, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পূজায় মদ খেয়ে মাতলামি করলে ছাড় নেই: ফেনীর এসপি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত মতিঝিলের ‘বাংলার বাণী’ ভবন এখন প্রতিমন্ত্রী নুরের নিয়ন্ত্রণে কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা খাবার বিক্রি, সুপারমার্কেট বন্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য ১৪ লাখ টন ক্রুড অয়েল কিনবে প্রতিটি স্পন্দনে বাংলাদেশ দৈনিক খবরওয়ালার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুষ্টিয়া সদরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলার আসামিকে ছাড়াতে তদবির, জামাত-বিএনপি’র ৮ নেতা-কর্মী আটক কুষ্টিয়ায় জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ কুষ্টিয়ায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

দোয়েল চত্বর: লোকজ স্পর্শে রঙিন হয়ে ওঠা ঢাকার হৃদস্পন্দন

  ছবি সংগৃহীত

 

সানজিদা আক্তার সিজা


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা দোয়েল চত্বর অনেকের চোখে হয়তো শুধু একটি মোড়।
কিন্তু যাঁরা হাঁটেন, দাঁড়ান, কিংবা বসে থাকেন এই চত্বরে—তাঁদের কাছে এটা এক জীবন্ত জীবনচিত্র।

 

 

চত্বরের মাঝে রাজসিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা দোয়েল পাখির ভাস্কর্যটা যেন পথিকদের জানিয়ে দেয়—তুমি এখন ঢুকলে এক অন্যরকম জগতে।
আর এই ভাস্কর্য ঘিরে, ফুটপাত জুড়ে যে জগৎ গড়ে উঠেছে, তা যেন ঢাকার কংক্রিট শহরে এক টুকরো দেশজ সৌন্দর্য।

 

 

দোয়েল চত্বরের দু’ধারে সারি সারি দোকান।
এখানে পাওয়া যায় মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, থালা, গ্লাস, পিরিচ, এমনকি ছোট ছোট সাদা-কাদামাটির বাটি—সবই হাতে গড়া, গ্রামবাংলার গন্ধ মাখানো।

পাশেই একেকটা দোকানে ঝুলছে মাটির বা কাঠের টব ভর্তি নানা জাতের গাছ—মানিপ্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট, ক্যাকটাস, তুলসী কিংবা পুঁইয়ের লতা। যেন শহরের ধুলাবালির মাঝে এক টুকরো সবুজ বাসা।
ছাত্রছাত্রীদের কেউ কেউ প্রতিদিনই একটু দাঁড়িয়ে দেখে যায়—নেবে কি একটা গাছ, হোস্টেলে জানালার ধারে রাখবে?

 

 

আরেক পাশে চোখ গেলে দেখা যাবে হস্তশিল্পে তৈরি নেকলেস, কানের দুল, হাতের চুড়ি, কাঠের চাবির রিং, ঝিনুকের টিকলি কিংবা পুঁতির মালা।
সবই হাতে বানানো, সবটাই স্বকীয়।
যেন প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে কোনো এক শিল্পীর দীর্ঘ সময় আর মনযোগ লেগে আছে।

 

কেউ কিনছে, কেউ শুধু দেখে যাচ্ছে, কেউ দরদাম করে আবার হেসে চলে যাচ্ছে—এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই মিলিয়ে গড়ে উঠেছে দোয়েল চত্বরের প্রাণ।

এখানে পলিথিনের ব্যাগে গাছ যায় এক হাতে, অন্য হাতে নিলো একটা মাটির প্লেট আর একটা কাঠের মালা।
এসব ছোট ছোট কেনাকাটার ভেতরেই জমে আছে বড়ো বড়ো শহুরে ক্লান্তি মুছে ফেলার আনন্দ।

দোয়েল চত্বর আসলে একটা জায়গা না—এটা একটা ছায়া, একটা গন্ধ, একটা স্পর্শ।
মাটির হাঁড়ির ছোঁয়ায়, সবুজ গাছের পাতায়, আর এক টুকরো কাঠের দুলে—ঢাকার ক্লান্ত দুপুরে একটু প্রাণ ফিরে আসে।

পূজায় মদ খেয়ে মাতলামি করলে ছাড় নেই: ফেনীর এসপি

দোয়েল চত্বর: লোকজ স্পর্শে রঙিন হয়ে ওঠা ঢাকার হৃদস্পন্দন

প্রকাশের সময় : ০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

  ছবি সংগৃহীত

 

সানজিদা আক্তার সিজা


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা দোয়েল চত্বর অনেকের চোখে হয়তো শুধু একটি মোড়।
কিন্তু যাঁরা হাঁটেন, দাঁড়ান, কিংবা বসে থাকেন এই চত্বরে—তাঁদের কাছে এটা এক জীবন্ত জীবনচিত্র।

 

 

চত্বরের মাঝে রাজসিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা দোয়েল পাখির ভাস্কর্যটা যেন পথিকদের জানিয়ে দেয়—তুমি এখন ঢুকলে এক অন্যরকম জগতে।
আর এই ভাস্কর্য ঘিরে, ফুটপাত জুড়ে যে জগৎ গড়ে উঠেছে, তা যেন ঢাকার কংক্রিট শহরে এক টুকরো দেশজ সৌন্দর্য।

 

 

দোয়েল চত্বরের দু’ধারে সারি সারি দোকান।
এখানে পাওয়া যায় মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, থালা, গ্লাস, পিরিচ, এমনকি ছোট ছোট সাদা-কাদামাটির বাটি—সবই হাতে গড়া, গ্রামবাংলার গন্ধ মাখানো।

পাশেই একেকটা দোকানে ঝুলছে মাটির বা কাঠের টব ভর্তি নানা জাতের গাছ—মানিপ্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট, ক্যাকটাস, তুলসী কিংবা পুঁইয়ের লতা। যেন শহরের ধুলাবালির মাঝে এক টুকরো সবুজ বাসা।
ছাত্রছাত্রীদের কেউ কেউ প্রতিদিনই একটু দাঁড়িয়ে দেখে যায়—নেবে কি একটা গাছ, হোস্টেলে জানালার ধারে রাখবে?

 

 

আরেক পাশে চোখ গেলে দেখা যাবে হস্তশিল্পে তৈরি নেকলেস, কানের দুল, হাতের চুড়ি, কাঠের চাবির রিং, ঝিনুকের টিকলি কিংবা পুঁতির মালা।
সবই হাতে বানানো, সবটাই স্বকীয়।
যেন প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে কোনো এক শিল্পীর দীর্ঘ সময় আর মনযোগ লেগে আছে।

 

কেউ কিনছে, কেউ শুধু দেখে যাচ্ছে, কেউ দরদাম করে আবার হেসে চলে যাচ্ছে—এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই মিলিয়ে গড়ে উঠেছে দোয়েল চত্বরের প্রাণ।

এখানে পলিথিনের ব্যাগে গাছ যায় এক হাতে, অন্য হাতে নিলো একটা মাটির প্লেট আর একটা কাঠের মালা।
এসব ছোট ছোট কেনাকাটার ভেতরেই জমে আছে বড়ো বড়ো শহুরে ক্লান্তি মুছে ফেলার আনন্দ।

দোয়েল চত্বর আসলে একটা জায়গা না—এটা একটা ছায়া, একটা গন্ধ, একটা স্পর্শ।
মাটির হাঁড়ির ছোঁয়ায়, সবুজ গাছের পাতায়, আর এক টুকরো কাঠের দুলে—ঢাকার ক্লান্ত দুপুরে একটু প্রাণ ফিরে আসে।