, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মিরপুরের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা, কুষ্টিয়ার তিনটি আসন পুনরুদ্ধার আমার চ্যালেঞ্জ এমপি ফরিদা ইয়াসমিন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মারফত আফ্রিদীর পক্ষ থেকে কামিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কুষ্টিয়ার মিরপুরে সেলাই প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উদ্বোধন করলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী দাদার বাড়ি এসে নিখোঁজ, ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে মঈন খান-পার্থসহ পাঁচজন মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নৌকা ভ্রমণ জানারুল ইসলাম সভাপতি, কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক ১০ বছর পর আমলা সদরপুর মাইক্রো স্ট্যান্ডে নতুন কমিটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, জব্দ সাড়ে ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেট কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপন মিরপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী টেকসই উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম

প্রেশার কুকারের ভিতরে লুকিয়ে ‘সিসার বোমা’? অজান্তেই খাবারে ঢুকে পড়ছে বিষ!

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ৫২ পড়া হয়েছে

 

বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টার

রান্নাঘরে আমাদের দৈনন্দিন সঙ্গী প্রেশার কুকার। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার ঘরের এই নির্ভরযোগ্য সহকারী নীরবে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে থাকা অনেক অ্যালুমিনিয়ামের প্রেশার কুকার থেকে খাবারে মিশে যেতে পারে ক্ষতিকর ধাতু সিসা (lead), যা শরীরের জন্য চূড়ান্তভাবে ক্ষতিকর।

 

 

খাঁটি অ্যালুমিনিয়ামে সিসা থাকে না—এই তথ্য যেমন সত্য, তেমনি এটাও ঠিক যে, বাজারে পাওয়া অনেক কুকার তৈরি হয় পুনর্ব্যবহৃত স্ক্র্যাপ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। এই ধাতুতে মিশে থাকতে পারে সিসা বা অন্যান্য ভারী ধাতু, যা তাপের সংস্পর্শে খাবারে মিশে যেতে পারে। সমস্যাটি আরও ঘনীভূত হয় যখন কুকারটি পুরনো, আঁচড় পড়া, কিংবা ভিতরের আবরণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন টকজাতীয় খাবার (যেমন টমেটো, তেঁতুল বা লেবুর রস) কুকারে রান্না করা হয়—এসিডিক পরিবেশে ক্ষতিকারক ধাতু আরও দ্রুত খাবারে মিশে যায়।

 

সিসা শরীরে জমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্ক, কিডনি, হাড়, এমনকি অনাগত শিশুর উপরেও। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে শেখার সমস্যা, আচরণগত ব্যাধি ও মনঃসংযোগের ঘাটতি। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা দেয় স্মৃতিভ্রংশ, কিডনির জটিলতা ও হাড়ের দুর্বলতা।

 

এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা। কুকার কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিন সেটি BIS বা ISI সনদপ্রাপ্ত কি না, এবং অজানা কোম্পানি বা অত্যন্ত সস্তা দামে বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে দূরে থাকুন। পুরনো বা আঁচড় লাগা কুকার ব্যবহার না করাই ভালো।

 

রান্না শুধু স্বাদের ব্যাপার নয়, এটি স্বাস্থ্য আর নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আজই একবার দেখে নিন আপনার রান্নাঘরের প্রেশার কুকার কতটা নিরাপদ। কারণ খাবারের ভিতরে সিসার মতো নীরব বিষ ঢুকে পড়লে তার মাশুল গুনতে হতে পারে সারাজীবন।

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন। রান্নার পাত্রেও লুকিয়ে থাকতে পারে বিপদের ছায়া।

জনপ্রিয়

মিরপুরের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা, কুষ্টিয়ার তিনটি আসন পুনরুদ্ধার আমার চ্যালেঞ্জ এমপি ফরিদা ইয়াসমিন

প্রেশার কুকারের ভিতরে লুকিয়ে ‘সিসার বোমা’? অজান্তেই খাবারে ঢুকে পড়ছে বিষ!

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

 

বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টার

রান্নাঘরে আমাদের দৈনন্দিন সঙ্গী প্রেশার কুকার। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার ঘরের এই নির্ভরযোগ্য সহকারী নীরবে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে থাকা অনেক অ্যালুমিনিয়ামের প্রেশার কুকার থেকে খাবারে মিশে যেতে পারে ক্ষতিকর ধাতু সিসা (lead), যা শরীরের জন্য চূড়ান্তভাবে ক্ষতিকর।

 

 

খাঁটি অ্যালুমিনিয়ামে সিসা থাকে না—এই তথ্য যেমন সত্য, তেমনি এটাও ঠিক যে, বাজারে পাওয়া অনেক কুকার তৈরি হয় পুনর্ব্যবহৃত স্ক্র্যাপ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। এই ধাতুতে মিশে থাকতে পারে সিসা বা অন্যান্য ভারী ধাতু, যা তাপের সংস্পর্শে খাবারে মিশে যেতে পারে। সমস্যাটি আরও ঘনীভূত হয় যখন কুকারটি পুরনো, আঁচড় পড়া, কিংবা ভিতরের আবরণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন টকজাতীয় খাবার (যেমন টমেটো, তেঁতুল বা লেবুর রস) কুকারে রান্না করা হয়—এসিডিক পরিবেশে ক্ষতিকারক ধাতু আরও দ্রুত খাবারে মিশে যায়।

 

সিসা শরীরে জমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্ক, কিডনি, হাড়, এমনকি অনাগত শিশুর উপরেও। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে শেখার সমস্যা, আচরণগত ব্যাধি ও মনঃসংযোগের ঘাটতি। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা দেয় স্মৃতিভ্রংশ, কিডনির জটিলতা ও হাড়ের দুর্বলতা।

 

এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা। কুকার কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিন সেটি BIS বা ISI সনদপ্রাপ্ত কি না, এবং অজানা কোম্পানি বা অত্যন্ত সস্তা দামে বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে দূরে থাকুন। পুরনো বা আঁচড় লাগা কুকার ব্যবহার না করাই ভালো।

 

রান্না শুধু স্বাদের ব্যাপার নয়, এটি স্বাস্থ্য আর নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আজই একবার দেখে নিন আপনার রান্নাঘরের প্রেশার কুকার কতটা নিরাপদ। কারণ খাবারের ভিতরে সিসার মতো নীরব বিষ ঢুকে পড়লে তার মাশুল গুনতে হতে পারে সারাজীবন।

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন। রান্নার পাত্রেও লুকিয়ে থাকতে পারে বিপদের ছায়া।