চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে পূর্বপুরুষের গোরস্থানে দাফন হলো না নাসির উদ্দিনের মরদেহ
প্রকাশের সময় :
১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
৩৪
পড়া হয়েছে
চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে পূর্বপুরুষের গোরস্থানে দাফন হলো না নাসির উদ্দিনের মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া: পরিবারের দাবি, ৩৫-৪৫ হাজার টাকা চাওয়ার পরও মেলেনি অনুমতি; শেষ পর্যন্ত ইউপি সদস্যের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন, এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর এলাকায় চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তির মরদেহ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আজমপুর পুরাতনপাড়া গোরস্থানের চাঁদা বকেয়া থাকার কথা বলে প্রথমে তাদের কাছে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ওই গোরস্থানে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মো. নাসির উদ্দিন মারা যান। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিন মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা দ্রুত গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথেই স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারেন, যে গোরস্থানে তাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে নাসির উদ্দিনকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রথমে গোরস্থান কর্তৃপক্ষ জানায়, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। এজন্য এককালীন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরে তারা হাতে থাকা টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা দুই থেকে তিন কিস্তিতে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাতেও রাজি হননি গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার। মৃতের বড় মেয়ে মোছা. নাসিমা খাতুন বলেন, “আমরা তিন বোন ঢাকায় থাকি। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। পথে জানতে পারি, যেখানে আমাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে বাবাকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম, প্রয়োজনে কিস্তিতেও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে জানানো হয়, কোনো টাকা দিলেও বাবাকে সেখানে দাফন করা হবে না। একজন মৃত মানুষকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়া খুবই কষ্টের। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নাসির উদ্দিনের বাবা মরহুম আহমদ আলী ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছিল। তাই পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, নাসির উদ্দিনকেও একই গোরস্থানে দাফনের সুযোগ দেওয়া হবে। মৃতের বাড়ির সামনে থাকা মুদি দোকানি মো. সেলিম বলেন, “নাসিরের বাবা ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন। তার কবরও সেখানে রয়েছে। নাসির মারা যাওয়ার পর তার বড় মেয়ে সভাপতি আবুল মাস্টারের সঙ্গে কথা বলেন। তারা যত টাকা লাগে দিতে রাজি ছিলেন। তারপরও দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে আশা মেম্বার তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারি আশরাফুল হক আশা বলেন, “নাসির উদ্দিনের বাবা নিয়মিত চাঁদা দিতেন। তার মৃত্যুর পর নাসির আর চাঁদা দেননি। তবে মৃত্যুর পর তার পরিবার এককালীন টাকা দিতেও রাজি হয়েছিল। শুনেছি তখন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বলা হয়, টাকা লাগবে না, তবুও তাকে দাফন করা হবে না। মানবিক দায়িত্ব থেকেই আমি আমার পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করি। তিনি আরও বলেন, “কবর অর্ধেক খনন হওয়ার পর এলাকার কয়েকজন জামায়াতের নেতাকর্মী এসে বলেন, এতে তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং মরদেহ অন্য গোরস্থানে নেওয়া হোক। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাতে রাজি হননি। যেখানে কবর খোঁড়া হয়েছে, সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবরস্থান। এটি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায়, স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর ইন্ধনেই গোরস্থান কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। কেউ কেউ দাবি করেন, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সুসম্পর্ক থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে নাসির উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন না বলেও জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতিয়ার হাজী। তিনি বলেন, নাসির উদ্দিন আমার চাচাতো ভাই। তাকে ওই গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার কথা শুনে আমি বরং সেখানে দাফনের চেষ্টা করেছি। আমি গোরস্থান কমিটির কেউ নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমি বহুবার গোরস্থান কর্তৃপক্ষের এমন নীতির সমালোচনা করেছি। অন্যদিকে গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, আমাদের গোরস্থানে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে। কেবল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। তাই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগও সঠিক নয়। ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, মৃত্যু-পরবর্তী দাফনের মতো মানবিক বিষয় নিয়ে এমন পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টদের সংলাপ ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
পরিবারের দাবি, ৩৫-৪৫ হাজার টাকা চাওয়ার পরও মেলেনি অনুমতি; শেষ পর্যন্ত ইউপি সদস্যের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন, এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর এলাকায় চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তির মরদেহ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, আজমপুর পুরাতনপাড়া গোরস্থানের চাঁদা বকেয়া থাকার কথা বলে প্রথমে তাদের কাছে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ওই গোরস্থানে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মো. নাসির উদ্দিন মারা যান। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিন মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা দ্রুত গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথেই স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারেন, যে গোরস্থানে তাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে নাসির উদ্দিনকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রথমে গোরস্থান কর্তৃপক্ষ জানায়, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। এজন্য এককালীন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরে তারা হাতে থাকা টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা দুই থেকে তিন কিস্তিতে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাতেও রাজি হননি গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার।
মৃতের বড় মেয়ে মোছা. নাসিমা খাতুন বলেন, “আমরা তিন বোন ঢাকায় থাকি। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। পথে জানতে পারি, যেখানে আমাদের দাদা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, সেখানে বাবাকে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম, প্রয়োজনে কিস্তিতেও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে জানানো হয়, কোনো টাকা দিলেও বাবাকে সেখানে দাফন করা হবে না। একজন মৃত মানুষকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়া খুবই কষ্টের।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নাসির উদ্দিনের বাবা মরহুম আহমদ আলী ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছিল। তাই পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, নাসির উদ্দিনকেও একই গোরস্থানে দাফনের সুযোগ দেওয়া হবে।
মৃতের বাড়ির সামনে থাকা মুদি দোকানি মো. সেলিম বলেন, “নাসিরের বাবা ওই গোরস্থানের সদস্য ছিলেন। তার কবরও সেখানে রয়েছে। নাসির মারা যাওয়ার পর তার বড় মেয়ে সভাপতি আবুল মাস্টারের সঙ্গে কথা বলেন। তারা যত টাকা লাগে দিতে রাজি ছিলেন। তারপরও দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে আশা মেম্বার তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
সদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারি আশরাফুল হক আশা বলেন, “নাসির উদ্দিনের বাবা নিয়মিত চাঁদা দিতেন। তার মৃত্যুর পর নাসির আর চাঁদা দেননি। তবে মৃত্যুর পর তার পরিবার এককালীন টাকা দিতেও রাজি হয়েছিল। শুনেছি তখন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বলা হয়, টাকা লাগবে না, তবুও তাকে দাফন করা হবে না। মানবিক দায়িত্ব থেকেই আমি আমার পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করি।
তিনি আরও বলেন, “কবর অর্ধেক খনন হওয়ার পর এলাকার কয়েকজন জামায়াতের নেতাকর্মী এসে বলেন, এতে তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং মরদেহ অন্য গোরস্থানে নেওয়া হোক। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাতে রাজি হননি। যেখানে কবর খোঁড়া হয়েছে, সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা কবরস্থান। এটি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায়, স্থানীয় জামায়াত নেতা আতিয়ার হাজীর ইন্ধনেই গোরস্থান কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। কেউ কেউ দাবি করেন, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সুসম্পর্ক থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে নাসির উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন না বলেও জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতিয়ার হাজী। তিনি বলেন, নাসির উদ্দিন আমার চাচাতো ভাই। তাকে ওই গোরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার কথা শুনে আমি বরং সেখানে দাফনের চেষ্টা করেছি। আমি গোরস্থান কমিটির কেউ নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমি বহুবার গোরস্থান কর্তৃপক্ষের এমন নীতির সমালোচনা করেছি।
অন্যদিকে গোরস্থান কমিটির সভাপতি আবুল মাস্টার বলেন, আমাদের গোরস্থানে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে। কেবল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে দাফন করা হয়। নাসির উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। তাই তাকে দাফনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগও সঠিক নয়।
ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, মৃত্যু-পরবর্তী দাফনের মতো মানবিক বিষয় নিয়ে এমন পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টদের সংলাপ ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।