, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গুজব, অপপ্রচারের প্রতিবাদে মিট দ্য প্রেস কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৭ হাজার ৫০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১ মিরপুরে গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ লংমার্চ অযথা জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের মিরপুর সার্কেল ও থানা বার্ষিক পরিদর্শন কুষ্টিয়ায় ১২ টন খোলা চিনি জব্দ, আটক ৪ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বরেও কঠিন গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো মিরপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরুর মতবিনিময়

সেরা বিদ্যালয়ে নেই শ্রেণীকক্ষ, পাঠদান চলছে অস্থায়ী টিনশেডে

  • প্রকাশের সময় : ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬৬ পড়া হয়েছে

 

মোস্তাফিজুর রহমান (কয়রা প্রতিনিধি)


 

সুন্দরবন উপকূলবর্তী উপজেলা কয়রার এস ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুরু থেকেই নানা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টি থেকে প্রায় প্রতিবছর পাঁচ থেকে সাতজন করে প্রাথমিক বৃত্তি অর্জন করে আসছে। উপজেলার সেরা বিদ্যালয় নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বেশ কয়েকবার। জাতীয় পর্যায়েও কৃতিত্বের স্মারক রেখেছেন। তবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের শ্রেণীকক্ষ নেই বললেই চলে। প্রায় পাঁচশ’ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র দুইটি শ্রেণি কক্ষ। বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ক্লাস করতে হয় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তৈরি অস্থায়ী টিনশেডের ভিতর।

 

 

 

 

সুন্দরবন উপকূলবর্তী খুলনার কয়রা উপজেলার ১৪ নং এস ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি নাম, একটি গৌরবের ইতিহাস। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় থেকে একশত ২৯ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ কোটায় বৃত্তি লাভ করেন। ২০২২ সালের পরে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধাবীদের বৃত্তি লাভের সুযোগ বন্ধ হয়। সর্বশেষ ওই বছর ছয়জন ট্যালেন্টপুল ও একজন সাধারণ কোটায় বৃত্তি অর্জন করে। ২০১৮ সালে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় ফাতেমা নামের এক ছাত্রী জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালসহ বেশ কয়েকবার কয়রা উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কয়েকবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়। চলতি বছরে উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক লাভ করেন বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪৯২ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য ১০ জন শিক্ষক রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এত গৌরব অর্জনের পরেও বিদ্যালয়ে নেই পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ।

 

 

 

 

পাঠদানের কক্ষের চরম সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নানা সমস্যা। শিক্ষার্থীর অনুপাতে রয়েছে শিক্ষক সংকট। বিদ্যালয়ের ছোট দুটি ভবনের একটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। অন্য ভবনের তিনটি কক্ষ ব্যবহারযোগ্য থাকলেও একটিতে রয়েছে অফিস। বাকি দুটি কক্ষে পাঠদান করানো হলেও সেখানে নেই কোন বেঞ্চ। প্রায় পাঁচশ’ শিক্ষার্থীর জন্য ব্যবহারযোগ্য কক্ষ মাত্র দুটি।

 

 

 

 

স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী টিনশেড। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ থেকে একটি টিনসেডের ঘর দেয়া হয়েছে। সেখানে কোনরকমে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এর আগে খোলা আকাশের নিচেও ক্লাস নেওয়া হয়। নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, নেই ফ্যান। সামান্য বৃষ্টিতেই ভিজতে হয় শিক্ষার্থীদের। আবার গরমের সময় অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিবেশের মধ্যেই চলছে উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ।

 

বিদ্যালয়টির ভবন সংকট নিরসনের কথা জানিয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও মিলছে না কার্যকর সমাধান। দ্রুত একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

 

প্রধান শিক্ষক
মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি বহু বছর ধরে, সুনামের সহিত পরিচালিত হচ্ছে। এখানে প্রতি বছর সাত বা আট জন, শিক্ষার্থী বা তার অধিক বৃত্তি পাচ্ছে। ২০২২ সালে নয়টা বৃত্তি পেয়েছে, সাত টা ট্যালেন্ট, দুই টা সাধারণ। একই সাথে বিদ্যালয়ের ৪৯২ জন ছাত্র ছাত্রী ক্লাস করতে, ১২ থেকে ১৪ টা রুমের প্রয়োজন। কিন্তু আছে মাত্র ২ টা। বাদ বাকি সব টিনশেড। বাচ্চাদের মনোরম পরিবেশ পাঠদান করতে হলে। এখানে ৪ থেকে ৫ তলা একটি ভবন প্রয়োজন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার
তপন কুমার কর্মকার বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায়, ও শিক্ষা অফিসের সহযোগিততায়। ওই বিদ্যালয়ের রিমালের একটা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। নির্বাহী অফিসার মহোদয় এডিপির খাত থেকে, একটি বরাদ্দ দিয়েছেন। ওখানে অস্থায়ী টিনের ঘর তৈরি করে, শ্রেণী কার্যক্রম চলছে । বিদ্যালয়ের পরিবেশ টা, খুবই ভালো শিক্ষকগুলো সবাই আন্তরিক, বিদ্যালয় একটি ভবন খুবই প্রয়োজন, দুই বছর আগে একটি ভবনের অনুমোদন হলেও অদৃশ্য কারণে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। পাঠদান কক্ষ সংকট নিরসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গুজব, অপপ্রচারের প্রতিবাদে মিট দ্য প্রেস

সেরা বিদ্যালয়ে নেই শ্রেণীকক্ষ, পাঠদান চলছে অস্থায়ী টিনশেডে

প্রকাশের সময় : ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

 

মোস্তাফিজুর রহমান (কয়রা প্রতিনিধি)


 

সুন্দরবন উপকূলবর্তী উপজেলা কয়রার এস ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুরু থেকেই নানা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টি থেকে প্রায় প্রতিবছর পাঁচ থেকে সাতজন করে প্রাথমিক বৃত্তি অর্জন করে আসছে। উপজেলার সেরা বিদ্যালয় নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বেশ কয়েকবার। জাতীয় পর্যায়েও কৃতিত্বের স্মারক রেখেছেন। তবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের শ্রেণীকক্ষ নেই বললেই চলে। প্রায় পাঁচশ’ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র দুইটি শ্রেণি কক্ষ। বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ক্লাস করতে হয় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তৈরি অস্থায়ী টিনশেডের ভিতর।

 

 

 

 

সুন্দরবন উপকূলবর্তী খুলনার কয়রা উপজেলার ১৪ নং এস ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি নাম, একটি গৌরবের ইতিহাস। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় থেকে একশত ২৯ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ কোটায় বৃত্তি লাভ করেন। ২০২২ সালের পরে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধাবীদের বৃত্তি লাভের সুযোগ বন্ধ হয়। সর্বশেষ ওই বছর ছয়জন ট্যালেন্টপুল ও একজন সাধারণ কোটায় বৃত্তি অর্জন করে। ২০১৮ সালে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় ফাতেমা নামের এক ছাত্রী জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালসহ বেশ কয়েকবার কয়রা উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কয়েকবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়। চলতি বছরে উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক লাভ করেন বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪৯২ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য ১০ জন শিক্ষক রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এত গৌরব অর্জনের পরেও বিদ্যালয়ে নেই পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ।

 

 

 

 

পাঠদানের কক্ষের চরম সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নানা সমস্যা। শিক্ষার্থীর অনুপাতে রয়েছে শিক্ষক সংকট। বিদ্যালয়ের ছোট দুটি ভবনের একটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। অন্য ভবনের তিনটি কক্ষ ব্যবহারযোগ্য থাকলেও একটিতে রয়েছে অফিস। বাকি দুটি কক্ষে পাঠদান করানো হলেও সেখানে নেই কোন বেঞ্চ। প্রায় পাঁচশ’ শিক্ষার্থীর জন্য ব্যবহারযোগ্য কক্ষ মাত্র দুটি।

 

 

 

 

স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী টিনশেড। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ থেকে একটি টিনসেডের ঘর দেয়া হয়েছে। সেখানে কোনরকমে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এর আগে খোলা আকাশের নিচেও ক্লাস নেওয়া হয়। নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, নেই ফ্যান। সামান্য বৃষ্টিতেই ভিজতে হয় শিক্ষার্থীদের। আবার গরমের সময় অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিবেশের মধ্যেই চলছে উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ।

 

বিদ্যালয়টির ভবন সংকট নিরসনের কথা জানিয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও মিলছে না কার্যকর সমাধান। দ্রুত একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

 

প্রধান শিক্ষক
মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি বহু বছর ধরে, সুনামের সহিত পরিচালিত হচ্ছে। এখানে প্রতি বছর সাত বা আট জন, শিক্ষার্থী বা তার অধিক বৃত্তি পাচ্ছে। ২০২২ সালে নয়টা বৃত্তি পেয়েছে, সাত টা ট্যালেন্ট, দুই টা সাধারণ। একই সাথে বিদ্যালয়ের ৪৯২ জন ছাত্র ছাত্রী ক্লাস করতে, ১২ থেকে ১৪ টা রুমের প্রয়োজন। কিন্তু আছে মাত্র ২ টা। বাদ বাকি সব টিনশেড। বাচ্চাদের মনোরম পরিবেশ পাঠদান করতে হলে। এখানে ৪ থেকে ৫ তলা একটি ভবন প্রয়োজন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার
তপন কুমার কর্মকার বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায়, ও শিক্ষা অফিসের সহযোগিততায়। ওই বিদ্যালয়ের রিমালের একটা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। নির্বাহী অফিসার মহোদয় এডিপির খাত থেকে, একটি বরাদ্দ দিয়েছেন। ওখানে অস্থায়ী টিনের ঘর তৈরি করে, শ্রেণী কার্যক্রম চলছে । বিদ্যালয়ের পরিবেশ টা, খুবই ভালো শিক্ষকগুলো সবাই আন্তরিক, বিদ্যালয় একটি ভবন খুবই প্রয়োজন, দুই বছর আগে একটি ভবনের অনুমোদন হলেও অদৃশ্য কারণে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। পাঠদান কক্ষ সংকট নিরসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।