, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিটি স্পন্দনে বাংলাদেশ দৈনিক খবরওয়ালার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুষ্টিয়া সদরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলার আসামিকে ছাড়াতে তদবির, জামাত-বিএনপি’র ৮ নেতা-কর্মী আটক কুষ্টিয়ায় জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ কুষ্টিয়ায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গুজব, অপপ্রচারের প্রতিবাদে মিট দ্য প্রেস কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৭ হাজার ৫০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১ মিরপুরে গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ লংমার্চ অযথা জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হতে চলেছে ভারত

  • প্রকাশের সময় : ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • ১০৪ পড়া হয়েছে

ছবি-আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

 

২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মুসলিম জনসংখ্যা। সম্প্রতি প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ভারত হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ, যা অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। ২০১০ সালে যেখানে মুসলিমদের বিশ্ব জনসংখ্যায় অনুপাত ছিল ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে মুসলিম সমাজে উচ্চ জন্মহারকে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

পিউ-এর তথ্য বলছে, ধর্মান্তর হলেও সেটির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। মুসলিম জনসংখ্যার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ২.৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) ছাড়িয়ে যাবে। সে সময় ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে ভারত হয়ে উঠবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ।

ভারতে ধর্মীয় ডেমোগ্রাফিতেও সামান্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ২০১০ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ ছিল হিন্দু, যা ২০২০ সালে কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯ শতাংশে। অপরদিকে মুসলিম জনসংখ্যা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। এক দশকে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩.৫৬ কোটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনেও মূল কারণ উচ্চ জন্মহার।  মুসলিম পরিবারে সন্তানের সংখ্যা অন্যান্য প্রধান ধর্মের অনুসারীদের তুলনায় বেশি, পাশাপাশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর গড় বয়সও অপেক্ষাকৃত কম।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে একজন মুসলিম নারীর গড় সন্তানসংখ্যা ছিল ২.৯, যেখানে অমুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২.২। এছাড়া ২০২০ সালে মুসলিমদের বিশ্বব্যাপী গড় বয়স ছিল ২৪ বছর, যা অমুসলিমদের গড় বয়সের তুলনায় নয় বছর কম (অমুসলিমদের গড় বয়স ৩৩ বছর। এই বয়সগত পার্থক্যও ভবিষ্যতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

পিউ-এর প্রতিবেদনে অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যার রিপোর্টও সামনে আনা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এই ১০ বছরে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ২.১৮ বিলিয়ন থেকে ২.৩ মিলিয়ন হয়েছে। অর্থাৎ ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে মানুষের জনসংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বেশি মানুষের বাস চীনে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনে জন্মহার নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির জেরে বৌদ্ধদের সংখ্যা কমেছে। শুধু তাই নয়, মুসলিমদের পর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নাস্তিকদের। ২৭ কোটি বেড়ে নাস্তিকদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৯ মিলিয়ন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ নাস্তিক।

প্রতিটি স্পন্দনে বাংলাদেশ দৈনিক খবরওয়ালার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হতে চলেছে ভারত

প্রকাশের সময় : ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

ছবি-আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

 

২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মুসলিম জনসংখ্যা। সম্প্রতি প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ভারত হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ, যা অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। ২০১০ সালে যেখানে মুসলিমদের বিশ্ব জনসংখ্যায় অনুপাত ছিল ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে মুসলিম সমাজে উচ্চ জন্মহারকে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

পিউ-এর তথ্য বলছে, ধর্মান্তর হলেও সেটির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। মুসলিম জনসংখ্যার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ২.৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) ছাড়িয়ে যাবে। সে সময় ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে ভারত হয়ে উঠবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ।

ভারতে ধর্মীয় ডেমোগ্রাফিতেও সামান্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ২০১০ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ ছিল হিন্দু, যা ২০২০ সালে কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯ শতাংশে। অপরদিকে মুসলিম জনসংখ্যা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। এক দশকে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩.৫৬ কোটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনেও মূল কারণ উচ্চ জন্মহার।  মুসলিম পরিবারে সন্তানের সংখ্যা অন্যান্য প্রধান ধর্মের অনুসারীদের তুলনায় বেশি, পাশাপাশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর গড় বয়সও অপেক্ষাকৃত কম।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে একজন মুসলিম নারীর গড় সন্তানসংখ্যা ছিল ২.৯, যেখানে অমুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২.২। এছাড়া ২০২০ সালে মুসলিমদের বিশ্বব্যাপী গড় বয়স ছিল ২৪ বছর, যা অমুসলিমদের গড় বয়সের তুলনায় নয় বছর কম (অমুসলিমদের গড় বয়স ৩৩ বছর। এই বয়সগত পার্থক্যও ভবিষ্যতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

পিউ-এর প্রতিবেদনে অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যার রিপোর্টও সামনে আনা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এই ১০ বছরে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ২.১৮ বিলিয়ন থেকে ২.৩ মিলিয়ন হয়েছে। অর্থাৎ ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে মানুষের জনসংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বেশি মানুষের বাস চীনে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনে জন্মহার নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির জেরে বৌদ্ধদের সংখ্যা কমেছে। শুধু তাই নয়, মুসলিমদের পর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নাস্তিকদের। ২৭ কোটি বেড়ে নাস্তিকদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৯ মিলিয়ন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ নাস্তিক।