, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দাদার বাড়ি এসে নিখোঁজ, ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে মঈন খান-পার্থসহ পাঁচজন মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নৌকা ভ্রমণ জানারুল ইসলাম সভাপতি, কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক ১০ বছর পর আমলা সদরপুর মাইক্রো স্ট্যান্ডে নতুন কমিটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, জব্দ সাড়ে ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেট কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপন মিরপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী টেকসই উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-দৌলতপুর সড়কের আল্লারদর্গা অংশে ড্রেনসহ রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন স্মৃতি হারানোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানসিক ক্ষত: ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেশিয়া অবশেষে প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা

সরকারি সেবায় ঘুষের নিয়ম! হাওরপাড়ের মানুষ বলছে—‘এভাবেই বাঁচি’

  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৭ পড়া হয়েছে

 

আবু ইউসুফ নাঈম – সুনামগঞ্জ


 

হাওরের মাঝখানে অবস্থিত আছানপুর ও উমেদপুর – দুটি নিঃশব্দ কান্নার নাম। সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত এ গ্রামদ্বয়ের প্রায় তিন হাজার মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। পানি ও কষ্টে ঘেরা এই জনপদে জীবন যেন থমকে থাকে—চলমান থাকে শুধু বেঁচে থাকার লড়াই।

 

 

 

 

সরকারি সহায়তা যেন হতদরিদ্রদের কাছে আশার আলো হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাশার প্রতীক। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ – তিনি সরকারি সুবিধা পেতে ঘুষের নিয়ম চালু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, ভিউবিইউবি (VWBUB), বিজিডি কর্মসূচি এবং এমনকি শিশুদের জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক সেবা পেতেও গুণতে হয় বাড়তি টাকা।

 

 

 

 

 

ছফুরা বেগম (৪০), যিনি পাঁচ বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন, তিনি বলেন,
পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের জন্য মেম্বার সাহেব সাতজনের কাগজ করার কথা বলে এক বছর আগে ২৩৫০ টাকা নিয়েছেন। আজও কাগজ পাইনি। বিজিডি চাল দেওয়ার নামেও নিয়েছেন ৪০০০ টাকা। কিছু চাইলে হুমকি দেন।

মোঃ জাহেদ আলী (৬৫) জানান—
দুই বছর আগে বয়স্ক ভাতার জন্য ১৫০০ টাকা দিয়েছি, এমনকি তার বাড়িতে একদিন ৭০০ টাকায় কাজও করেছি। কিন্তু আজও কোনো ভাতা পাইনি।

আব্দুল আমিনের স্ত্রী বলেন,
যারা প্রকৃত দরিদ্র, তাদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে স্বচ্ছল পরিবারদের নাম তালিকায় তোলা হয়। প্রতিবাদ করলেই মেম্বার বলেন, তোমার নাম থাকবে না।

এছাড়াও ঝুমা বেগম, হেনা আক্তারসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অর্থ আদায়, প্রতারণা ও অবহেলার অভিযোগ করেছেন।

 

 

 

 

গ্রামের পল্লিচিকিৎসক ও সমাজসচেতন ব্যক্তি সদরুল আমিন বলেন,
দুর্নীতি এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। বহু মানুষ অভিযোগ করেছেন। শুধু ঘুষ নয়, কমিউনিটি ক্লিনিকের সরকারি পণ্য নিজ বাড়িতে নিয়ে যান ইউপি সদস্য, তার পছন্দের লোক দিয়ে ক্লিনিক কমিটি গঠন করেন—যা স্পষ্ট অপব্যবহার।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মেম্বার ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করলে উনি বলেন, আমি এসব কাজ করি নাহ, কারো সাহস নেই আমার ব্যপারে এসব বলার।

এবিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন,
ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে বেহেলী ইউনিয়নের একমাত্র ১নং ওয়ার্ডেই মেম্বার নিজে এসে জন্মনিবন্ধন করেন, বাকি সব ওয়ার্ডের মানুষ সরাসরি অফিসে যান।

বেহেলী ইউপির সচিব সুজন বলেন,
ঘুষ সংক্রান্ত কিছু গুঞ্জন শুনেছি, তবে লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। ইউপি সদস্যদের সরকারি সেবায় ঘুষ নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

এলাকাবাসীর দাবি,
বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তারা ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

দাদার বাড়ি এসে নিখোঁজ, ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ

সরকারি সেবায় ঘুষের নিয়ম! হাওরপাড়ের মানুষ বলছে—‘এভাবেই বাঁচি’

প্রকাশের সময় : ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

 

আবু ইউসুফ নাঈম – সুনামগঞ্জ


 

হাওরের মাঝখানে অবস্থিত আছানপুর ও উমেদপুর – দুটি নিঃশব্দ কান্নার নাম। সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত এ গ্রামদ্বয়ের প্রায় তিন হাজার মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। পানি ও কষ্টে ঘেরা এই জনপদে জীবন যেন থমকে থাকে—চলমান থাকে শুধু বেঁচে থাকার লড়াই।

 

 

 

 

সরকারি সহায়তা যেন হতদরিদ্রদের কাছে আশার আলো হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাশার প্রতীক। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ – তিনি সরকারি সুবিধা পেতে ঘুষের নিয়ম চালু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, ভিউবিইউবি (VWBUB), বিজিডি কর্মসূচি এবং এমনকি শিশুদের জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক সেবা পেতেও গুণতে হয় বাড়তি টাকা।

 

 

 

 

 

ছফুরা বেগম (৪০), যিনি পাঁচ বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন, তিনি বলেন,
পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের জন্য মেম্বার সাহেব সাতজনের কাগজ করার কথা বলে এক বছর আগে ২৩৫০ টাকা নিয়েছেন। আজও কাগজ পাইনি। বিজিডি চাল দেওয়ার নামেও নিয়েছেন ৪০০০ টাকা। কিছু চাইলে হুমকি দেন।

মোঃ জাহেদ আলী (৬৫) জানান—
দুই বছর আগে বয়স্ক ভাতার জন্য ১৫০০ টাকা দিয়েছি, এমনকি তার বাড়িতে একদিন ৭০০ টাকায় কাজও করেছি। কিন্তু আজও কোনো ভাতা পাইনি।

আব্দুল আমিনের স্ত্রী বলেন,
যারা প্রকৃত দরিদ্র, তাদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে স্বচ্ছল পরিবারদের নাম তালিকায় তোলা হয়। প্রতিবাদ করলেই মেম্বার বলেন, তোমার নাম থাকবে না।

এছাড়াও ঝুমা বেগম, হেনা আক্তারসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অর্থ আদায়, প্রতারণা ও অবহেলার অভিযোগ করেছেন।

 

 

 

 

গ্রামের পল্লিচিকিৎসক ও সমাজসচেতন ব্যক্তি সদরুল আমিন বলেন,
দুর্নীতি এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। বহু মানুষ অভিযোগ করেছেন। শুধু ঘুষ নয়, কমিউনিটি ক্লিনিকের সরকারি পণ্য নিজ বাড়িতে নিয়ে যান ইউপি সদস্য, তার পছন্দের লোক দিয়ে ক্লিনিক কমিটি গঠন করেন—যা স্পষ্ট অপব্যবহার।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মেম্বার ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করলে উনি বলেন, আমি এসব কাজ করি নাহ, কারো সাহস নেই আমার ব্যপারে এসব বলার।

এবিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন,
ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে বেহেলী ইউনিয়নের একমাত্র ১নং ওয়ার্ডেই মেম্বার নিজে এসে জন্মনিবন্ধন করেন, বাকি সব ওয়ার্ডের মানুষ সরাসরি অফিসে যান।

বেহেলী ইউপির সচিব সুজন বলেন,
ঘুষ সংক্রান্ত কিছু গুঞ্জন শুনেছি, তবে লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। ইউপি সদস্যদের সরকারি সেবায় ঘুষ নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

এলাকাবাসীর দাবি,
বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তারা ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।