, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিটি স্পন্দনে বাংলাদেশ দৈনিক খবরওয়ালার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুষ্টিয়া সদরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলার আসামিকে ছাড়াতে তদবির, জামাত-বিএনপি’র ৮ নেতা-কর্মী আটক কুষ্টিয়ায় জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ কুষ্টিয়ায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গুজব, অপপ্রচারের প্রতিবাদে মিট দ্য প্রেস কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৭ হাজার ৫০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১ মিরপুরে গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ লংমার্চ অযথা জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

অগ্রহায়ণের প্রথম সকাল: কুয়াশা, রোদ আর শীতের আগমনী সুর

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৮ পড়া হয়েছে

 

সানজিদা আক্তার সিজা


 

অগ্রহায়ণ এমন এক মাস, যেন প্রকৃতি ধীরে ধীরে তার আগের রূপের আঁচড় মুছে নতুন শীতকে স্বাগত জানাচ্ছে। সূর্য ওঠার আগেই বাতাসে মিশে থাকে এক ধরনের নরম শীতলতা—কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো নয়, কিন্তু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট যে শীত ঠিক দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

 

সকালে বাইরে বেরোলেই প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ে তা হলো কুয়াশা। রাস্তাগুলো যেন নরম সাদা চাদরে ঢাকা। দূর থেকে হাঁটতে আসা কারও আকৃতি পুরোপুরি বোঝা যায় না—শুধু চলমান এক ছায়া। দোকানের সামনে মগভর্তি ধোঁয়া ওঠা চায়ের গন্ধ আর কুয়াশার স্যাঁতসেঁতে হাওয়া মিলে এক ধরনের অদ্ভুত, শান্ত অনুভূতি তৈরি করে।

 

 

অগ্রহায়ণের রোদ নিয়েও আলাদা কথা আছে। এই মাসের রোদ যেন আলাদা করে নিজের আচরণ ঠিক করে ফেলে। সে গরম করতে আসে না—আসে সান্ত্বনা দিতে। উঠোনে পড়া সেই নরম রোদে মুরগিরা পাখা ঝাপটায়, বিড়ালগুলো গা এলিয়ে শুয়ে থাকে, আর মানুষও রোদে দাঁড়িয়ে অনায়াসে বলে—“আহা, আরাম।”

 

 

মাঠে ধান কাটা শেষ হতে না হতেই বাতাসে শুকনো খড়ের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। ক্ষেতের ওপর সূর্য ওঠার পর কুয়াশা ধীরে ধীরে সরতে শুরু করে—যেন দিনটা নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে। গ্রামের সকালের শব্দটাও বদলে যায়। দূরে কুয়াশার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে চলা সাইকেলের ঘণ্টার শব্দ, কোথাও নতুন উঠোন ঝাড়ু দেওয়ার শব্দ, আবার কোথাও মন্থর গতিতে হাঁটা মানুষদের গল্পের আওয়াজ।”

 

 

শহরেও এই ঋতুর ছোঁয়া স্পষ্ট। সকালে স্কুলের মাঠে দাঁড়ানো বাচ্চাদের ইউনিফর্মে লেগে থাকে কুয়াশার হালকা স্পর্শ। বাসের জানালা খানিকটা খুললেই ভেতরে প্রবেশ করে ঠান্ডা হাওয়া, যেন শীতের আগমন জানিয়ে দিচ্ছে। আবার বিকেলগুলোতে দোকানের সামনে নানা ধরনের পিঠার গন্ধ ভেসে আসে যা অগ্রহায়ণের উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

 

 

অগ্রহায়ণের সৌন্দর্য আসলে তার মৃদুতা। জোর করে কিছু বলে না, হঠাৎ কিছু বদলে দেয় না। শুধু ধীরে ধীরে, কোমলভাবে, জীবন আর প্রকৃতির মাঝে ঠান্ডার নরম রং ছড়িয়ে দেয়।

শীতের যে প্রথম নরম স্পর্শটা মানুষকে থমকে দাঁড়াতে শেখায়—সেই স্পর্শের নামই অগ্রহায়ণ।

প্রতিটি স্পন্দনে বাংলাদেশ দৈনিক খবরওয়ালার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

অগ্রহায়ণের প্রথম সকাল: কুয়াশা, রোদ আর শীতের আগমনী সুর

প্রকাশের সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

সানজিদা আক্তার সিজা


 

অগ্রহায়ণ এমন এক মাস, যেন প্রকৃতি ধীরে ধীরে তার আগের রূপের আঁচড় মুছে নতুন শীতকে স্বাগত জানাচ্ছে। সূর্য ওঠার আগেই বাতাসে মিশে থাকে এক ধরনের নরম শীতলতা—কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো নয়, কিন্তু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট যে শীত ঠিক দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

 

সকালে বাইরে বেরোলেই প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ে তা হলো কুয়াশা। রাস্তাগুলো যেন নরম সাদা চাদরে ঢাকা। দূর থেকে হাঁটতে আসা কারও আকৃতি পুরোপুরি বোঝা যায় না—শুধু চলমান এক ছায়া। দোকানের সামনে মগভর্তি ধোঁয়া ওঠা চায়ের গন্ধ আর কুয়াশার স্যাঁতসেঁতে হাওয়া মিলে এক ধরনের অদ্ভুত, শান্ত অনুভূতি তৈরি করে।

 

 

অগ্রহায়ণের রোদ নিয়েও আলাদা কথা আছে। এই মাসের রোদ যেন আলাদা করে নিজের আচরণ ঠিক করে ফেলে। সে গরম করতে আসে না—আসে সান্ত্বনা দিতে। উঠোনে পড়া সেই নরম রোদে মুরগিরা পাখা ঝাপটায়, বিড়ালগুলো গা এলিয়ে শুয়ে থাকে, আর মানুষও রোদে দাঁড়িয়ে অনায়াসে বলে—“আহা, আরাম।”

 

 

মাঠে ধান কাটা শেষ হতে না হতেই বাতাসে শুকনো খড়ের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। ক্ষেতের ওপর সূর্য ওঠার পর কুয়াশা ধীরে ধীরে সরতে শুরু করে—যেন দিনটা নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে। গ্রামের সকালের শব্দটাও বদলে যায়। দূরে কুয়াশার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে চলা সাইকেলের ঘণ্টার শব্দ, কোথাও নতুন উঠোন ঝাড়ু দেওয়ার শব্দ, আবার কোথাও মন্থর গতিতে হাঁটা মানুষদের গল্পের আওয়াজ।”

 

 

শহরেও এই ঋতুর ছোঁয়া স্পষ্ট। সকালে স্কুলের মাঠে দাঁড়ানো বাচ্চাদের ইউনিফর্মে লেগে থাকে কুয়াশার হালকা স্পর্শ। বাসের জানালা খানিকটা খুললেই ভেতরে প্রবেশ করে ঠান্ডা হাওয়া, যেন শীতের আগমন জানিয়ে দিচ্ছে। আবার বিকেলগুলোতে দোকানের সামনে নানা ধরনের পিঠার গন্ধ ভেসে আসে যা অগ্রহায়ণের উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

 

 

অগ্রহায়ণের সৌন্দর্য আসলে তার মৃদুতা। জোর করে কিছু বলে না, হঠাৎ কিছু বদলে দেয় না। শুধু ধীরে ধীরে, কোমলভাবে, জীবন আর প্রকৃতির মাঝে ঠান্ডার নরম রং ছড়িয়ে দেয়।

শীতের যে প্রথম নরম স্পর্শটা মানুষকে থমকে দাঁড়াতে শেখায়—সেই স্পর্শের নামই অগ্রহায়ণ।