, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নৌকা ভ্রমণ জানারুল ইসলাম সভাপতি, কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক ১০ বছর পর আমলা সদরপুর মাইক্রো স্ট্যান্ডে নতুন কমিটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, জব্দ সাড়ে ২৫ লাখ শলাকা নকল সিগারেট কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপন মিরপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী টেকসই উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-দৌলতপুর সড়কের আল্লারদর্গা অংশে ড্রেনসহ রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন স্মৃতি হারানোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানসিক ক্ষত: ডিসোসিয়েটিভ অ্যামনেশিয়া অবশেষে প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা আমলায় ট্রায়াথলন খেলার ভেনু পরিদর্শন, স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস টেকসই উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম

একটা বই, একশো স্বপ্ন: নীলক্ষেতের গল্প

  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৮ পড়া হয়েছে

 

সানজিদা আক্তার সিজা

 

নীলক্ষেত মূলত একটি বইয়ের বাজার, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসে—কেউ নির্দিষ্ট বইয়ের খোঁজে, কেউ শুধু তাকগুলো ঘুরে দেখতে। এই যাওয়া–আসার ভেতর দিয়েই নীলক্ষেত তার নিজস্ব চরিত্র গড়ে তুলেছে।এখানে বই নতুন না হলেও প্রয়োজন নতুন। পুরোনো সংস্করণের পাঠ্যবই, পরীক্ষার গাইড, রেফারেন্স, উপন্যাস—সবই সাজানো থাকে পাশাপাশি। দাম কম, কিন্তু গুরুত্ব কম নয়। অনেকের জন্য এই কম দামই বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার একমাত্র সুযোগ।নীলক্ষেতের বিক্রেতারা এই জায়গার স্বভাবটা ভালোই চেনে। তারা জানে বছরের কোন সময়ে কোন বইয়ের খোঁজ বেশি থাকে, কোন পরীক্ষার আগে কোন তাকের সামনে মানুষ থামে। তবু পুরো বাজারটা শুধু কেনাবেচার হিসাবেই আটকে নেই। দরদাম হয়, কিন্তু তার মধ্যেও একটা স্বস্তির গতি আছে।এখানে মানুষ একটু সময় নিয়ে বই দেখে, তারপর বই কিনে।এই বাজারে বইয়ের পাতায় দাগ থাকে, ভাঁজ থাকে, কখনো নাম লেখা থাকে। এগুলো ত্রুটি নয়, বরং সাক্ষ্য। সাক্ষ্য যে বইটি একসময় কারও প্রয়োজন ছিল, কারও প্রস্তুতির অংশ ছিল, কারও চিন্তার সঙ্গী ছিল। নতুন পাঠকের হাতে গিয়ে বইটি আবার নতুন অর্থ পায়।নীলক্ষেত শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক পাঠের জায়গা নয়। সাহিত্যের বই, ইতিহাস, দর্শন, গবেষণার উপকরণ—সবই এখানে সহজলভ্য। ফলে এটি একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নির্ভরতার জায়গা, অন্যদিকে পাঠাভ্যাস ধরে রাখার এক নীরব অবলম্বন।নীলক্ষেতে বই দেখার ধরনটাও আলাদা। কেউ মোবাইলে সার্চ করে আসে, কেউ তালিকা মিলিয়ে হাঁটে। তবে তাকের সামনে দাঁড়িয়ে বইয়ের পাতা উল্টানোই এখানে সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য। বইয়ের ওজন, কাগজের রং, ছাপার বছর—এই ছোটখাটো বিষয়গুলোই অনেক সময় সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। বেশির ভাগ সময় খুঁজতে খুঁজতেই বইটা চোখে পড়ে।দিন শেষে দোকানগুলো বন্ধ হয়, বইগুলো ঢেকে রাখা হয়। কিন্তু নীলক্ষেতের ভূমিকা সেখানে শেষ হয় না। এখান থেকে নেওয়া বইগুলো কারও পড়ার টেবিলে যায়, কারও ব্যাগে থাকে, কারও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হয়ে ওঠে।নীলক্ষেত তাই শুধু একটি বইয়ের বাজার নয়। এটি একটি প্রক্রিয়া—যেখানে সীমিত সামর্থ্যের ভেতর দিয়ে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা চলে, যেখানে প্রত্যেকটি বই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।একটা বই, একশো স্বপ্ন—এই বাক্যটি আবেগের মনে হলেও বাস্তবতা হলো, নীলক্ষেত আজও বহু স্বপ্নের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।

জনপ্রিয়

মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নৌকা ভ্রমণ

একটা বই, একশো স্বপ্ন: নীলক্ষেতের গল্প

প্রকাশের সময় : ১২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

 

সানজিদা আক্তার সিজা

 

নীলক্ষেত মূলত একটি বইয়ের বাজার, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসে—কেউ নির্দিষ্ট বইয়ের খোঁজে, কেউ শুধু তাকগুলো ঘুরে দেখতে। এই যাওয়া–আসার ভেতর দিয়েই নীলক্ষেত তার নিজস্ব চরিত্র গড়ে তুলেছে।এখানে বই নতুন না হলেও প্রয়োজন নতুন। পুরোনো সংস্করণের পাঠ্যবই, পরীক্ষার গাইড, রেফারেন্স, উপন্যাস—সবই সাজানো থাকে পাশাপাশি। দাম কম, কিন্তু গুরুত্ব কম নয়। অনেকের জন্য এই কম দামই বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার একমাত্র সুযোগ।নীলক্ষেতের বিক্রেতারা এই জায়গার স্বভাবটা ভালোই চেনে। তারা জানে বছরের কোন সময়ে কোন বইয়ের খোঁজ বেশি থাকে, কোন পরীক্ষার আগে কোন তাকের সামনে মানুষ থামে। তবু পুরো বাজারটা শুধু কেনাবেচার হিসাবেই আটকে নেই। দরদাম হয়, কিন্তু তার মধ্যেও একটা স্বস্তির গতি আছে।এখানে মানুষ একটু সময় নিয়ে বই দেখে, তারপর বই কিনে।এই বাজারে বইয়ের পাতায় দাগ থাকে, ভাঁজ থাকে, কখনো নাম লেখা থাকে। এগুলো ত্রুটি নয়, বরং সাক্ষ্য। সাক্ষ্য যে বইটি একসময় কারও প্রয়োজন ছিল, কারও প্রস্তুতির অংশ ছিল, কারও চিন্তার সঙ্গী ছিল। নতুন পাঠকের হাতে গিয়ে বইটি আবার নতুন অর্থ পায়।নীলক্ষেত শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক পাঠের জায়গা নয়। সাহিত্যের বই, ইতিহাস, দর্শন, গবেষণার উপকরণ—সবই এখানে সহজলভ্য। ফলে এটি একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নির্ভরতার জায়গা, অন্যদিকে পাঠাভ্যাস ধরে রাখার এক নীরব অবলম্বন।নীলক্ষেতে বই দেখার ধরনটাও আলাদা। কেউ মোবাইলে সার্চ করে আসে, কেউ তালিকা মিলিয়ে হাঁটে। তবে তাকের সামনে দাঁড়িয়ে বইয়ের পাতা উল্টানোই এখানে সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য। বইয়ের ওজন, কাগজের রং, ছাপার বছর—এই ছোটখাটো বিষয়গুলোই অনেক সময় সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। বেশির ভাগ সময় খুঁজতে খুঁজতেই বইটা চোখে পড়ে।দিন শেষে দোকানগুলো বন্ধ হয়, বইগুলো ঢেকে রাখা হয়। কিন্তু নীলক্ষেতের ভূমিকা সেখানে শেষ হয় না। এখান থেকে নেওয়া বইগুলো কারও পড়ার টেবিলে যায়, কারও ব্যাগে থাকে, কারও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হয়ে ওঠে।নীলক্ষেত তাই শুধু একটি বইয়ের বাজার নয়। এটি একটি প্রক্রিয়া—যেখানে সীমিত সামর্থ্যের ভেতর দিয়ে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা চলে, যেখানে প্রত্যেকটি বই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।একটা বই, একশো স্বপ্ন—এই বাক্যটি আবেগের মনে হলেও বাস্তবতা হলো, নীলক্ষেত আজও বহু স্বপ্নের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।