এক প্রবীণ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালটা আমাদের দাবির জায়গা নয়, আমাদের অধিকার। আমরা চিকিৎসা চাই—দয়া নয়।”

 

জনগণের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সেটি এক ধরনের অবিচার। এখন সময় হয়েছে কথার খেলা বন্ধ করে বাস্তবিক পরিবর্তন আনার। প্রয়োজন:

 

স্থায়ীভাবে লিফট ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান
জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও নার্সের পর্যাপ্ত উপস্থিতি

সরকারি ওষুধের সুষ্ঠু বণ্টন
নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা

 

স্বাস্থ্যসেবা কোনও অনুগ্রহ নয়, এটি সংবিধানস্বীকৃত নাগরিক অধিকার। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে সেই অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দোয়া মাহফিল

“মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: অধিকার নয়, কেবল বঞ্চনার গল্প!”

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
12

 

বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ;স্টাফ রিপোর্টার

মাগুরা জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ‘মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল’ আজ প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিনিয়ত রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি, ন্যূনতম চিকিৎসাসেবার অভাব, নষ্ট লিফট, অনিয়মিত বিদ্যুৎ—সব মিলিয়ে হাসপাতালটি যেন রুগ্ণ এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

 

 

একাধিকবার গণমাধ্যমে এসব সমস্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল নেই। অথচ রোগীদের অভিযোগ—যেসব ডাক্তার আছেন, তারাও দায়িত্বশীল নন। রোগীরা সেবা না পেয়ে হয়রান হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

 

আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) সকার ৯.৩০ ঘটিকায় একজন রোগীর স্বজন প্রতিদিনের খবর কে বলেন, “আমার মাকে চার তলা থেকে নিচে নামাতে হয়েছে সিঁড়ি বেয়ে, কারণ লিফট নষ্ট। বিদ্যুৎ চলে গেলে আইসিইউর রোগীদের কী হয়, সেটা কেউ দেখে না।”

 

অপরদিকে, হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা সরকারি ওষুধ রোগীরা হাতে পাচ্ছেন না। বেশিরভাগ ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—সরবরাহকৃত ওষুধ কোথায় যাচ্ছে?

 

চিকিৎসক সংকট, যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতা এবং অব্যবস্থাপনায় এই হাসপাতাল যেন আর চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং দুর্ভোগের আরেক নাম। উচ্চপদস্থদের চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে দেশের বাইরেও, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কী আছে?

 

মাগুরার এক প্রবীণ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালটা আমাদের দাবির জায়গা নয়, আমাদের অধিকার। আমরা চিকিৎসা চাই—দয়া নয়।”

 

জনগণের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সেটি এক ধরনের অবিচার। এখন সময় হয়েছে কথার খেলা বন্ধ করে বাস্তবিক পরিবর্তন আনার। প্রয়োজন:

 

স্থায়ীভাবে লিফট ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান
জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও নার্সের পর্যাপ্ত উপস্থিতি

সরকারি ওষুধের সুষ্ঠু বণ্টন
নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা

 

স্বাস্থ্যসেবা কোনও অনুগ্রহ নয়, এটি সংবিধানস্বীকৃত নাগরিক অধিকার। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে সেই অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।